ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষা, বিএনপির মাঠের সংগঠনে ভাটা

রাজনীতি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৭ ১০:৪৫:০৪
নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষা, বিএনপির মাঠের সংগঠনে ভাটা

রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যস্ততায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যখন সরকারের কাজ এগিয়ে নেওয়ার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে, তখন দলটির মাঠের সংগঠনে দেখা দিয়েছে ভিন্ন চিত্র। দেশের অধিকাংশ জেলা ও মহানগর ইউনিটের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে অনেক আগেই। একই অবস্থা উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়েও। অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর ক্ষেত্রেও নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে। ফলে ক্ষমতায় আসার পর দলীয় কর্মকাণ্ডে গতি ফেরানোর বদলে সাংগঠনিক কাঠামোর বড় একটি অংশ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

দলের নেতাকর্মীদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে নতুন কমিটি না হওয়ায় তৃণমূলের পদপ্রত্যাশীদের অপেক্ষা বাড়ছে। নিয়মিত কর্মসূচি না থাকায় মাঠের নেতাকর্মীদের অনেকেই সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় সরকার পরিচালনা ও দলীয় সংগঠন—দুই দিকের কার্যক্রমের মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

৮২ ইউনিটের মাত্র আটটির মেয়াদ রয়েছে

বিএনপির সাংগঠনিক চিত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যাটি স্পষ্ট হয়ে উঠছে জেলা ও মহানগর পর্যায়ে। সারাদেশে দলটির সাংগঠনিক ইউনিট ৮২টি। এর মধ্যে ৪৯টি আহ্বায়ক কমিটি এবং ৩১টি পূর্ণাঙ্গ কমিটি রয়েছে।

এই ৮২ ইউনিটের মধ্যে মাত্র আটটি জেলা ও মহানগর কমিটির মেয়াদ এখনো রয়েছে। বিপরীতে ৭২টি কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগে। শেরপুর জেলা কমিটি স্থগিত অবস্থায় রয়েছে। আর চট্টগ্রাম উত্তর জেলা কমিটি আগেই বিলুপ্ত করা হয়েছে।

দলটির নেতারা বলছেন, শুধু জেলা বা মহানগর নয়, নিচের স্তরগুলোর অবস্থাও একই রকম। দেশের বিভিন্ন জায়গায় তিন বছর, পাঁচ বছর এমনকি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে একই কমিটি দায়িত্ব পালন করছে।

এতে নতুন নেতৃত্ব তৈরির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, এসব কমিটি পুনর্গঠনের কাজ শুরু হলে পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হবে এবং সংগঠনের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরতে পারে।

গঠনতন্ত্রের বিধান কার্যকর হচ্ছে না

বিএনপির গঠনতন্ত্রে জেলা ও মহানগর কমিটির মেয়াদ দুই বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিন মাসের মধ্যে কাউন্সিল করে নতুন কমিটি গঠনের কথা রয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাউন্সিল করা সম্ভব না হলে যুক্তিসংগত কারণ দেখিয়ে আরও তিন মাস সময় নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এরপরও নতুন কমিটি না হলে আগের কমিটি বিলুপ্ত হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কথা।

পরবর্তী ধাপে কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠনের শর্তে কেন্দ্র থেকে তিন মাসের জন্য আহ্বায়ক কমিটি দেওয়ার বিধান রয়েছে। সেই আহ্বায়ক কমিটিও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে কমিটি গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

কিন্তু দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, গঠনতন্ত্রে থাকা এই সময়সীমা ও প্রক্রিয়া বাস্তবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে একই কমিটি বহাল থাকায় সাংগঠনিক স্থবিরতা আরও বাড়ছে। নতুন নেতৃত্ব সামনে আসার পথও এতে সংকুচিত হচ্ছে।

কর্মসূচির অভাবে মাঠে নেই আগের তৎপরতা

বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশ মনে করছেন, সংগঠনকে সচল রাখতে শুধু কমিটি পুনর্গঠন নয়, নিয়মিত রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মসূচিও প্রয়োজন। তাদের বক্তব্য, বিভিন্ন ইস্যুতে কর্মসূচি থাকলে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সক্রিয় থাকার সুযোগ তৈরি হতো।

প্রতিবার সংগঠনকে নতুন করে সক্রিয় করার কথা বলা হলেও কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান না হওয়ায় হতাশা তৈরি হচ্ছে বলে তারা দাবি করছেন।

এদিকে কয়েকজন নেতা অভিযোগ করেছেন, সরকার ও দলীয় কার্যক্রমের মধ্যে একটি ধরনের মিশ্রণ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বড় অংশ এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং সরকারি কাজ পাওয়ার জন্য লবিং-তদবিরে ব্যস্ত থাকছেন। ফলে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের বিষয়টি অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে যাচ্ছে।

তাদের মতে, এর প্রভাব পড়ছে পুরো সাংগঠনিক ব্যবস্থায়।

কেন্দ্রের ব্যাখ্যা কী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ সমকালকে বলেন, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড একটি দলের নিয়মিত রুটিনের অংশ। নির্বাচন এবং সরকার গঠনের কারণে সেই স্বাভাবিক কার্যক্রমে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, বিএনপিকে অনেক জঞ্জাল নিয়ে সরকারে আসতে হয়েছে। দেশকে সঠিক রোডম্যাপে এগিয়ে নিতে দলের নেতাদের অনেক পরিশ্রম করতে হচ্ছে। তবে সাংগঠনিক পুনর্গঠন থেমে নেই।

রুহুল কবির রিজভী আহমেদ জানান, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নতুন কমিটি শিগগিরই দেওয়া হবে এবং পুনর্গঠনের কাজ চলছে।

১১ সংগঠনের একটিরও কমিটি মেয়াদে নেই

বিএনপির সাংগঠনিক স্থবিরতা শুধু জেলা ও মহানগর পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়। দলের ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সবকটির বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে।

অঙ্গসংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, কৃষক দল, তাঁতী দল, মৎস্যজীবী দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, জাসাস ও ওলামা দল। সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল ও শ্রমিক দল।

এসব সংগঠনের কোনো কোনো গঠনতন্ত্রে দুই বছর আবার কোনো কোনো সংগঠনের ক্ষেত্রে তিন বছর পর নতুন নেতৃত্ব গঠনের বিধান রয়েছে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও অনেক সংগঠনে সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।

তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছেন, দ্রুত পুরোনো কমিটি পুনর্গঠন করে সম্মেলনের মাধ্যমে যোগ্য, সক্রিয় ও ত্যাগী নেতাদের সামনে আনা প্রয়োজন। তাদের মতে, ক্ষমতাসীন অবস্থায় নিয়মিত সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখা না গেলে নেতৃত্ব ও কর্মীদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে অপেক্ষা

অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। এর মধ্যে ছাত্রদলকে ঘিরে নতুন কমিটির প্রত্যাশা আরও জোরালো হয়েছে।

সম্প্রতি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেন। অনানুষ্ঠানিকভাবে তাদের বিদায়ও জানান তিনি। পরে ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়ে সংগঠন থেকে বিদায় নেন।

এ ঘটনার পর নতুন নেতৃত্ব আসার সম্ভাবনা নিয়ে সংগঠনের পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে আগ্রহ বেড়ে যায়। তবে নতুন কমিটি ঘোষণার প্রক্রিয়া এখনো থেমে আছে।

রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি এবং নাছির উদ্দিন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল ২০২৪ সালের মার্চে। কমিটির মেয়াদ ফেব্রুয়ারিতে শেষ হয়েছে। তাই নতুন কমিটি গঠনের দাবি বেশ আগে থেকেই রয়েছে।

ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মীর অভিযোগ, পুরোনো সিন্ডিকেটের প্রভাব নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের পথে বাধা তৈরি করছে। তাদের দাবি, পছন্দের প্রার্থীরা এগিয়ে না থাকলে কিংবা তালিকায় স্থান না পেলে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া কৌশলে আটকে দেওয়া হয়। অতীতেও এমনটি ঘটেছে বলে তারা অভিযোগ করছেন।

পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তারা আশা করেছিলেন, দলের চেয়ারম্যান ১৭ বছর পর দেশে ফেরার পর এ ধরনের তৎপরতা আর থাকবে না। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলেই তারা মনে করছেন।

তবে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ফারুক হোসেনের বক্তব্য ভিন্ন। তিনি বলেন, সংগঠনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে ছাত্রদলের অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। খুব শিগগির নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে—এমন প্রত্যাশা সংগঠনের প্রত্যেক নেতাকর্মীর।

যুবদলের কমিটিতেও নেতৃত্বের প্রশ্ন

বিএনপির পুরোনো শক্তিশালী অঙ্গসংগঠন যুবদলের বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থাও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের আগে ঘোষিত কমিটিতে আব্দুল মোনায়েম মুন্না সভাপতি এবং নুরুল ইসলাম নয়ন সাধারণ সম্পাদক হন। পরে চলতি বছরের ৪ জুন যুবদলের ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

বর্তমানে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন সংসদ সদস্য। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতে, যুবদলকে আবার সক্রিয় করতে নতুন কমিটি গঠন জরুরি।

তবে দায়িত্বশীল পর্যায়ের কেউ প্রকাশ্যে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাদের অনেকেই আগামী কমিটিতে পদপ্রত্যাশী। পদ পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কায় তারা প্রকাশ্যে বক্তব্য দিচ্ছেন না।

স্বেচ্ছাসেবক দলের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছর

স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হয় ২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর। এসএম জিলানীকে সভাপতি এবং রাজীব আহসানকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটিটি ঘোষণা করা হয়েছিল।

সংগঠনের গঠনতন্ত্রে কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ তিন বছর। সে হিসাবে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ওই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুজনই বর্তমানে সংসদ সদস্য।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াছিন আলী বলেন, মেয়াদ শেষ হলে কমিটি পুনর্গঠন করা নিয়মিত সাংগঠনিক প্রক্রিয়া। তার মতে, নতুন কমিটি হলে সংগঠনের সক্রিয়তা বজায় থাকে এবং নেতাকর্মীরাও কর্মতৎপর থাকেন।

কৃষক দল থেকে মহিলা দল—দীর্ঘ অপেক্ষা

কৃষক দলের বর্তমান কমিটি গঠিত হয়েছিল ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে। হাসান জাফির তুহিন সভাপতি এবং শহিদুল ইসলাম বাবুল সাধারণ সম্পাদক হন। তিন বছর মেয়াদি এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে দুই বছর আগে।

শহিদুল ইসলাম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। হাসান জাফির তুহিন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করছেন।

মহিলা দলের ক্ষেত্রে অপেক্ষার সময় আরও দীর্ঘ। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে আফরোজা আব্বাসকে সভাপতি এবং সুলতানা আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। গঠনতন্ত্রে প্রতি তিন বছর পর কাউন্সিলের বিধান থাকলেও একই কমিটি দিয়ে ১০ বছর ধরে সংগঠনটি চলছে।

মুক্তিযোদ্ধা ও শ্রমিক দলেও পুরোনো নেতৃত্ব

মুক্তিযোদ্ধা দলের সর্বশেষ কাউন্সিল হয়েছিল ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে। সেই কাউন্সিলে ইশতিয়াক আজিজ উলফাত সভাপতি এবং সাদেক খান সাধারণ সম্পাদক হন। এরপর এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন কমিটি হয়নি।

শ্রমিক দলের সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ২০১৪ সালের এপ্রিলে। সেখানে আনোয়ার হোসাইন ও নূরুল ইসলাম খান নাসিমের নেতৃত্বে কমিটি গঠিত হয়। ওই কমিটির মেয়াদ ২০১৬ সালে শেষ হলেও এরপর আর জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়নি।

মৎস্যজীবী দলের কমিটি বিলুপ্ত, নতুন কমিটি হয়নি

মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছিল ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে। রফিকুল ইসলাম মাহতাবকে আহ্বায়ক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা আব্দুর রহিমকে সদস্যসচিব করা হয়েছিল।

২০২৪ সালের আগস্টে রফিকুল ইসলাম মারা যান। পরে ওই বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর সংগঠনটির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। কিন্তু বিলুপ্তির পরও নতুন কমিটি গঠন করা হয়নি।

পুনর্গঠনের দিকে তাকিয়ে নেতাকর্মীরা

দীর্ঘদিনের কমিটি জট, নিয়মিত কর্মসূচির ঘাটতি এবং অঙ্গসংগঠনগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব রাষ্ট্র পরিচালনার কাজে ব্যস্ত থাকলেও মাঠের সংগঠন সচল রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন নেতাকর্মীরা।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের লড়াই-সংগ্রামের পর বিএনপি এখন রাষ্ট্রক্ষমতায়। বিগত ফ্যাসিবাদ সরকারের অনেক জঞ্জাল পরিষ্কার করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার কাজে দলের শীর্ষ নেতারা ব্যস্ত সময় পার করছেন। তার আশা, অচিরেই সাংগঠনিক কার্যক্রমও দ্রুত শুরু হবে।

এখন নতুন কমিটি গঠন এবং নিয়মিত সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড কতটা দ্রুত মাঠে ফিরতে পারে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ