ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩

নতুন পে স্কেলে বেতন বাড়লেও বাড়িভাড়া নিয়ে যত প্রশ্ন

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২১ ১৭:৪০:২১
নতুন পে স্কেলে বেতন বাড়লেও বাড়িভাড়া নিয়ে যত প্রশ্ন

সরকারি কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের পর সামনে এসেছে বেতন কাঠামোর একাধিক পরিবর্তন। নতুন ব্যবস্থায় মোট ২০টি গ্রেড রাখা হয়েছে, সর্বোচ্চ প্রথম গ্রেডের মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা। তবে নতুন কাঠামো একবারে পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না। এর পাশাপাশি গ্রেড পরিবর্তনের সঙ্গে বাড়িভাড়া ভাতার হারে পার্থক্য তৈরি হওয়ায় কর্মচারীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নতুন আলোচনা।

নতুন পে স্কেলের কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। কিন্তু এর আর্থিক সুবিধা ধাপে ধাপে দেওয়া হবে। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা নতুন মূল বেতনের বাড়তি অংশের ৫০ শতাংশ পাবেন। নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য এই হার ৪০ শতাংশ। পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে পুরো নতুন বেতন কার্যকর হবে।

শুরু থেকে সর্বোচ্চ গ্রেড পর্যন্ত নতুন বেতন

নতুন কাঠামোয় ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৬তম গ্রেডে এই বেতন ২১ হাজার ৯০০ টাকা এবং ১৫তম গ্রেডে ২২ হাজার ৮০০ টাকা।

অন্যদিকে বেতন কাঠামোর সর্বোচ্চ ধাপ প্রথম গ্রেড। সেখানে মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

তবে শুধু মূল বেতনের অঙ্ক দেখেই কর্মচারীদের প্রকৃত আর্থিক সুবিধা বোঝা যাবে না। কারণ বিভিন্ন গ্রেডে প্রযোজ্য চিকিৎসা, শিক্ষা, উৎসব, মোবাইলসহ অন্যান্য ভাতাও মোট সুবিধার অংশ।

গ্রেড বাড়লে বাড়িভাড়ার হিসাবে তৈরি হচ্ছে জটিলতা

নতুন কাঠামোর যে বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠছে, তার একটি হলো বাড়িভাড়া ভাতার হার। রাজধানী ও বড় শহরের বাইরে দেশের অন্যান্য এলাকায় ১৬ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মূল বেতনের ৪৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া পাবেন। কিন্তু ১০ থেকে ১৫তম গ্রেডের ক্ষেত্রে এই হার ৩৫ শতাংশ।

এই পার্থক্যটি স্পষ্ট হয় ১৬তম ও ১৫তম গ্রেডের হিসাব পাশাপাশি রাখলে।

১৬তম গ্রেডের শুরুতে মূল বেতন ২১ হাজার ৯০০ টাকা। এর ৪৫ শতাংশ হিসাবে বাড়িভাড়া ভাতা হয় ৯ হাজার ৮৫৫ টাকা। বিপরীতে ১৫তম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন ২২ হাজার ৮০০ টাকা হলেও ৩৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া দাঁড়ায় ৭ হাজার ৯৮০ টাকা।

অর্থাৎ ১৬তম থেকে ১৫তম গ্রেডে গেলে মূল বেতন বাড়ছে ৯০০ টাকা, কিন্তু এই উদাহরণে বাড়িভাড়া ভাতা কমছে ১ হাজার ৮৭৫ টাকা। এ কারণেই পদোন্নতির পর আর্থিক সুবিধার সামগ্রিক কাঠামো নিয়ে কর্মচারীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তবে এই দুই অঙ্ক দিয়ে দুই গ্রেডের মোট বেতন-ভাতার চূড়ান্ত তুলনা করা যাবে না। কারণ একজন কর্মচারীর প্রাপ্য অন্যান্য ভাতাও মোট আর্থিক সুবিধার হিসাবের মধ্যে পড়ে।

বৈশাখী ভাতায় পরিবর্তন আসছে পরে

নতুন পে স্কেলে বাংলা নববর্ষ ভাতার হারও বদলানো হয়েছে। আগে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে এই ভাতা দেওয়া হলেও নতুন নিয়মে হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ শতাংশ।

তবে এই পরিবর্তন সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হচ্ছে না। গেজেট অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আগের নিয়মেই ২০ শতাংশ হারে বৈশাখী ভাতা দেওয়া হবে। এরপর ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে ১৫ শতাংশের নতুন হার।

সন্তানদের শিক্ষা সহায়তায় মাসে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা

সন্তানদের পড়াশোনার জন্য নতুন কাঠামোয় ‘শিক্ষা সহায়ক ভাতা’ রাখা হয়েছে। নতুন নিয়মে প্রতি সন্তানের জন্য মাসে ৫০০ টাকা পাওয়া যাবে। সর্বোচ্চ দুই সন্তানের ক্ষেত্রে মাসে মোট এই ভাতার পরিমাণ হবে এক হাজার টাকা।

তবে বর্তমান সময়ে শিক্ষা ব্যয়ের তুলনায় এই অর্থ কতটা সহায়ক হবে, তা নিয়ে কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

উচ্চতর গ্রেডে অপেক্ষা কমল দুই বছর

নতুন পে স্কেলে কর্মচারীদের জন্য একটি পরিবর্তন অপেক্ষার সময় কমানোর সঙ্গে সম্পর্কিত। আগে পদোন্নতি না পেলে একটানা ১০ বছর অপেক্ষার পর শর্তসাপেক্ষে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার নিয়ম ছিল। এবার সেই সময়সীমা কমিয়ে আট বছর করা হয়েছে।

অর্থাৎ নির্ধারিত শর্ত পূরণ করা কোনো কর্মচারী পদোন্নতি না পেলেও আট বছর পর উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে এই উচ্চতর গ্রেডকে নিয়মিত পদোন্নতি হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।

অসঙ্গতি নিয়ে আজ বৈঠকে ১৩ সংগঠন

নতুন বেতন কাঠামো প্রকাশের পর এর বিভিন্ন দিক নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের ব্যানারে আজ সোমবার সারা দেশের অন্তত ১৩টি সংগঠনের নেতারা বৈঠকে বসছেন। নতুন পে স্কেলের বিভিন্ন অসঙ্গতি নিয়ে পরবর্তী করণীয় ঠিক করতেই এই বৈঠক ডাকা হয়েছে।

পরিষদের সদস্যসচিব মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘এত দিন পরে একটি নতুন পে স্কেল পেলাম। সেটাতেও বৈষম্য। এই বৈষম্য আগেও ছিল। নতুন বেতন কাঠামোতেও থেকে গেল। যা আমাদের জন্য মেনে নেওয়া কষ্টসাধ্য এবং অসম্মানের।’

নতুন পে স্কেলে মূল বেতন থেকে শুরু করে উচ্চতর গ্রেড, বাড়িভাড়া, বৈশাখী ভাতা ও শিক্ষা সহায়ক ভাতায় একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে পুরো কাঠামোর আর্থিক সুবিধা একসঙ্গে কার্যকর না হওয়ায় কর্মচারীদের হাতে নতুন বেতনের পূর্ণ প্রভাবও তাৎক্ষণিকভাবে যাচ্ছে না। একই সঙ্গে গ্রেডভেদে ভাতার হারের পার্থক্য নতুন করে তৈরি করেছে হিসাব-নিকাশ ও অসঙ্গতি নিয়ে আলোচনা।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ