ঢাকা, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

ভুলেও কিনবেন না এই ৫ ধরনের মাছ

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৮ ১১:৩৪:৪৪
ভুলেও কিনবেন না এই ৫ ধরনের মাছ

বাজারে মাছের আকার, দাম কিংবা সতেজ চেহারা দেখে অনেকেই কেনার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু মাছটি কোথায় এবং কীভাবে উৎপাদিত হয়েছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ চাষের অনিয়ন্ত্রিত পরিবেশ, রাসায়নিকের অপব্যবহার কিংবা প্রাকৃতিকভাবে জমে থাকা পারদের কারণে কিছু পরিচিত মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বড় মাগুর, পাঙ্গাশ, পাবদা, তেলাপিয়া, টুনা ও ম্যাকেরেল—এসব মাছ কেনার সময় তাই বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

বাঙালির খাদ্যাভ্যাসে মাছের গুরুত্ব দীর্ঘদিনের। তবে মাছ পুষ্টিকর হলেই সব পরিস্থিতিতে সেটি নিরাপদ হবে, এমন নয়। উৎপাদনের পদ্ধতি ও মাছের শরীরে ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের জায়গাগুলোও এক নয়—কোনো ক্ষেত্রে রয়েছে পারদ জমার আশঙ্কা, আবার কোথাও চাষের পরিবেশ ও রাসায়নিক ব্যবহারের প্রশ্ন।

সামুদ্রিক মাছের ক্ষেত্রে যে ঝুঁকিটি গুরুত্বপূর্ণ

টুনা ও ম্যাকেরেল মাছের কিছু প্রজাতিতে পারদ বা মার্কারি জমতে পারে। বিশেষ করে গভীর সমুদ্রের বড় শিকারি মাছের শরীরে এই ধাতুর পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। অতিরিক্ত পারদ শরীরের স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে।

এ কারণে সবার জন্য একইভাবে এসব মাছ খাওয়ার পরামর্শ প্রযোজ্য নয়। গর্ভবতী নারী, দুগ্ধদানকারী মা, শিশু এবং সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন—এমন ব্যক্তিদের টুনা ও ম্যাকেরেল খাওয়ার পরিমাণ নিয়ে বিশেষ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

চাষের পদ্ধতি থেকেই তৈরি হতে পারে বিপদ

কিছু মাছের ক্ষেত্রে প্রজাতির চেয়ে উৎপাদনের পরিবেশ বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। পাঙ্গাশ ও পাবদা চাষে অপরিচ্ছন্ন পানি, দ্রুত বৃদ্ধির জন্য অনিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক এবং মানহীন খাবার ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের পরিবেশে মাছের শরীরে বিষাক্ত উপাদান জমতে পারে। দূষিত পানিতে বেড়ে ওঠা মাছ খেলে কিডনি, লিভার ও পেটের বিভিন্ন জটিলতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বড় আকারের মাগুর মাছ নিয়েও একইভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত বড় করার উদ্দেশ্যে চাষের কিছু মাছে হরমোন ও ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এমন মাছ নিয়মিত খেলে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়াসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়।

এ কারণে বড় মাগুর কেনার সময় শুধু আকারকে প্রাধান্য না দিয়ে মাছের উৎপাদনস্থল ও চাষের পদ্ধতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

তেলাপিয়া মাছের পুষ্টিগত দিকেও নজর দিন

সহজে পাওয়া যায় বলে অনেকের খাবারের তালিকায় নিয়মিত থাকে তেলাপিয়া। তবে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা কিছু তেলাপিয়া মাছের চর্বির গঠন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। গবেষণায় এমন কিছু মাছের মধ্যে ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিডের মাত্রা বেশি থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে। পাশাপাশি ক্ষতিকর চর্বিও থাকতে পারে।

এ ধরনের চর্বি শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে পারে। এর সঙ্গে হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। তাই তেলাপিয়া কেনার ক্ষেত্রেও উৎপাদনের উৎস ও পদ্ধতি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

মাছের বাজারে নিরাপদ সিদ্ধান্ত নেবেন যেভাবে

এসব ঝুঁকির অর্থ মাছ খাওয়া ছেড়ে দিতে হবে, এমন নয়। বরং মাছ কেনা থেকে রান্না পর্যন্ত কয়েকটি বিষয়ে সচেতন থাকলে নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা সহজ হয়।

আকার নয়, উৎসকে গুরুত্ব দিন: বড় মাছ দেখেই আকৃষ্ট না হয়ে নিরাপদ প্রাকৃতিক উৎস অথবা স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে চাষ করা মাছ কিনুন।

সামুদ্রিক মাছের পরিমাণে সতর্ক থাকুন: বড় সামুদ্রিক মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নিরাপদ খাদ্যাভ্যাসসংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

পরিষ্কার ও রান্নার নিয়ম মানুন: মাছ ভালোভাবে পরিষ্কার করুন এবং সঠিক তাপমাত্রায় রান্না করে খান।

মাছের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু বাজারে কেনার সময় সতর্ক থাকাই যথেষ্ট নয়; মাছের উৎস সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং সঠিকভাবে রান্না করাও গুরুত্বপূর্ণ।

FAQ

১. মাছ কেনার সময় শুধু আকার দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক কি না?

না। মাছের উৎস ও চাষের পদ্ধতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়াও জরুরি।

২. টুনা ও ম্যাকেরেল মাছ নিয়ে সতর্কতার কারণ কী?

কিছু প্রজাতির মাছে পারদ জমতে পারে। অতিরিক্ত পারদ স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে।

৩. পাঙ্গাশ ও পাবদা মাছের ক্ষেত্রে কী বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ?

চাষের পানির পরিচ্ছন্নতা, মাছের খাবারের মান এবং রাসায়নিক ব্যবহারের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ।

৪. বড় মাগুর মাছ নিয়ে কেন সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে?

দ্রুত বৃদ্ধির জন্য কিছু চাষের মাছে হরমোন ও রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

৫. মাছ নিরাপদভাবে খাওয়ার জন্য কী করা উচিত?

নিরাপদ উৎসের মাছ কিনতে হবে, ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে এবং সঠিক তাপমাত্রায় রান্না করতে হবে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: