ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

ভূমি অফিসে না গিয়েই মোবাইলে জমির রেকর্ড দেখার উপায়

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২২ ১৮:৫০:৩৪
ভূমি অফিসে না গিয়েই মোবাইলে জমির রেকর্ড দেখার উপায়

বাবা, দাদা কিংবা পরিবারের অন্য কারও নামে কোথায় জমি রয়েছে, সেই তথ্য জানতে এখন সবসময় অফিসে ছুটতে হবে না। স্মার্টফোন থেকেই সরকারি ই-পর্চা ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে নির্দিষ্ট এলাকার জমির রেকর্ড খুঁজে দেখা যায়। খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর কিংবা মালিকের নাম ব্যবহার করে অনুসন্ধানের পাশাপাশি প্রয়োজন হলে খতিয়ানের কপির জন্য অনলাইন আবেদনও করা সম্ভব।

ভূমি সেবা ডিজিটাল হওয়ার আগে জমিজমার তথ্য সংগ্রহ করতে ভূমি অফিস বা রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে অপেক্ষা করতে হতো। বর্তমানে অনলাইনে প্রাথমিক তথ্য দেখার সুযোগ থাকায় সাধারণ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে ঘরে বসেই কাজটি করা যায়।

শুরুতেই যে তথ্যগুলো নির্বাচন করতে হবে

মোবাইল থেকে জমির রেকর্ড দেখতে প্রথমে Chrome ব্রাউজার চালু করতে হবে। সার্চ বক্সে ‘e-Porcha’ লিখে খোঁজার পর সরকারি ই-পর্চা ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে।

ওয়েবসাইটে ঢোকার পর সরাসরি জমির মালিকের নাম লিখে খোঁজার বদলে মেনু থেকে ‘খতিয়ান’ অপশনে যেতে হবে। এরপর জমিটি যে এলাকায় অবস্থিত, সেই অনুযায়ী বিভাগ, জেলা, খতিয়ানের ধরন, উপজেলা ও মৌজা নির্বাচন করতে হবে।

রেকর্ডের ধরন অনুযায়ী বিএস, সিএস, আরএস বা এসএ নির্বাচন করার সুযোগ থাকতে পারে। তাই কোন জমির তথ্য খোঁজা হচ্ছে, তার সঙ্গে মিল রেখে সংশ্লিষ্ট রেকর্ড ও এলাকার তথ্য বেছে নেওয়া জরুরি। ভুল এলাকা বা রেকর্ড নির্বাচন করা হলে প্রয়োজনীয় জমির তথ্য নাও পাওয়া যেতে পারে।

নাম, দাগ বা খতিয়ান—যেভাবে অনুসন্ধান করবেন

এলাকার প্রয়োজনীয় তথ্য নির্ধারণ হয়ে গেলে অনুসন্ধানের পরবর্তী ধাপে যাওয়া যাবে। এ পর্যায়ে খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর অথবা জমির মালিকের নাম ব্যবহার করে রেকর্ড খোঁজা যায়।

নির্দিষ্ট ঘরে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার পর ক্যাপচা পূরণ করতে হবে। সবশেষে ‘অনুসন্ধান করুন’ অপশনে ক্লিক করলে সংশ্লিষ্ট রেকর্ডের তথ্য সামনে আসতে পারে।

সেখানে জমির মালিকের নামের পাশাপাশি দাগ ও খতিয়ান সম্পর্কিত তথ্য দেখা যাবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জমির পরিমাণ সম্পর্কেও প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

বাবা-দাদার জমি খুঁজতে কেন এলাকার তথ্য গুরুত্বপূর্ণ

কোনো ব্যক্তির নাম লিখে দেশের বিভিন্ন জায়গায় তার নামে থাকা সব জমির সম্পূর্ণ তালিকা পাওয়া যাবে—অনলাইন অনুসন্ধান ব্যবস্থাকে এভাবে দেখা ঠিক নয়। কারণ জমির রেকর্ড নির্দিষ্ট বিভাগ, জেলা, উপজেলা, মৌজা, খতিয়ান এবং দাগের সঙ্গে সম্পর্কিত।

এ কারণে বাবা, দাদা বা পরিবারের কোনো সদস্যের নামে থাকা জমি খুঁজতে হলে জমিটি কোন এলাকায় রয়েছে, সে সম্পর্কে কিছু তথ্য আগে থেকে জানা থাকলে অনুসন্ধানের কাজ সহজ হয়।

খতিয়ানের কপি চাইলে অনলাইনেই আবেদন

শুধু তথ্য দেখে থেমে থাকতে হবে এমন নয়। অনুসন্ধানের পর খতিয়ানের কপি প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট তথ্যের পাশে থাকা ‘আবেদন করুন’ অপশন নির্বাচন করা যেতে পারে।

এরপর একটি আবেদন ফরম আসতে পারে। সেখানে আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্মতারিখ, ই-মেইল, ঠিকানা এবং মোবাইল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে।

ফরম পূরণের পর তথ্যগুলো ভালোভাবে মিলিয়ে দেখে পরবর্তী ধাপে যেতে হবে। নির্ধারিত কোনো ফি থাকলে সেটি অনলাইনে পরিশোধ করে আবেদন সম্পন্ন করা যাবে। পেমেন্ট করার সময় সেবায় প্রদর্শিত অনুমোদিত পেমেন্ট মাধ্যমই ব্যবহার করতে হবে।

অনলাইনের তথ্য দেখেই মালিকানা চূড়ান্ত নয়

জমির রেকর্ড অনলাইনে পাওয়া গেলেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে শুধু সেই তথ্যের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। অনলাইনে পাওয়া তথ্য প্রাথমিক যাচাইয়ের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।

জমি কেনাবেচা, উত্তরাধিকার বা মালিকানা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে খতিয়ান, দলিল, নামজারি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট নথি মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বিশেষ করে পুরোনো জমির ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। কারণ বিভিন্ন সময়ের খতিয়ানে তথ্যের পরিবর্তন থাকতে পারে। তাই কোনো জমির বর্তমান মালিকানা নিশ্চিত করার আগে প্রয়োজনীয় সব বৈধ নথি যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

স্মার্টফোনে ই-পর্চার মাধ্যমে অনুসন্ধানের সুবিধা মূলত জমির খতিয়ান ও দাগসংক্রান্ত প্রাথমিক তথ্য দ্রুত দেখার সুযোগ তৈরি করেছে। ফলে সাধারণ ভূমি-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করতে আগের মতো সব ক্ষেত্রে অফিসে গিয়ে সময় কাটানোর প্রয়োজন কিছুটা কমতে পারে।

FAQ

প্রশ্ন: মোবাইল থেকে বাবা বা দাদার নামে থাকা জমির তথ্য খোঁজা যায়?

উত্তর: হ্যাঁ। সরকারি ই-পর্চা ওয়েবসাইটে গিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ, জেলা, খতিয়ানের ধরন, উপজেলা ও মৌজা নির্বাচন করে খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর বা মালিকের নাম দিয়ে জমির তথ্য অনুসন্ধান করা যায়।

প্রশ্ন: শুধু একজনের নাম লিখলেই কি তার সব জমির তালিকা পাওয়া যাবে?

উত্তর: এমনটি নিশ্চিতভাবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। জমির রেকর্ড নির্দিষ্ট বিভাগ, জেলা, উপজেলা, মৌজা, খতিয়ান ও দাগের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই সংশ্লিষ্ট এলাকার তথ্য জানা থাকলে অনুসন্ধান সহজ হয়।

প্রশ্ন: অনলাইন থেকে খতিয়ানের কপি পাওয়ার জন্য আবেদন করা যায়?

উত্তর: হ্যাঁ। জমির তথ্য অনুসন্ধানের পর প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট তথ্যের পাশে থাকা ‘আবেদন করুন’ অপশন থেকে আবেদন করা যায়। আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্মতারিখ, ই-মেইল, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে।

প্রশ্ন: অনলাইনে পাওয়া তথ্যই কি জমির বর্তমান মালিকানা প্রমাণ করে?

উত্তর: অনলাইনের তথ্য প্রাথমিক যাচাইয়ের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে জমি কেনাবেচা, উত্তরাধিকার বা মালিকানা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের আগে খতিয়ান, দলিল, নামজারি ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বৈধ নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

প্রশ্ন: পুরোনো জমির রেকর্ড যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কী সতর্কতা দরকার?

উত্তর: বিভিন্ন সময়ের খতিয়ানে তথ্যের পরিবর্তন থাকতে পারে। তাই কোনো জমির বর্তমান মালিকানা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব বৈধ নথি মিলিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ