ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কত খরচ, কতদিন লাগে—জেনে নিন সব তথ্য
বাংলাদেশে ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে হলে প্রথমে শিক্ষানবিশ বা লার্নার লাইসেন্স নিতে হয়। এরপর নির্ধারিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে স্মার্ট কার্ডের জন্য আবেদন করতে হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় কত টাকা খরচ হবে, কী কী কাগজপত্র লাগবে এবং লাইসেন্স হাতে পেতে কতদিন সময় লাগতে পারে—এসব বিষয় আগে থেকে জানা থাকলে আবেদনকারীদের প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হয়।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) প্রকাশিত ফি অনুযায়ী, এক ক্যাটাগরির লার্নার লাইসেন্স করতে ৫১৮ টাকা এবং দুই ক্যাটাগরির জন্য ৭৪৮ টাকা লাগে। এরপর স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য অপেশাদার আবেদনকারীকে ৪ হাজার ৪৯৭ টাকা এবং পেশাদার আবেদনকারীকে ২ হাজার ৭৭২ টাকা ফি দিতে হয়। ডাকযোগে কার্ড পেতে অতিরিক্ত ৬০ টাকা লাগতে পারে।
ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে মোট কত টাকা লাগে?
ড্রাইভিং লাইসেন্সের খরচ নির্ভর করে আবেদনকারী কোন ধরনের লাইসেন্স নিতে চান তার ওপর। ব্যক্তিগত প্রয়োজনে গাড়ি চালানোর জন্য সাধারণত অপেশাদার লাইসেন্স নেওয়া হয়। অন্যদিকে পেশাগতভাবে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয় পেশাদার লাইসেন্স।
বিআরটিএর প্রকাশিত ফি অনুযায়ী, এক ক্যাটাগরির লার্নার লাইসেন্সের জন্য ৫১৮ টাকা এবং দুই ক্যাটাগরির জন্য ৭৪৮ টাকা দিতে হয়। স্মার্ট কার্ডের জন্য অপেশাদার লাইসেন্সে ৪ হাজার ৪৯৭ টাকা এবং পেশাদার লাইসেন্সে ২ হাজার ৭৭২ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। এর সঙ্গে ডাকযোগে বিতরণের জন্য ৬০ টাকা যুক্ত হতে পারে। অনলাইন পেমেন্টের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে।
ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কতদিন সময় লাগে?
লাইসেন্স পাওয়ার পুরো প্রক্রিয়া কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথমে লার্নার লাইসেন্সের আবেদন করতে হয়। এরপর বিআরটিএ নির্ধারিত তারিখে লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর স্মার্ট কার্ডের জন্য নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হয়।
বিআরটিএর কিছু সেবা-তথ্যে স্মার্ট কার্ড ইস্যুর জন্য ৩০ কার্যদিবসের সময়সীমা উল্লেখ রয়েছে। তবে লার্নার লাইসেন্সের আবেদন থেকে পরীক্ষা, ফলাফল এবং স্মার্ট কার্ড হাতে পাওয়া পর্যন্ত মোট সময় নির্ভর করে পরীক্ষার তারিখ, আবেদন যাচাই ও কার্ড প্রস্তুতের ওপর।
ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কী কী কাগজ লাগে?
ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন করার সময় নির্ধারিত কিছু কাগজপত্র জমা দিতে হয়। সাধারণত প্রয়োজন হয়—
জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) স্ক্যান কপি।
নিবন্ধিত চিকিৎসকের দেওয়া মেডিকেল সার্টিফিকেট।
শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ।
আবেদনকারীর ছবি ও প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য।
বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ, প্রয়োজন হলে ইউটিলিটি বিল।
নির্ধারিত ফি জমার তথ্য।
আবেদনের ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে। পেশাদার লাইসেন্সের ক্ষেত্রে পুলিশি তদন্তের বিষয়টিও প্রযোজ্য হতে পারে।
ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম
ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করতে হয় বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে নিবন্ধনের মাধ্যমে। আবেদনকারীর এনআইডির বিপরীতে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়।
অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে লার্নার লাইসেন্সের আবেদন ফরম পূরণ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করতে হবে। এরপর নির্ধারিত ফি অনলাইনে পরিশোধ করতে হয়। আবেদন সম্পন্ন হলে লার্নার লাইসেন্স দেওয়া হয় এবং পরীক্ষার তারিখ জানানো হয়।
নির্ধারিত দিনে লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। এসব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা যায়। এরপর প্রয়োজনীয় যাচাই ও বায়োমেট্রিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হয়।
অপেশাদার ও পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ
অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ ১০ বছর। অন্যদিকে পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ পাঁচ বছর। মেয়াদ শেষ হলে নিয়ম অনুযায়ী নবায়ন করতে হয়।
ব্যক্তিগত প্রয়োজনে মোটরযান চালাতে চাইলে অপেশাদার লাইসেন্স এবং পেশাগতভাবে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে পেশাদার লাইসেন্স প্রয়োজন। তাই আবেদন করার আগে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী লাইসেন্সের ধরন নির্বাচন করা জরুরি।
ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন, ফি পরিশোধ ও প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে বিআরটিএর সার্ভিস পোর্টাল ব্যবহার করা যায়। আবেদন জমা দেওয়ার সময় পোর্টালে প্রদর্শিত সর্বশেষ ফি ও নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন: বাংলাদেশে ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কত টাকা লাগে?
উত্তর: এক ক্যাটাগরির লার্নার লাইসেন্সের ফি ৫১৮ টাকা এবং দুই ক্যাটাগরির ৭৪৮ টাকা। স্মার্ট কার্ডের জন্য অপেশাদার লাইসেন্সে ৪ হাজার ৪৯৭ টাকা এবং পেশাদার লাইসেন্সে ২ হাজার ৭৭২ টাকা ফি উল্লেখ রয়েছে।
প্রশ্ন: ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে কতদিন লাগে?
উত্তর: পুরো প্রক্রিয়ার সময় পরীক্ষার তারিখ, আবেদন যাচাই ও স্মার্ট কার্ড প্রস্তুতের ওপর নির্ভর করে। স্মার্ট কার্ড ইস্যুর জন্য বিআরটিএর কিছু সেবা-তথ্যে ৩০ কার্যদিবসের উল্লেখ রয়েছে।
প্রশ্ন: ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কি মেডিকেল সার্টিফিকেট লাগে?
উত্তর: হ্যাঁ, আবেদনের সময় নিবন্ধিত চিকিৎসকের দেওয়া মেডিকেল সার্টিফিকেট প্রয়োজন।
প্রশ্ন: নতুন আবেদনকারী কি সরাসরি স্মার্ট কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন?
উত্তর: না। নতুন আবেদনকারীকে প্রথমে লার্নার লাইসেন্স নিতে হয়। এরপর নির্ধারিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে স্মার্ট কার্ডের জন্য আবেদন করা যায়।
প্রশ্ন: অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ কত বছর?
উত্তর: অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ ১০ বছর। পেশাদার লাইসেন্সের মেয়াদ পাঁচ বছর।
আল-সাদ/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- ওয়ারিশ সনদ দিয়ে জমি নামজারি করার নিয়ম, জানুন বিস্তারিত
- বাংলাদেশ বনাম ভুটান ম্যাচ আজ, কখন, কোথায় ও কীভাবে দেখবেন লাইভ?
- বাংলাদেশ বনাম ভুটান ম্যাচ: ৯০ মিনিটের খেলা শেষ, জানুন ফলাফল
- জমির মালিকের নাম দিয়ে খতিয়ান খুঁজবেন যেভাবে
- বাংলাদেশ বনাম ভুটান ম্যাচ আজ: লাইভ দেখার সহজ উপায়
- চলছে বাংলাদেশ বনাম ভুটান ম্যাচ: ৩০ মিনিট শেষ, সরাসরি দেখুন Live
- অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ: বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান সর্বশেষ স্কোর
- বাংলাদেশ বনাম ভুটান ম্যাচে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, জানুন ফলাফল
- রাত ৮টায় বাংলাদেশ-ভুটান ম্যাচ, টিভি ও মোবাইলে দেখার নিয়ম
- বাংলাদেশ বনাম ভুটান ম্যাচ আজ: সময়, লাইভ দেখার উপায় ও পরিসংখ্যান
- Hero Xtreme 250R: দাম, মাইলেজ ও সম্পূর্ণ স্পেসিফিকেশন
- আজকের টাকার রেট কত: বেড়েছে ১৭টি দেশের টাকার বিনিময় হার
- বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অভিযানে নিহত সৈনিক, উদ্ধার ৫৭ জিম্মি
- বাংলাদেশ বনাম ভুটান ম্যাচ কবে, কখন ও কোথায় লাইভ দেখবেন?
- OnePlus 16: ৯০০০mAh ব্যাটারি ও ২০০MP ক্যামেরায় নতুন চমক