ঢাকা, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

এনআইডি, জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টে নাম এক করবেন যেভাবে

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৬ ২১:০১:২৯
এনআইডি, জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টে নাম এক করবেন যেভাবে

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টে নামের বানান এক না হলে সরকারি বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে পারেন। বিশেষ করে পাসপোর্ট তৈরি, ভিসার আবেদন, বিদেশে পড়াশোনা কিংবা চাকরির ক্ষেত্রে নথির তথ্যের অমিল যাচাইয়ের জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্রে একই নাম রাখতে হলে প্রথমেই নির্ধারণ করতে হবে কোন নাম ও বানানটি সঠিক। এরপর যে নথিতে ভুল রয়েছে, সেটি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের নিয়ম মেনে সংশোধন করতে হবে।

বাংলাদেশে ই-পাসপোর্টের আবেদন জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদের ইংরেজি সংস্করণের তথ্য অনুযায়ী পূরণ করতে হয়। ফলে এনআইডি বা জন্মনিবন্ধনে নামের বানান ভুল থাকলে পাসপোর্ট করার আগেই তা সংশোধন করা জরুরি। শুধু পাসপোর্টের আবেদনে নিজের পছন্দমতো বানান লিখলেই তথ্যের অমিল দূর হবে না।

প্রথমে কোন নথির নাম সঠিক, তা নির্ধারণ করুন

নাম সংশোধনের কাজ শুরু করার আগে এনআইডি, জন্মনিবন্ধন, শিক্ষাগত সনদ এবং আগের পাসপোর্ট থাকলে সেগুলো একসঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। নামের বাংলা ও ইংরেজি বানান, নামের প্রথম ও শেষ অংশ এবং মাঝের নাম—সবকিছুতে সামঞ্জস্য আছে কি না যাচাই করতে হবে।

যাঁদের এসএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা রয়েছে, তাঁদের এনআইডির নাম সংশোধনের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত সনদকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় নাম সংশোধনের জন্য এসএসসি সনদ, জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্টসহ বিভিন্ন গ্রহণযোগ্য দলিলের কথা বলা হয়েছে।

তাই কোনো একটি নথির ভুল তথ্যকে ভিত্তি ধরে অন্য সব নথি সংশোধন না করে আগে প্রামাণিক কাগজপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে সঠিক নাম নির্ধারণ করা উচিত।

এনআইডিতে নামের বানান ভুল হলে কী করবেন?

জাতীয় পরিচয়পত্রে নিজের নামের বাংলা বা ইংরেজি বানান ভুল থাকলে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি অনলাইন সেবার মাধ্যমে সংশোধনের আবেদন করা যায়। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট উপজেলা, থানা বা জেলা নির্বাচন অফিসেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।

নাম সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী যেসব কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে—

এসএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত সনদ।

জন্মনিবন্ধন সনদ।

পাসপোর্টের কপি।

ড্রাইভিং লাইসেন্স বা নাগরিকত্ব সনদ।

চাকরির প্রমাণপত্র।

বিবাহিত নারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কাবিননামা বা বিবাহবিচ্ছেদের দলিল।

নামের আমূল পরিবর্তন বা ডাকনামের পরিবর্তে অন্য নাম নিবন্ধিত থাকলে অতিরিক্ত প্রমাণপত্র প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সম্পাদিত হলফনামা এবং জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির কপি চাওয়া হতে পারে। আবেদনকারীর পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় দলিল নির্ধারণ করে নির্বাচন কমিশন।

অনলাইনে সংশোধনের আবেদন করতে এনআইডি সেবা পোর্টালে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ ও প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। আবেদনের তথ্য যাচাইয়ের পর সংশোধনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জন্মনিবন্ধনে নামের ভুল থাকলে সংশোধনের নিয়ম

জন্মনিবন্ধনে নামের বাংলা বা ইংরেজি বানান ভুল থাকলে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের অনলাইন সিস্টেমে সংশোধনের আবেদন করতে হয়। আবেদন করার সময় জন্মনিবন্ধন নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে সংশ্লিষ্ট তথ্য খুঁজে সংশোধনের বিষয় নির্বাচন করতে হয়।

এরপর সঠিক নাম উল্লেখ করে সংশোধনের কারণ লিখতে হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র সংযুক্ত করতে হবে। আবেদনটি সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক কার্যালয়ে যাচাই ও অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়।

জন্মনিবন্ধনের তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষাগত সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট কিংবা নামের সঠিকতা প্রমাণ করে এমন অন্যান্য সরকারি দলিল চাওয়া হতে পারে। আবেদন অনুমোদিত হলে সংশোধিত সনদ সংগ্রহ করা যায়।

জন্মনিবন্ধনের তথ্য সংশোধনের জন্য নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালে সর্বোচ্চ চারবার আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তাই আবেদন জমা দেওয়ার আগে সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।

পাসপোর্টে নামের বানান আলাদা হলে করণীয়

ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদের ইংরেজি সংস্করণ অনুযায়ী নাম লিখতে হয়। আবেদন করার আগে এই দুই নথির মধ্যে যেটি প্রযোজ্য, সেটির তথ্য সঠিক আছে কি না নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

আগের পাসপোর্টে নামের বানান একরকম থাকলেও নতুন পাসপোর্টের ক্ষেত্রে এনআইডি বা জন্মনিবন্ধনের তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকতে হবে। নাম, জন্মতারিখ, জন্মস্থান কিংবা বাবা-মায়ের নাম পরিবর্তন করতে হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি জমা দিতে হয়। পাসপোর্ট অফিস এসব তথ্য যাচাই করতে পারে এবং প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত তদন্তের কারণে আবেদন প্রক্রিয়ায় বেশি সময় লাগতে পারে।

ইতিমধ্যে পাসপোর্টের আবেদন জমা দেওয়ার পর নামের ভুল ধরা পড়লে আবেদনপত্রের প্রিন্ট করা সারাংশ এবং সঠিক তথ্যের পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।

তিনটি নথিতে একই নাম রাখার সবচেয়ে ভালো উপায়

এনআইডি, জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টে নামের অমিল এড়াতে কয়েকটি বিষয় অনুসরণ করা জরুরি।

প্রথমত, নামের বাংলা ও ইংরেজি বানান নির্ধারণ করে সব নথিতে একইভাবে ব্যবহার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, নামের কোনো অংশ বাদ পড়েছে কি না কিংবা অতিরিক্ত কোনো অংশ যুক্ত হয়েছে কি না যাচাই করতে হবে। তৃতীয়ত, নতুন কোনো সরকারি নথির আবেদন করার আগে আগের নথির তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হবে।

যদি তিনটি নথিতেই আলাদা আলাদা ভুল থাকে, তাহলে একসঙ্গে সব জায়গায় নতুন বানান বসানোর চেষ্টা না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী একেকটি নথি সংশোধন করতে হবে। বিশেষ করে এনআইডি ও জন্মনিবন্ধনের তথ্য সঠিক করার পর সেই তথ্য অনুসারে পাসপোর্টের আবেদন করাই ভালো।

নাম সংশোধনের আবেদন কোথায় করবেন?

জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংশোধনের জন্য নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা পোর্টাল, জন্মনিবন্ধনের তথ্য সংশোধনের জন্য জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন পোর্টাল এবং পাসপোর্টের আবেদনের জন্য ই-পাসপোর্টের সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করা যায়।

নামের বানান এক রাখার বিষয়টি শুধু কাগজে একইভাবে লেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; প্রতিটি নথিতে তথ্যের সঠিকতা প্রমাণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় দলিল প্রস্তুত করে তথ্য যাচাই করলে পরবর্তী সময়ে পরিচয়সংক্রান্ত জটিলতা এড়ানো সহজ হবে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন: এনআইডি, জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টে নাম আলাদা হলে কী করতে হবে?

উত্তর: প্রথমে সঠিক নাম নির্ধারণ করে যে নথিতে ভুল রয়েছে, সেটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী সংশোধন করতে হবে। এরপর সব নথির বাংলা ও ইংরেজি বানান মিলিয়ে নিতে হবে।

প্রশ্ন: এনআইডিতে নামের বানান সংশোধন করতে কী কী কাগজ লাগে?

উত্তর: প্রয়োজন অনুযায়ী এসএসসি বা সমমানের সনদ, জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, নাগরিকত্ব সনদ কিংবা অন্যান্য গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র লাগতে পারে।

প্রশ্ন: জন্মনিবন্ধনে নামের ইংরেজি বানান ভুল হলে কি সংশোধন করা যায়?

উত্তর: হ্যাঁ। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের অনলাইন পোর্টালে সংশোধনের আবেদন করে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র জমা দিতে হয়। অনুমোদনের পর সংশোধিত সনদ পাওয়া যায়।

প্রশ্ন: এনআইডিতে নাম ভুল থাকলে সেই তথ্য দিয়ে পাসপোর্ট করা যাবে?

উত্তর: পাসপোর্টের আবেদন করার আগে এনআইডি বা প্রযোজ্য জন্মনিবন্ধনের তথ্য সঠিক করে নেওয়া উচিত। পাসপোর্টের আবেদন সংশ্লিষ্ট পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী পূরণ করতে হয়।

প্রশ্ন: পাসপোর্টের আবেদন জমা দেওয়ার পর নামের ভুল ধরা পড়লে কী করবেন?

উত্তর: আবেদনপত্রের প্রিন্ট করা সারাংশ এবং সঠিক নামের পক্ষে প্রয়োজনীয় সরকারি কাগজপত্র নিয়ে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ