ঢাকা, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

পে-স্কেলের পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আবারও বড় সুখবর

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৩ ১৮:৫৫:০৬
পে-স্কেলের পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আবারও বড় সুখবর

নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের প্রক্রিয়ার মধ্যেই সরকারি চাকরিজীবীদের সঞ্চয়ের সঙ্গে যুক্ত আর্থিক সুবিধার বিষয়েও সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সরকার। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে সাধারণ ভবিষ্য তহবিল (জিপিএফ) এবং প্রদেয় ভবিষ্য তহবিল (সিপিএফ) থেকে জমা অর্থের বিপরীতে কত হারে মুনাফা দেওয়া হবে, তা নির্ধারণ করা হয়েছে। জিপিএফের স্থিতি অনুযায়ী এ মুনাফার হার সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ পর্যন্ত হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রবিধি-১ শাখা থেকে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

জিপিএফের টাকার পরিমাণ অনুযায়ী তিন হার

সরকারি কর্মচারীর জিপিএফে অর্থবছরের শুরুতে কত টাকা জমা ছিল, তার ওপর ভিত্তি করেই মুনাফার হার নির্ধারিত হবে।

শুরুতে তহবিলে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত থাকলে ওই অর্থের জন্য ১৩ শতাংশ মুনাফা প্রযোজ্য হবে। ১৫ লাখ ১ টাকা থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত জমা থাকলে হার নেমে হবে ১২ শতাংশ। আর জিপিএফের প্রাথমিক স্থিতি ৩০ লাখ টাকার সীমা ছাড়ালে মুনাফা হিসাব করা হবে ১১ শতাংশ হারে।

এই হিসাব শুধু অর্থবছরের প্রথম দিনে তহবিলে থাকা অর্থের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ওই অর্থবছরে কর্মচারী নতুন করে যে চাঁদা জমা দেবেন, সেটিও একই শ্রেণিভিত্তিক হারের আওতায় থাকবে।

অর্থাৎ, অর্থবছরের শুরুতে যার জিপিএফ স্থিতি ১৩ শতাংশের শ্রেণিতে থাকবে, তার পরবর্তী নতুন জমার ক্ষেত্রেও ১৩ শতাংশ হার অনুসরণ করা হবে। একইভাবে ১২ ও ১১ শতাংশের শ্রেণির ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট হার প্রযোজ্য হবে।

সিপিএফের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচ্য

প্রজ্ঞাপনে সিপিএফভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কিছুটা ভিন্ন কাঠামো রাখা হয়েছে। স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, করপোরেশন ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে নিজস্ব আর্থিক বিধি অনুসরণ করে মুনাফার হার ঠিক করার সুযোগ রয়েছে।

তবে এই স্বাধীনতার একটি নির্ধারিত সীমা রয়েছে। অর্থ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে জিপিএফের জন্য নির্ধারিত ১৩, ১২ ও ১১ শতাংশ হারকেই সর্বোচ্চ সীমা হিসেবে ধরা হবে।

ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান চাইলে নিজেদের আর্থিক সক্ষমতার ভিত্তিতে এর চেয়ে কম হারে মুনাফা নির্ধারণ করতে পারবে। কিন্তু প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত সর্বোচ্চ হার পেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না।

কেন জিপিএফ গুরুত্বপূর্ণ

সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের একটি ব্যবস্থা হলো সাধারণ ভবিষ্য তহবিল বা জিপিএফ। চাকরির সময় নিয়ম অনুযায়ী বেতন থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ এই তহবিলে জমা করেন কর্মচারীরা।

চাকরি শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত নিয়ম মেনে সেই সঞ্চিত অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকে। এর সঙ্গে প্রযোজ্য মুনাফাও যুক্ত হয়।

অন্যদিকে, প্রদেয় ভবিষ্য তহবিল বা সিপিএফ মূলত এমন স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, করপোরেশন ও প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত হয়, যেখানে প্রচলিত সরকারি পেনশন ব্যবস্থা নেই। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের চাঁদা ও মুনাফা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নিয়মের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।

নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে যোগ হলো এই সিদ্ধান্ত

জিপিএফ ও সিপিএফের মুনাফার হার নির্ধারণের সিদ্ধান্তটি এমন সময়ে এসেছে, যখন সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন জাতীয় পে-স্কেলও কার্যকরের পথে রয়েছে।

এর আগে নতুন জাতীয় পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। নতুন বেতন কাঠামোকে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে ধরা হয়েছে।

তবে পুরো বর্ধিত বেতন এক ধাপে কার্যকর হচ্ছে না। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তাদের নতুন মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৫০ শতাংশ হারে বর্ধিত বেতন দেওয়ার কথা রয়েছে।

এরপর ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দ্বিতীয় ধাপে প্রথম থেকে নবম গ্রেডে নতুন মূল বেতনের ৭০ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০তম গ্রেডে ৭৫ শতাংশ হারে বর্ধিত বেতন দেওয়ার কথা রয়েছে।

সবশেষে নতুন পে-স্কেলের অবশিষ্ট অংশ ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।

২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে মুনাফার হার কার্যকর

অর্থ বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জিপিএফ ও সিপিএফের জন্য নির্ধারিত নতুন মুনাফার হার ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য কার্যকর থাকবে।

ফলে নতুন বেতন কাঠামোর পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের ভবিষ্য তহবিলে জমা অর্থের বিপরীতে মুনাফার হারও নির্দিষ্ট হলো। জিপিএফের ক্ষেত্রে অর্থের পরিমাণ অনুযায়ী ১৩, ১২ এবং ১১ শতাংশের তিনটি স্তর রাখা হয়েছে। আর সিপিএফভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের আর্থিক বিধি অনুযায়ী হার ঠিক করলেও নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমার মধ্যেই তা করতে হবে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: