Md Razib Ali
Senior Reporter
ব্রাজিল বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ কবে, কখন, লাইভ দেখবেন যেভাবে
একই প্রতিপক্ষ, কিন্তু এবার পরিস্থিতি একেবারেই নতুন। ২০১৭ সালের পর আর মুখোমুখি হয়নি ব্রাজিল ও অস্ট্রেলিয়া। প্রায় নয় বছর পর আবারও মাঠে নামছে দল দুটি। তাও ২০২৬ বিশ্বকাপের পর প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোর অংশ হিসেবে এবং অস্ট্রেলিয়ার ঘরের মাঠে পরপর দুইবার। প্রথম লড়াইটি হবে ২৫ সেপ্টেম্বর, বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টায়।
দুই দলের পুরোনো হিসাব খুললে ব্রাজিলের আধিপত্য স্পষ্ট। কিন্তু দীর্ঘ বিরতির পর বদলে যাওয়া দল, নতুন খেলোয়াড় এবং বিশ্বকাপ-পরবর্তী নতুন চক্র—সব মিলিয়ে এবারের সিরিজে অতীতের পরিসংখ্যানের পাশাপাশি সামনে থাকবে বর্তমান দল দুটির সক্ষমতা যাচাইয়ের বিষয়টিও।
নয় বছর পর ফিরছে পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা
২০১৭ সালের পর ব্রাজিল ও অস্ট্রেলিয়ার আর দেখা হয়নি। সেই বিরতির পর সেপ্টেম্বরে দুই ম্যাচের সিরিজে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে তারা।
এবারের সূচির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, দুই ম্যাচই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে। ফলে ব্রাজিলকে শুধু দীর্ঘ বিরতির পর মাঠে ফেরার পরিস্থিতিই সামলাতে হবে না, প্রতিপক্ষের ঘরের পরিবেশেও খেলতে হবে।
বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর দুই দলের জন্যই এটি নতুন একটি চক্রের শুরু। সেই কারণে সিরিজের গুরুত্ব শুধু ফলাফলে সীমাবদ্ধ নয়; নতুনদের সুযোগ দেওয়া এবং ভবিষ্যতের দল গঠনের বিষয়টিও এর সঙ্গে যুক্ত।
১১ ম্যাচের হিসাব কী বলছে?
ফুটবল অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিভিন্ন ধরনের ম্যাচ মিলিয়ে ব্রাজিল-অস্ট্রেলিয়া লড়াই হয়েছে ১১ বার।
এই ১১ ম্যাচে ব্রাজিলের জয় ৮টি। অস্ট্রেলিয়া জিতেছে মাত্র একবার। বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।
শুধু আন্তর্জাতিক ম্যাচ আলাদা করে দেখলে দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার সংখ্যা ৯। সেখানে ব্রাজিলের জয় ৭টি, অস্ট্রেলিয়ার জয় ১টি এবং ড্র হয়েছে ১টি।
| মুখোমুখি পরিসংখ্যান | সব ধরনের ম্যাচ | আন্তর্জাতিক ম্যাচ |
|---|---|---|
| মোট ম্যাচ | ১১ | ৯ |
| ব্রাজিল জয় | ৮ | ৭ |
| অস্ট্রেলিয়া জয় | ১ | ১ |
| ড্র | ২ | ১ |
ব্রাজিলকে হারানোর স্মৃতি অস্ট্রেলিয়ার ২০০১ সালের
দুই দলের দীর্ঘ ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র আন্তর্জাতিক জয়টি এসেছিল ২০০১ সালে।
কনফেডারেশনস কাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া একমাত্র গোল করে ব্রাজিলকে হারিয়েছিল। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ব্রাজিলের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত এটিই অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র জয়।
এরপর আর ব্রাজিলকে হারাতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। বরং পরের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎগুলোতে ব্যবধান গড়ে দিয়েছে ব্রাজিল।
শেষ তিন সাক্ষাৎও ছিল ব্রাজিলের দখলে
দুই দলের পরবর্তী উল্লেখযোগ্য লড়াইয়ে ব্রাজিলের ফলাফল ছিল একতরফা।
২০০৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জয় ছিল ২-০ গোলে। সাত বছর পর ২০১৩ সালের প্রীতি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে আরও বড় ব্যবধানে হারায় ব্রাজিল—স্কোরলাইন ছিল ৬-০।
সর্বশেষ সাক্ষাৎ ঘটে ২০১৭ সালে। সেই প্রীতি ম্যাচেও ব্রাজিলের জয় আসে ৪-০ গোলে।
এরপর দীর্ঘ বিরতি। ২০১৭ সালের পর দুই দল আর একে অপরের বিপক্ষে মাঠে নামেনি।
বিশ্বকাপের পর দুই দলের অবস্থান
২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিল ও অস্ট্রেলিয়া—কোনো দলই খুব দূর যেতে পারেনি।
অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ যাত্রায় শুরুতে তুরস্কের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় ছিল। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ২-০ গোলে হারতে হয়। প্যারাগোরের বিপক্ষে ম্যাচ শেষ হয় ০-০ গোলে।
রাউন্ড অফ ৩২-এ মিশরের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করার পর টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় অস্ট্রেলিয়া।
ব্রাজিলের পথচলাতেও ছিল মিশ্র ফল। গ্রুপ পর্বে মরক্কোর সঙ্গে ড্র করার পর আইতি ও স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে নকআউট পর্বে যায় তারা।
জাপানের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় ব্রাজিলকে শেষ ১৬-তে নিয়ে গেলেও সেখানে নরের কাছে একই ব্যবধানে—২-১ গোলে—হেরে যায় তারা।
দুই দলেই দেখা যাচ্ছে পরিবর্তনের ছাপ
অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্য ব্রাজিলের কোচ কার্লো আঞ্চলত্তি ২৬ সদস্যের দল নিয়েছেন।
তবে দল ঘোষণার পর শেষ মুহূর্তে চোটের কারণে চেলসির ফোরাড জোয়াব পেদ্রোকে হারাতে হয়েছে ব্রাজিলকে। তার জায়গায় দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ম্যাথিউস মার্টিনলিকে।
অস্ট্রেলিয়ার দলেও এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। কোস্ট টনি কসবিসের ২৬ সদস্যের দলে বিশ্বকাপের দলটির তুলনায় ১০টি পরিবর্তন রয়েছে।
এ কারণে সেপ্টেম্বরে হতে যাওয়া ম্যাচ দুটিতে শুধু স্কোরলাইন নয়, খেলোয়াড়দের পরীক্ষা এবং পরবর্তী প্রজন্মের দল তৈরির বিষয়টিও সামনে থাকবে।
অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছে ব্রাজিলের প্রস্তুতি
অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর পর ব্রাজিল প্রস্তুতিতে নেমে পড়েছে। ২২ সেপ্টেম্বরের প্রথম অনুশীলনে দলের কাজের একটি বড় অংশ ছিল জেট লেক কাটিয়ে ওঠা এবং স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া।
দলের কয়েকজন তারকা শুরুতে স্কোয়াডের সঙ্গে ছিলেন না। পরে তারা দলের সঙ্গে যোগ দেন এবং পূর্ণাঙ্গ অনুশীলন করেন।
ব্রাজিল বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের সময়
প্রথম ম্যাচের দিন নির্ধারিত হয়েছে ২৫ সেপ্টেম্বর। বাংলাদেশ সময় ম্যাচটি শুরু হবে বিকেল ৪টায়।
দুই দলের পুরোনো মুখোমুখি রেকর্ডে ব্রাজিলের এগিয়ে থাকার তথ্য থাকলেও এবার ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে। দীর্ঘ বিরতির পর নতুন বাস্তবতায় তাই আগের ফলাফলই ম্যাচের চূড়ান্ত চিত্র নির্ধারণ করবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
টিভিতে নয়, মোবাইলে দেখার তথ্য
দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ বা এশিয়া থেকে ম্যাচটি টেলিভিশনে দেখা যাবে না। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ম্যাচটি দেখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
মোবাইলে লাইভ দেখার জন্য Sportzfy অ্যাপ ইনস্টল করার তথ্য দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো অ্যাপ ডাউনলোড বা ব্যবহার করার আগে সেটি বৈধ ও নিরাপদ কি না, তা যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।
এ ছাড়া ফেসবুকে “Brazil Vs Australia Football match Live” লিখে সার্চ করলে বিভিন্ন পেজে ম্যাচের লাইভ সম্প্রচার পাওয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট সম্প্রচারের বৈধতা যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
ম্যাচ ও হেড টু হেড: দ্রুত দেখে নিন
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ম্যাচ | ব্রাজিল বনাম অস্ট্রেলিয়া |
| তারিখ | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
| বাংলাদেশ সময় | বিকেল ৪টা |
| ম্যাচের স্থান | অস্ট্রেলিয়া |
| সব ধরনের মুখোমুখি | ১১ ম্যাচ |
| ব্রাজিলের জয় | ৮ |
| অস্ট্রেলিয়ার জয় | ১ |
| ড্র | ২ |
| আন্তর্জাতিক ম্যাচ | ৯ |
| আন্তর্জাতিক ম্যাচে ব্রাজিলের জয় | ৭ |
| আন্তর্জাতিক ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার জয় | ১ |
| আন্তর্জাতিক ম্যাচে ড্র | ১ |
| সর্বশেষ মুখোমুখি | ২০১৭ |
| সর্বশেষ ম্যাচের ফল | ব্রাজিল ৪-০ অস্ট্রেলিয়া |
FAQ
ব্রাজিল বনাম অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ কবে?
প্রথম ম্যাচটি ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ সময় ম্যাচটি কখন শুরু হবে?
বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টায় ম্যাচটি শুরু হবে।
ব্রাজিল ও অস্ট্রেলিয়া কতবার মুখোমুখি হয়েছে?
সব ধরনের ম্যাচ মিলিয়ে দুই দল ১১ বার এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচ হিসেবে ৯ বার মুখোমুখি হয়েছে।
হেড টু হেডে কার জয় বেশি?
সব ধরনের ১১ ম্যাচের হিসাবে ব্রাজিলের জয় ৮টি, অস্ট্রেলিয়ার জয় ১টি এবং ড্র হয়েছে ২টি।
সর্বশেষ কবে দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল?
২০১৭ সালে সর্বশেষ দেখা হয়েছিল। সেই ম্যাচে ব্রাজিল ৪-০ গোলে জয় পেয়েছিল।
তানভির ইসলাম/