ঢাকা, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

নিউ গিনি প্রপার্টিজ কাণ্ডে গোলাম মোহিউদ্দিন রিমান্ডে

সারাদেশ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০২ ১৪:৪৫:১২
নিউ গিনি প্রপার্টিজ কাণ্ডে গোলাম মোহিউদ্দিন রিমান্ডে

নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের আবাসন প্রকল্পে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগের তদন্তে এবার অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মোহিউদ্দিন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ। এ মামলায় তার বিরুদ্ধে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। পুলিশ অবশ্য তাকে পাঁচ দিনের জন্য হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করেছিল।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম শুনানি শেষে রিমান্ডের এই আদেশ দেন।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্ট থানার পরিদর্শক মোহাম্মদ আল আমিন এর আগে গোলাম মোহিউদ্দিনকে আদালতে হাজির করেন। রিমান্ড আবেদনে পুলিশ জানায়, নিউ গিনি প্রপার্টিজের আবাসন প্রকল্পে সংঘটিত হামলার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্তে যেসব বিষয় জানতে চায় পুলিশ

গোলাম মোহিউদ্দিনকে হেফাজতে নিয়ে হামলার ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পাশাপাশি আরও কয়েকটি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে চায় তদন্ত সংস্থা। পুলিশের আবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, কথিত অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার এবং হামলার সময় লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

অন্যদিকে, আদালতে রিমান্ডের আবেদন গ্রহণ না করার পক্ষে যুক্তি দেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। তারা গোলাম মোহিউদ্দিনের জামিন চেয়েছেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করে আদালত তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন।

এর আগে বুধবার রাজধানীর রমনা থানার সেগুনবাগিচা এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

কী ঘটেছিল নিউ গিনি প্রপার্টিজ প্রকল্পে

মামলার নথিতে ২৬ সেপ্টেম্বরের ঘটনার যে বিবরণ দেওয়া হয়েছে, তাতে বলা হয়, পশ্চিম মাতিকাটা এলাকায় অবস্থিত নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের আবাসন প্রকল্পে প্রায় ৫০ জনের একটি দল ঢোকে। তাদের বিরুদ্ধে গুলি চালানো এবং দা, ছুরি ও লাঠি নিয়ে হামলার অভিযোগ রয়েছে।

হামলার একপর্যায়ে প্রকল্পের একটি স্টুডিওতে ভাঙচুর করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই স্টুডিও থেকে নগদ অর্থ, ল্যাপটপ, ক্যামেরা এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাটিতে কয়েকটি যানবাহনও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা মামলার নথিতে রয়েছে।

কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি ও লুটের অভিযোগ

মামলায় হামলার ফলে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে বলেও অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করেও গুলি ছোড়া হয়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছোড়ে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

একই মামলায় আরও তিনজন রিমান্ডে

নিউ গিনি প্রপার্টিজ প্রকল্পের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া এ ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় এর আগেই মিজানুর রহমান, শাহরিয়ার মাহমুদ এবং মো. শাহ আলম ওরফে অনিককে রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।

গোলাম মোহিউদ্দিনকে রিমান্ডে নেওয়ার পর হামলার ঘটনায় তার ভূমিকা সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার প্রত্যাশা করছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা সম্পর্কেও জিজ্ঞাসাবাদ থেকে তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

তবে মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলোর তদন্ত এখনো চলছে। ফলে গোলাম মোহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং হামলার ঘটনায় তার ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ