ঢাকা, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

২৩৫ ইউনিটের বিল ৫০৬ কোটি, বরখাস্ত মাগুরার পল্লীবিদ্যুতের জিএম

সারাদেশ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ৩০ ২১:০৬:৩৫
২৩৫ ইউনিটের বিল ৫০৬ কোটি, বরখাস্ত মাগুরার পল্লীবিদ্যুতের জিএম

মিটারে বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব দেখাচ্ছে ২৩৫ ইউনিট। সেই হিসাবে বিল হওয়ার কথা ৯৫৬ টাকা। কিন্তু গ্রাহকের নামে তৈরি হওয়া বিলে চাওয়া হয়েছে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। মাগুরার কেচুয়াডুবি গ্রামের এই অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের ঘটনায় শেষ পর্যন্ত মাগুরা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. মহিতুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বুধবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর জরুরি নির্দেশে জিএমের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী।

৯৫৬ টাকার জায়গায় বিল ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ

ঘটনার কেন্দ্রে থাকা গ্রাহক মাগুরা সদর উপজেলার মাঘী ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের আলেয়া খাতুন। তিনি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহিদুল ইসলামের স্ত্রী।

সেপ্টেম্বর মাসে তার বাড়িতে ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে। মিটারের আগের রিডিং ছিল ১৬০ ইউনিট, পরে সেটি ৩৯৫ ইউনিটে ওঠে। ফলে ব্যবহারের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৩৫ ইউনিট।

এই ব্যবহারের বিপরীতে বিদ্যুৎ বিলের মূল পরিমাণ হওয়ার কথা ছিল ৯৫৬ টাকা। কিন্তু বিল তৈরির সময় সেখানে যুক্ত হয় বিপুল অঙ্কের ডিমান্ড চার্জ ও ভ্যাট।

বিলের হিসাবে ডিমান্ড চার্জ দেখানো হয়েছে ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। এর সঙ্গে ভ্যাট যোগ হয়েছে ২৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা। ফলে সব মিলিয়ে গ্রাহকের বিল গিয়ে দাঁড়ায় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকায়।

ভুলটি হয়েছিল মিটার পরিবর্তনের সময়

এত বড় অঙ্কের বিল কেন তৈরি হলো, তার প্রাথমিক কারণও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিটার পরিবর্তনের সময় তথ্য সংরক্ষণ করতে গিয়ে ভুল করা হয়। নতুন মিটারের সিল নম্বরে থাকা ডিজিটগুলো ডিমান্ড চার্জের নির্ধারিত ঘরে ভুলবশত বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

বিল তৈরির সময় সেই ভুল তথ্যই ব্যবহৃত হওয়ায় ডিমান্ড চার্জের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। আর তার প্রভাব পড়ে চূড়ান্ত বিলে।

খবর ছড়াতেই গ্রাহকের সঙ্গে মন্ত্রীর কথা

২৩৫ ইউনিটের বিপরীতে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকার এই বিলের বিষয়টি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়।

ভুক্তভোগী গ্রাহক আলেয়া খাতুনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তিনি গ্রাহকের কাছে এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

ফোনালাপের সময় মন্ত্রী তাকে আশ্বস্ত করেন, ভুল বিল সংশোধনের প্রক্রিয়া চলছে।

অবহেলায় ক্ষুব্ধ মন্ত্রী

মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, বিল তৈরির এই ভুলকে গুরুতর ও অগ্রহণযোগ্য অবহেলা হিসেবে দেখেছেন মন্ত্রী। এ ঘটনায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এরপরই তার জরুরি নির্দেশনায় মাগুরা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জিএম মো. মহিতুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

শুধু জিএমের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা থেমে থাকছে না। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে আলেয়া খাতুনের নামে তৈরি হওয়া ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকার বিল সংশোধনের কাজ চলছে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

FAQ

প্রশ্ন: ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারে প্রকৃত বিল কত হওয়ার কথা ছিল?

উত্তর: দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৩৫ ইউনিটের প্রকৃত বিদ্যুৎ বিল হওয়ার কথা ছিল ৯৫৬ টাকা।

প্রশ্ন: আলেয়া খাতুনের নামে মোট কত টাকার বিল তৈরি হয়েছিল?

উত্তর: তার নামে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল তৈরি করা হয়েছিল।

প্রশ্ন: বিল এত বেশি হওয়ার কারণ কী?

উত্তর: প্রাথমিক তদন্তে মিটার পরিবর্তনের সময় মিটারের সিল নম্বরের ডিজিট ভুল করে ডিমান্ড চার্জের ঘরে বসানোর বিষয়টি উঠে এসেছে।

প্রশ্ন: মাগুরা পল্লীবিদ্যুতের জিএমের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?

উত্তর: জিএম মো. মহিতুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

প্রশ্ন: ভুল বিলের বিষয়ে গ্রাহককে কী আশ্বাস দেওয়া হয়েছে?

উত্তর: মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ফোনে গ্রাহককে জানিয়েছেন, বিলটি সংশোধন করা হচ্ছে।

আল-সাদ/

পাঠকের মতামত: