ঢাকা, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

স্বর্ণের দামে বড় পতন, এক সপ্তাহে কমেছে ৩.৪ শতাংশ

বিশ্ব ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৩ ১৯:৩৫:৪৪
স্বর্ণের দামে বড় পতন, এক সপ্তাহে কমেছে ৩.৪ শতাংশ

স্বর্ণের আন্তর্জাতিক বাজারে টানা দরপতনের চাপ আরও স্পষ্ট হয়েছে। মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বর্ণের বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব হিসেবে চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ৩৩ মিনিটের বাজারচিত্রেও পতনের ধারাই দেখা গেছে। ওই সময় স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দর আগের তুলনায় ০ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১৪০ দশমিক ০৬ ডলারে নেমে যায়। একই সময়ে মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দাম ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৬২ দশমিক ৩০ ডলারে স্থির হয়েছে।

দেশের বাজারে স্বর্ণের বর্তমান দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে যখন স্বর্ণের দর কমছে, তখন দেশের বাজারে বর্তমানে বিভিন্ন মানের স্বর্ণের গহনার যে দাম নির্ধারিত রয়েছে, তা হলো—

২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ভ্যাটসহ ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা।

২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা।

১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা।

সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ টাকা।

স্বর্ণের ধরনপ্রতি ভরি দাম
২২ ক্যারেট ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা
২১ ক্যারেট ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা
১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা
সনাতন পদ্ধতি ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ টাকা

আন্তর্জাতিক বাজারে শুধু স্বর্ণ নয়, অন্য ধাতুতেও পতন

একই সময় মূল্যবান অন্যান্য ধাতুর বাজারেও দর কমেছে। রুপার দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬০ দশমিক ৩৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

প্লাটিনামের বাজারে পতনের পরিমাণ ছিল ২ শতাংশ। এতে প্রতি আউন্সের দাম নেমে হয়েছে ১ হাজার ৬৯২ দশমিক ৯০ ডলার। প্যালাডিয়ামের দামও ০ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১,১৬৫.৭৫ ডলারে নেমেছে।

রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়াম—তিনটি ধাতুই চলতি সপ্তাহে লোকসানের মধ্যে রয়েছে।

স্বর্ণের বাজারে নজর এখন ফেডের দিকে

স্বর্ণের পরবর্তী গতিপথ নিয়ে বাজার বিশ্লেষণে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের নীতিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাইবিট-এর প্রধান বাজার বিশ্লেষক হ্যান তান বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা আপাতত অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ার পথে যাচ্ছেন না। এর কারণ হিসেবে তিনি মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের কঠোর আর্থিক নীতি অব্যাহত থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।

হ্যান তানের বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী মাসগুলোতে স্বর্ণের দামের গতিপথ অনেকটাই ফেডের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল থাকবে। একই সঙ্গে মার্কিন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং শ্রমবাজারে সম্ভাব্য দুর্বলতা সামলানোর ক্ষেত্রে ফেড কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে দর কমেছে ২০ শতাংশের বেশি

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের সামগ্রিক দরপতনের আরেকটি বড় প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে শুরু হওয়া ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধকে ঘিরে।

এই সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে স্বর্ণের দাম ২০ শতাংশেরও বেশি কমেছে। সংঘাতের কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় দীর্ঘ মেয়াদে সুদের হার চড়া থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই আশঙ্কাকেই স্বর্ণের দামে পতনের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পে-স্কেল নয়, এবার স্বর্ণের বাজারেও সুদের প্রভাব

স্বর্ণ কোনো সুদ বা মুনাফা দেয় না। ফলে সুদের হার বাড়ার পরিবেশে এই ধাতুর বাজারে চাপ তৈরি হওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধির সঙ্গে স্বর্ণের দরপতনের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।

শনিবারের বাজারদর সেই চাপেরই আরেকটি চিত্র তুলে ধরেছে। একদিকে স্পট গোল্ডের দর কমেছে, অন্যদিকে মার্কিন গোল্ড ফিউচারসও নিম্নমুখী হয়েছে। সপ্তাহের হিসাবেও স্বর্ণের দর ইতোমধ্যে প্রায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমে গেছে।

এক নজরে আন্তর্জাতিক বাজার

ধাতুদর পরিবর্তনবর্তমান দাম
স্পট স্বর্ণ ০.৯% কমেছে ৪,১৪০.০৬ ডলার/আউন্স
মার্কিন গোল্ড ফিউচারস ১% কমেছে ৪,১৬২.৩০ ডলার/আউন্স
রুপা ০.৮% কমেছে ৬০.৩৬ ডলার/আউন্স
প্লাটিনাম ২% কমেছে ১,৬৯২.৯০ ডলার/আউন্স
প্যালাডিয়াম ০.৫% কমেছে ১,১৬৫.৭৫ ডলার/আউন্স

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দরপতনের পেছনে ডলার, সুদের হার ও মার্কিন ফেডের আর্থিক নীতির বিষয়গুলো এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ও শ্রমবাজারের পরিস্থিতিও আগামী মাসগুলোতে স্বর্ণের বাজারের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বাজার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: