ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ওয়ারিশ সনদ পাওয়ার পর জমির নামজারি করবেন যেভাবে

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৮ ১২:০০:৪৮
ওয়ারিশ সনদ পাওয়ার পর জমির নামজারি করবেন যেভাবে

কোনো জমির মালিক মারা যাওয়ার পর উত্তরাধিকারীদের নামে জমির রেকর্ড হালনাগাদ করতে ওয়ারিশ সনদ গুরুত্বপূর্ণ একটি নথি। তবে শুধু ওয়ারিশ সনদ হাতে পেলেই জমির মালিকানার রেকর্ডে উত্তরাধিকারীদের নাম যুক্ত হয়ে যায় না। এজন্য নিয়ম মেনে নামজারি বা মিউটেশন করতে হয়। বর্তমানে এই আবেদন অনলাইনেও করা যায় এবং উত্তরাধিকারসূত্রে নামজারির ক্ষেত্রে ওয়ারিশ সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ডিজিটালভাবে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

তাই ওয়ারিশ সনদ পাওয়ার পর পরবর্তী কাজ কী, কোথায় আবেদন করবেন, কী কী কাগজ লাগতে পারে এবং নামজারি প্রক্রিয়ায় কীভাবে এগোতে হবে—এসব জানা থাকলে অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

ওয়ারিশ সনদ পাওয়ার পরই কি নামজারি করতে হবে?

জমির মালিক মারা গেলে তার উত্তরাধিকারীদের নামে রেকর্ড সংশোধনের প্রয়োজন হয়। ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় উত্তরাধিকার সূত্রে মালিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নামজারি করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

এখানে একটি বিষয় আলাদা করে মনে রাখা দরকার—ওয়ারিশ সনদ মালিকানার রেকর্ড নিজে থেকে পরিবর্তন করে না। এটি উত্তরাধিকারীদের পরিচয় ও উত্তরাধিকার সম্পর্কিত প্রমাণ হিসেবে নামজারি আবেদনের সঙ্গে ব্যবহার করা হয়।

নামজারি সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট ভূমি রেকর্ডে উত্তরাধিকারীদের নাম ও প্রযোজ্য হিস্যা প্রতিফলিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

প্রথম কাজ: ওয়ারিশদের হিস্যা ঠিক করুন

নামজারির আগে উত্তরাধিকারী কারা এবং প্রত্যেকের প্রাপ্য অংশ কত—এটি পরিষ্কার থাকা জরুরি। কারণ নামজারির সময় ওয়ারিশদের হিস্যা অনুযায়ী রেকর্ড সংশোধনের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। ভূমি মন্ত্রণালয়ের নাগরিকসেবা সংক্রান্ত তথ্যেও নামজারি-জমাভাগে ওয়ারিশ অনুযায়ী হিস্যা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:

মোবাইলেই দেখুন জমির খতিয়ানে নিজের নাম আছে কি না

নামজারি করতে কী কী লাগে? আবেদন থেকে খতিয়ান পাওয়ার নিয়ম

খতিয়ান, পর্চা নাকি দাগ নম্বর—কোনটি কেন দরকার?

তাই ওয়ারিশ সনদ পাওয়ার পর জমির খতিয়ান, দাগ নম্বর, মোট জমির পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট উত্তরাধিকারীদের তথ্য মিলিয়ে নেওয়া ভালো।

নামজারির জন্য কী কী কাগজ প্রস্তুত রাখবেন?

উত্তরাধিকারসূত্রে ই-নামজারি আবেদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণক অনলাইনে সংযুক্ত করতে হয়। সরকারি মিউটেশন নির্দেশনায় উত্তরাধিকার সূত্রে মিউটেশনের জন্য উত্তরাধিকার সনদ, সর্বশেষ ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের দাখিলা এবং জমির খতিয়ানের কপিসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

সাধারণভাবে প্রস্তুত রাখতে পারেন—

ওয়ারিশ সনদ

সংশ্লিষ্ট খতিয়ানের কপি

সর্বশেষ ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের দাখিলা

আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র বা প্রযোজ্য পরিচয়পত্র

প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র

মালিকানার উৎস বা জমির রেকর্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত নথি

কোনো বিশেষ পরিস্থিতি থাকলে অতিরিক্ত কাগজপত্রও চাওয়া হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা দেখে নেওয়া নিরাপদ।

ওয়ারিশ সনদের মেয়াদ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

ওয়ারিশ সনদ নিয়ে একটি প্রচলিত বিভ্রান্তি রয়েছে—অনেকে মনে করেন নির্দিষ্ট কয়েক মাসের বেশি পুরোনো হলেই সেটি দিয়ে নামজারি করা যাবে না। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ৪ ডিসেম্বর ২০২২ সালের পরিপত্রে এ বিষয়ে স্পষ্ট করা হয়েছে যে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর ইস্যু করা ওয়ারিশ সনদের মেয়াদ উন্মুক্ত থাকবে। অর্থাৎ শুধু নির্দিষ্ট সময় পার হয়েছে—এমন কারণ দেখিয়ে ওয়ারিশ সনদকে অগ্রহণযোগ্য করার কথা নয়।

তবে ওয়ারিশ সনদে থাকা নামের সঙ্গে দলিল বা নামজারি আবেদনের নামের পার্থক্য থাকলে পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রমাণ দিতে হতে পারে।

অনলাইনে নামজারির আবেদন করবেন যেভাবে

বর্তমানে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ই-নামজারি ব্যবস্থার মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করা যায়। আবেদন করার সময় উত্তরাধিকারসূত্রে নামজারি নির্বাচন করে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ এবং প্রমাণক আপলোড করতে হয়। সরকারি নির্দেশনায় আবেদনকারীর পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য, ওয়ারিশ সনদ এবং সংশ্লিষ্ট জমির কাগজপত্রের স্ক্যান কপি সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

সহজভাবে প্রক্রিয়াটি এমন—

১. ই-নামজারি ব্যবস্থায় প্রবেশ করে আবেদন শুরু করতে হবে।

২. আবেদনকারীর প্রয়োজনীয় পরিচয় ও যোগাযোগের তথ্য দিতে হবে।

৩. উত্তরাধিকারসূত্রে নামজারির বিষয়টি নির্বাচন করতে হবে।

৪. জমির খতিয়ান, দাগ, মৌজা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে।

৫. ওয়ারিশ সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে।

৬. নির্ধারিত আবেদন ও নোটিশ ফি পরিশোধ করে আবেদন জমা দিতে হবে।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পর আবেদনটি সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে চলে যায়।

আবেদন জমা দেওয়ার পর কী হয়?

নামজারি আবেদন জমা দেওয়ার পর সেটি শুধু অনলাইনেই পড়ে থাকে না। সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস আবেদনটির তথ্য যাচাই করে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করে।

সরকারি ই-নামজারি প্রক্রিয়ায় প্রথম দিকে আবেদনকারীর দেওয়া তথ্য যাচাইয়ের জন্য ইউনিয়ন ভূমি অফিসে তদন্ত বা প্রতিবেদন নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে প্রস্তাব বা প্রতিবেদন যথাসম্ভব দ্রুত পাঠানোর কথা বলা হয়েছে এবং সাধারণ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশনাও রয়েছে।

এরপর সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, প্রতিবেদন ও তথ্য বিবেচনা করে নামজারি বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন।

সব নামজারি আবেদনে কি শুনানি হয়?

না, প্রতিটি আবেদনে একই ধরনের শুনানি প্রয়োজন হয় না।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সংযুক্ত দলিলপত্র যাচাই করে বিষয়টি সঠিক বলে প্রতীয়মান হলে পক্ষগুলোর শুনানি প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে কোনো তথ্যের ঘাটতি, আপত্তি বা জটিলতা থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী আবেদনকারীকে বক্তব্য বা প্রমাণ দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

অর্থাৎ, শুধু অফিসে গিয়ে শুনানি দেওয়াই নামজারির বাধ্যতামূলক ধাপ—এমন ধারণা সঠিক নয়।

কাগজপত্রে ভুল থাকলে কী করবেন?

নামজারি আবেদনের সঙ্গে দেওয়া তথ্য বা নথিতে কোনো ঘাটতি থাকলে সরাসরি আবেদন বাতিল করার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট ঘাটতি পূরণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা রয়েছে।

২০২২ সালের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় কোনো দলিল বা তথ্যের ঘাটতি থাকলে প্রথম আদেশে তা নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে আবেদনকারীকে তা দাখিলের জন্য সময় দিতে হবে। সাধারণত সাত কার্যদিবস বা পরিস্থিতি বিবেচনায় যুক্তিসংগত সময় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

তাই কোনো কাগজের ঘাটতি দেখলে আবেদনকারীকে বিষয়টি ভালোভাবে বুঝে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার সুযোগ নেওয়া উচিত।

ওয়ারিশদের নামের বানানে অমিল থাকলে?

এটি নামজারির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ওয়ারিশ সনদে থাকা নামের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র, দলিল বা নামজারি আবেদনের নামের পার্থক্য থাকলে বিষয়টি যাচাই করা হতে পারে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এমন ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ অনুযায়ী ওয়ারিশ সনদ দাখিলের নির্দেশনা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

তাই আবেদন করার আগে সম্ভব হলে—

ওয়ারিশ সনদ → জাতীয় পরিচয়পত্র → খতিয়ান → অন্যান্য দলিল

এসব নথিতে নামের বানান ও পরিচয় মিলিয়ে নেওয়া ভালো।

নামজারি অনুমোদনের পর কী হয়?

নামজারি অনুমোদিত হলে সংশ্লিষ্ট ভূমি রেকর্ডে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হয়। সরকারি ডিজিটাল ভূমিসেবা ব্যবস্থায় অনুমোদিত নামজারি খতিয়ানের প্রিন্ট কপি সরবরাহের ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

এরপর নতুন মালিক বা ওয়ারিশদের নামে রেকর্ড হালনাগাদ হওয়ার ফলে ভবিষ্যতে ভূমি উন্নয়ন করসহ সংশ্লিষ্ট ভূমিসেবায় নতুন মালিকানার তথ্য ব্যবহার করা যায়।

নামজারি হয়ে গেলে ভূমি উন্নয়ন কর কীভাবে দেবেন?

উত্তরাধিকারসূত্রে নামজারি সম্পন্ন হওয়ার পর নতুন হোল্ডিংধারীকে সংশ্লিষ্ট সময় থেকে নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে হয়। ভূমি উন্নয়ন কর সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনায় উত্তরাধিকারসূত্রে নামজারি হলে নতুন হোল্ডিংধারীর কর পরিশোধের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

তাই নামজারি শেষ হওয়ার পর রেকর্ডে নতুন মালিকদের তথ্য ঠিকমতো এসেছে কি না এবং ভূমি উন্নয়ন করের হিসাবও সঠিকভাবে হালনাগাদ হয়েছে কি না, তা দেখে নেওয়া ভালো।

নামজারি করতে গিয়ে যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন

ওয়ারিশ সনদ হাতে পাওয়ার পর তাড়াহুড়ো করে আবেদন করার বদলে কয়েকটি বিষয় আগে যাচাই করে নেওয়া উচিত।

প্রথমত, ওয়ারিশ সনদে সব উত্তরাধিকারীর নাম ঠিক আছে কি না দেখুন।

দ্বিতীয়ত, জমির খতিয়ান ও দাগ নম্বর সঠিকভাবে মিলিয়ে নিন।

তৃতীয়ত, প্রত্যেক ওয়ারিশের প্রাপ্য অংশের হিসাব ঠিক আছে কি না নিশ্চিত করুন।

চতুর্থত, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ অন্যান্য নথিতে নামের বানান একই কি না যাচাই করুন।

পঞ্চমত, ভূমি উন্নয়ন করের সর্বশেষ দাখিলা প্রস্তুত রাখুন।

ষষ্ঠত, অনলাইনে আবেদন করার সময় ভুল তথ্য বা ভুল নথি আপলোড করা থেকে সতর্ক থাকুন।

নামজারি শুধু কাগজের আনুষ্ঠানিকতা নয়

উত্তরাধিকারসূত্রে জমির মালিকানা পাওয়ার পর রেকর্ডে সেই পরিবর্তন প্রতিফলিত করা গুরুত্বপূর্ণ। ভূমি প্রশাসন সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনায়ও উত্তরাধিকার বা অন্যভাবে মালিকানা পরিবর্তনের ফলে খতিয়ানে পরিবর্তন আনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।

তাই ওয়ারিশ সনদ পাওয়ার পর কাজটি দীর্ঘদিন ফেলে না রেখে প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করে নামজারির আবেদন করা ভালো। একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, নামজারি একটি রেকর্ড হালনাগাদের প্রক্রিয়া; জমির মালিকানা নিয়ে কোনো জটিলতা বা বিরোধ থাকলে শুধু নামজারি সম্পন্ন হয়েছে বলেই সব ধরনের আইনগত প্রশ্নের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়ে যায়—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

সংক্ষেপে পুরো প্রক্রিয়া

ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ → ওয়ারিশ ও হিস্যা যাচাই → খতিয়ান/দাগের তথ্য মিলানো → প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত → অনলাইনে ই-নামজারি আবেদন → ফি পরিশোধ → ভূমি অফিসের যাচাই/প্রতিবেদন → প্রয়োজন হলে ঘাটতি পূরণ বা শুনানি → সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর সিদ্ধান্ত → অনুমোদিত নামজারি খতিয়ান

এই ধারাবাহিকতা বুঝে এগোলে ওয়ারিশ সনদ পাওয়ার পর জমির নামজারি করার প্রক্রিয়াটি অনেক সহজে বোঝা যায়। বর্তমানে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনলাইন ব্যবস্থার কারণে আবেদন থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধাপ ডিজিটালভাবে সম্পন্ন ও অনুসরণ করার সুযোগও রয়েছে।

FAQ

প্রশ্ন: ওয়ারিশ সনদ পাওয়ার পর কি জমি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওয়ারিশদের নামে হয়ে যায়?

উত্তর: না। ওয়ারিশ সনদ উত্তরাধিকারীদের পরিচয় ও উত্তরাধিকার সম্পর্কিত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। জমির রেকর্ডে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের জন্য নামজারি করতে হয়।

প্রশ্ন: ওয়ারিশ সনদের মেয়াদ কতদিন?

উত্তর: ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর ইস্যু করা ওয়ারিশ সনদের মেয়াদ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

প্রশ্ন: ওয়ারিশ সূত্রে নামজারি কি অনলাইনে করা যায়?

উত্তর: হ্যাঁ। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ই-নামজারি ব্যবস্থায় অনলাইনে আবেদন করা যায় এবং উত্তরাধিকারসূত্রে নামজারির ক্ষেত্রে ওয়ারিশ সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের স্ক্যান কপি সংযুক্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে।

প্রশ্ন: নামজারি আবেদনে কোনো কাগজের ঘাটতি থাকলে কি আবেদন সরাসরি বাতিল করা হয়?

উত্তর: সরকারি নির্দেশনায় প্রয়োজনীয় দলিল বা তথ্যের ঘাটতি থাকলে তা নির্দিষ্ট করে আবেদনকারীকে দাখিলের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

প্রশ্ন: নামজারি অনুমোদনের পর কী পাওয়া যায়?

উত্তর: নামজারি অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট ভূমি রেকর্ডে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হয় এবং অনুমোদিত ডিজিটাল নামজারি খতিয়ানের প্রিন্ট কপি সরবরাহের ব্যবস্থাও রয়েছে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ