ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলে কী করবেন? নবায়নের নিয়ম জানুন

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১২ ২২:০১:০৭
পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলে কী করবেন? নবায়নের নিয়ম জানুন

বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, অথচ পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ—এমন পরিস্থিতিতে প্রথম কাজ হলো নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা। বাংলাদেশে ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রে এ প্রক্রিয়াকে সাধারণত রি-ইস্যু বলা হয়। পুরোনো পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলে অনলাইনে আবেদন, নির্ধারিত ফি পরিশোধ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ পাসপোর্ট অফিসে বায়োমেট্রিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে নতুন পাসপোর্ট নেওয়া যায়।

তবে আবেদন করার আগে কয়েকটি বিষয় জানা জরুরি। পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগবে, কোন কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে এবং নতুন পাসপোর্ট পেতে কত দিন সময় লাগতে পারে—এসব নির্ভর করে পাসপোর্টের ধরন ও সরবরাহসেবার ওপর। তাই শেষ মুহূর্তে আবেদন না করে প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে আগেই প্রস্তুতি নেওয়া ভালো।

পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলে প্রথমে কী করবেন?

পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে নতুন ই-পাসপোর্টের জন্য রি-ইস্যুর আবেদন করতে হবে। এ জন্য ই-পাসপোর্টের সরকারি ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে।

সরকারি পোর্টাল: https://www.epassport.gov.bd/

আবেদনপত্রে নিজের নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা, পরিচয়পত্রের তথ্য এবং আগের পাসপোর্টের বিবরণ সঠিকভাবে দিতে হবে। পুরোনো পাসপোর্টের তথ্যের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনের তথ্যে অমিল থাকলে আবেদন জমা দেওয়ার আগেই বিষয়টি যাচাই করা উচিত।

আগের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়া, পাসপোর্টের পৃষ্ঠা শেষ হয়ে যাওয়া কিংবা নির্দিষ্ট তথ্য পরিবর্তনের প্রয়োজনেও রি-ইস্যুর আবেদন করা যেতে পারে। তবে তথ্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র জমা দিতে হতে পারে।

পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন করার নিয়ম

পাসপোর্ট রি-ইস্যুর পুরো প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করতে হয়।

প্রথমে অনলাইনে ফরম পূরণ করুন। সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টালে প্রবেশ করে রি-ইস্যুর আবেদন নির্বাচন করুন। ব্যক্তিগত তথ্য ও আগের পাসপোর্টের বিবরণ দিয়ে আবেদনপত্র পূরণ করুন। আগের পাসপোর্টের তথ্য অপরিবর্তিত থাকলে সরকারি ফরমের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অংশ পূরণ করতে হবে।

এরপর ফি পরিশোধ করুন। পাসপোর্টের পৃষ্ঠাসংখ্যা, মেয়াদ ও সরবরাহের ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত ফি দিতে হবে। অনলাইন পেমেন্ট বা অনুমোদিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ফি পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। পেমেন্টের রসিদ সংরক্ষণ করুন।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখুন। আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি, পরিচয়পত্র এবং আগের পাসপোর্টের মূল কপি সঙ্গে রাখতে হবে। আবেদনকারীর পরিস্থিতি অনুযায়ী অতিরিক্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে।

নির্ধারিত পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হন। আবেদনসংক্রান্ত নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হয়ে নথি যাচাই, ছবি, আঙুলের ছাপসহ প্রয়োজনীয় বায়োমেট্রিক কার্যক্রম সম্পন্ন করুন। এরপর আবেদনের অগ্রগতি অনুসরণ করতে পারবেন।

পাসপোর্ট রি-ইস্যু করতে কী কী কাগজপত্র লাগবে?

আবেদনের আগে প্রয়োজনীয় নথি গুছিয়ে রাখলে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা এড়ানো যায়। সাধারণত নিচের কাগজপত্রগুলো প্রস্তুত রাখা উচিত:

পূরণ করা ই-পাসপোর্ট আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি।

জাতীয় পরিচয়পত্র বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ।

আগের পাসপোর্টের মূল কপি।

পাসপোর্ট ফি পরিশোধের রসিদ বা চালান।

তথ্য পরিবর্তনের আবেদন হলে পরিবর্তনের পক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র।

সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলে অনাপত্তিপত্র (NOC), সরকারি আদেশ (GO) বা সংশ্লিষ্ট নথি।

পরিচয়পত্র হিসেবে কোন নথি গ্রহণযোগ্য হবে, তা বয়স ও আবেদনকারীর পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করতে পারে। ই-পাসপোর্টের সরকারি নির্দেশনায় মূল পরিচয়পত্র এবং আগের পাসপোর্ট প্রদর্শনের কথাও উল্লেখ রয়েছে। তাই আবেদন জমা দেওয়ার আগে সরকারি পোর্টালে নিজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কাগজপত্রের তালিকা যাচাই করুন।

পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে?

বাংলাদেশে ই-পাসপোর্টের ফি নির্ধারিত হয় পৃষ্ঠাসংখ্যা, মেয়াদ এবং সরবরাহের ধরন অনুযায়ী। সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টালে প্রকাশিত ফি তালিকায় ১৫ শতাংশ ভ্যাটসহ নিচের অঙ্কগুলো উল্লেখ রয়েছে।

৪৮ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের ক্ষেত্রে সাধারণ সরবরাহে ফি ৪ হাজার ২৫ টাকা, জরুরি সরবরাহে ৬ হাজার ৩২৫ টাকা এবং অতি জরুরি সরবরাহে ৮ হাজার ৬২৫ টাকা।

৪৮ পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের জন্য সাধারণ সরবরাহে ৫ হাজার ৭৫০ টাকা, জরুরি সরবরাহে ৮ হাজার ৫০ টাকা এবং অতি জরুরি সরবরাহে ১০ হাজার ৩৫০ টাকা দিতে হয়।

৬৪ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের ফি সাধারণ সরবরাহে ৬ হাজার ৩২৫ টাকা, জরুরি সরবরাহে ৮ হাজার ৬২৫ টাকা এবং অতি জরুরি সরবরাহে ১২ হাজার ৭৫ টাকা।

অন্যদিকে, ৬৪ পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের ক্ষেত্রে সাধারণ সরবরাহে ৮ হাজার ৫০ টাকা, জরুরি সরবরাহে ১০ হাজার ৩৫০ টাকা এবং অতি জরুরি সরবরাহে ১৩ হাজার ৮০০ টাকা নির্ধারিত রয়েছে।

মনে রাখবেন: পাসপোর্টের ফি পরিবর্তিত হতে পারে। আবেদন করার সময় সরকারি পোর্টালে প্রদর্শিত বর্তমান ফি যাচাই করে তারপর অর্থ পরিশোধ করুন। বিদেশে বাংলাদেশি মিশনের মাধ্যমে আবেদন করলে ফি আলাদা হতে পারে।

নতুন পাসপোর্ট পেতে কত দিন সময় লাগে?

ই-পাসপোর্টের সরকারি পোর্টালে প্রকাশিত সময়সীমা অনুযায়ী, সাধারণ সরবরাহে বায়োমেট্রিক কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর ১৫ কর্মদিবস বা ২১ দিন সময় লাগতে পারে। জরুরি সরবরাহের ক্ষেত্রে সময়সীমা ৭ কর্মদিবস বা ১০ দিন এবং অতি জরুরি সরবরাহে ২ কর্মদিবস উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এগুলো নির্ধারিত সেবার সাধারণ সময়সীমা। আবেদন যাচাই বা অন্য প্রশাসনিক কারণে পাসপোর্ট পেতে বেশি সময় লাগতে পারে। তাই ভিসা আবেদন, বিদেশে পড়াশোনা, চাকরি কিংবা ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে যথেষ্ট সময় হাতে রেখে আবেদন করা উচিত।

পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কি রি-ইস্যু করা যায়?

হ্যাঁ, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেও নতুন ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা যায়। বিশেষ করে বিদেশযাত্রার পরিকল্পনা থাকলে পাসপোর্টের মেয়াদ আগে থেকেই পরীক্ষা করা ভালো।

কোনো দেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের অবশিষ্ট মেয়াদ নিয়ে আলাদা শর্ত থাকতে পারে। তাই শুধু পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার অপেক্ষা না করে ভিসা ও গন্তব্য দেশের প্রবেশসংক্রান্ত নিয়মও যাচাই করুন।

পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে কী করবেন?

মেয়াদ শেষ হওয়ার পাশাপাশি পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে আবেদনপ্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে দ্রুত নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে। নতুন পাসপোর্টের আবেদনের সময় জিডির মূল কপি এবং পুরোনো পাসপোর্টের ফটোকপি থাকলে সেটিও জমা দিতে হবে।

হারিয়ে যাওয়া পাসপোর্টের ক্ষেত্রে আবেদনে প্রকৃত কারণ উল্লেখ করুন। শুধু মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্টের রি-ইস্যুর নিয়ম অনুসরণ না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন সম্পন্ন করুন।

আবেদন করার পর পাসপোর্টের অবস্থা জানবেন কীভাবে?

আবেদন জমা দেওয়ার পর পাসপোর্টের অগ্রগতি জানতে ই-পাসপোর্টের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন। সেখানে আবেদনসংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসরণ করে নিজের আবেদনের অবস্থা যাচাই করতে পারবেন। কোনো তথ্য অস্পষ্ট থাকলে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

আবেদনপত্র, ফি পরিশোধের রসিদ এবং আবেদনসংক্রান্ত নম্বর সংরক্ষণে রাখুন। এগুলো পরবর্তী সময়ে আবেদনের অবস্থা যাচাই বা প্রয়োজনীয় যোগাযোগের ক্ষেত্রে কাজে লাগতে পারে।

পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলে নতুন ই-পাসপোর্টের জন্য রি-ইস্যুর আবেদন করাই পরবর্তী পদক্ষেপ। অনলাইনে সঠিক তথ্য দিয়ে ফরম পূরণ, নির্ধারিত ফি পরিশোধ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা এবং বায়োমেট্রিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেওয়া যায়।

সবচেয়ে ভালো হলো, পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নিজের ভ্রমণ পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করা। এতে শেষ মুহূর্তে আবেদন, ফি বা কাগজপত্র নিয়ে জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা কমে।

৫টি প্রাসঙ্গিক FAQ

১. পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলে কি নতুন করে আবেদন করতে হবে?

হ্যাঁ। মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্টের ক্ষেত্রে সাধারণত নতুন ই-পাসপোর্টের জন্য রি-ইস্যুর আবেদন করতে হয়।

২. পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন কোথায় করব?

বাংলাদেশের সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টাল https://www.epassport.gov.bd/ থেকে আবেদন করতে পারবেন।

৩. পাসপোর্ট রি-ইস্যু করতে সর্বনিম্ন কত টাকা লাগে?

প্রকাশিত ফি তালিকা অনুযায়ী, ৪৮ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের সাধারণ সরবরাহ ফি ৪,০২৫ টাকা। আবেদনের সময় সরকারি পোর্টালে বর্তমান ফি যাচাই করতে হবে।

৪. পাসপোর্ট পেতে কত দিন সময় লাগে?

সরকারি পোর্টালের সময়সীমা অনুযায়ী, সাধারণ সরবরাহে ১৫ কর্মদিবস বা ২১ দিন, জরুরি সরবরাহে ৭ কর্মদিবস বা ১০ দিন এবং অতি জরুরি সরবরাহে ২ কর্মদিবস লাগতে পারে। প্রকৃত সময় পরিবর্তিত হতে পারে।

৫. পুরোনো পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে কী করতে হবে?

দ্রুত থানায় জিডি করতে হবে। এরপর পুরোনো পাসপোর্টের ফটোকপি থাকলে সেটি ও জিডির কপিসহ রি-ইস্যুর জন্য আবেদন করতে হবে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ