মালয়েশিয়া কলিং ভিসা ২০২৬: মেডিকেল কবে, খরচ কত?
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া আবারও শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ১৫ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে কর্মী পাঠানোর জন্য ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে যুক্ত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল), ২৫টি বেসরকারি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি এবং ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সি। একই সঙ্গে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে নিয়োগের বিষয়ে মালয়েশিয়ার সম্মতির কথাও জানিয়েছে সরকার। তবে মালয়েশিয়া কলিং ভিসার মেডিকেল শুরুর নির্দিষ্ট দিন, সাধারণ কর্মীদের জন্য মোট অভিবাসন ব্যয় এবং যাত্রার সময়সূচি এখনো স্পষ্ট নয়।
মালয়েশিয়া কলিং ভিসার মেডিকেল কবে থেকে শুরু হবে?
২০২৬ সালের ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত কেন্দ্রগুলোর তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। ফলে মেডিকেল পরীক্ষা শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর ১৫ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ায় যেতে ইচ্ছুক কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলমান। অন্যদিকে, দ্য ডেইলি স্টার-এর ১৬ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেডিকেল, ভিসা প্রসেসিং ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা পরিচালনার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আরও স্পষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন।
এ অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো নির্দিষ্ট তারিখকে মেডিকেল শুরুর চূড়ান্ত ঘোষণা হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং সংশ্লিষ্ট অনুমোদিত কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করাই নিরাপদ।
মালয়েশিয়া যেতে কত টাকা লাগবে ২০২৬ সালে?
মালয়েশিয়ায় কাজের ভিসায় যেতে কত টাকা লাগবে, তার একক ও চূড়ান্ত অঙ্ক এখনই বলা সম্ভব নয়। কারণ, নতুন নিয়োগব্যবস্থায় সাধারণ কর্মীদের জন্য মোট অভিবাসন ব্যয় কত হবে, তা সরকারিভাবে স্পষ্ট করা হয়নি। বিমানভাড়া, ভিসা প্রক্রিয়াকরণ, মেডিকেল পরীক্ষা এবং অন্যান্য অনুমোদিত খরচের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা প্রকাশের অপেক্ষা রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে ১০ হাজার কর্মীকে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি পাওয়া গেছে। এটি সব কর্মীর জন্য বিনা খরচে মালয়েশিয়া যাওয়ার নিশ্চয়তা নয়। কারা এই সুযোগ পাবেন, কীভাবে কর্মী নির্বাচন হবে এবং কোন খরচগুলো এর আওতায় থাকবে—এসব বিষয় স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
আগের নিয়োগপর্বের অভিজ্ঞতাও কর্মপ্রত্যাশীদের সতর্ক হওয়ার কারণ। দ্য ডেইলি স্টার-এর প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ভেরিতের একটি জরিপের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের নিয়োগপর্বে মালয়েশিয়ায় যেতে কর্মীদের গড় ব্যয় হয়েছিল ৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। সে সময় সরকার নির্ধারিত ব্যয় ছিল ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা। এই পরিসংখ্যান আগের সময়ের; একে ২০২৬ সালের নির্ধারিত খরচ হিসেবে ধরা যাবে না।
তাই কোনো এজেন্সি বা দালাল যদি মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট অঙ্ক দাবি করে, তাহলে টাকা দেওয়ার আগে লিখিত খরচের বিবরণ, চাকরির চুক্তিপত্র এবং সরকারি অনুমোদন যাচাই করা জরুরি।
মালয়েশিয়ার নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কোন এজেন্সি কাজ করবে?
নতুন ব্যবস্থায় মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর কাজে মোট ৩৩৮টি এজেন্সিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারি ঘোষণায় তাদের ভূমিকা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
- বোয়েসেল: সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কর্মী নিয়োগ ও বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকবে।
- ২৫টি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি: কলিং ভিসা, ই-ভিসা এবং মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কাজ করবে।
- ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সি: মালয়েশিয়ায় নিয়োগকর্তা খোঁজা, চাকরির চাহিদাপত্র সংগ্রহ এবং বাংলাদেশে কর্মী বাছাইয়ের কাজ করতে পারবে।
নিয়োগপ্রক্রিয়ার পর সংশ্লিষ্ট এজেন্সিকে বিএমইটির মাধ্যমে কর্মীর বহির্গমন ছাড়পত্রের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অনুমোদিত এজেন্সির তালিকায় নাম থাকলেই কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির চাকরি বা ভিসা নিশ্চিত হয়ে যায় না। প্রকৃত নিয়োগকর্তা, বৈধ চাকরির চাহিদাপত্র এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন থাকতে হবে।
মালয়েশিয়া যাওয়ার আগে মেডিকেল পরীক্ষা নিয়ে যা জানা জরুরি
বিদেশে কাজ করতে যাওয়ার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিয়োগপ্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য কোন মেডিকেল সেন্টারে পরীক্ষা করাতে হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন অনুযায়ী নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
নতুন নিয়োগব্যবস্থায় মেডিকেল সেন্টারগুলোর তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ চলমান বলে জানানো হয়েছে। মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে মেডিকেল সুবিধা পরিদর্শন করার পর নতুন তালিকা চূড়ান্ত করার পরিকল্পনার কথাও প্রতিবেদনে এসেছে।
এ কারণে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় যাচাই করুন:
- সংশ্লিষ্ট মেডিকেল সেন্টারটি মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত কি না।
- মেডিকেল পরীক্ষার ফি কত এবং এর সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক রসিদ দেওয়া হবে কি না।
- আপনার চাকরির চাহিদাপত্র ও নিয়োগপ্রক্রিয়া বৈধ কি না।
- পরীক্ষার রিপোর্ট কোথায় এবং কীভাবে জমা দিতে হবে।
শুধু মেডিকেল করালেই ভিসা পাওয়া বা মালয়েশিয়া যাওয়া নিশ্চিত হয় না। নিয়োগকর্তার অনুমোদন, ভিসা এবং বিএমইটির ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় ধাপ সম্পন্ন করতে হয়।
মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য এখন কী প্রস্তুতি নেবেন?
মেডিকেল শুরুর তারিখের অপেক্ষায় থাকলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা যেতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ছাড়া কোনো অর্থ লেনদেন বা মেডিকেল পরীক্ষা শুরু করবেন না।
প্রথমে পাসপোর্টের মেয়াদ যাচাই করুন। এরপর নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র, প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য এবং চাকরিসংক্রান্ত কাগজপত্র প্রস্তুত রাখুন। কোনো এজেন্সির মাধ্যমে চাকরির প্রস্তাব পেলে নিয়োগকর্তার পরিচয়, কাজের ধরন, বেতন, কর্মঘণ্টা এবং চুক্তির শর্ত যাচাই করুন।
সরকারের নতুন নিয়োগব্যবস্থায় কর্মী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হবে, তা সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ের ১০ হাজার কর্মীর সুযোগ পেতে কারা আবেদন করতে পারবেন, তা নিয়ে চূড়ান্ত নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত কোনো মধ্যস্থতাকারীর আশ্বাসের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।
দালালের প্রতারণা থেকে বাঁচতে সতর্ক থাকুন
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিসা ও মেডিকেলের নামে অর্থ দাবি করার ঝুঁকিও রয়েছে। কেউ যদি বলে, নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিলেই কলিং ভিসা, মেডিকেল বা বিমানের টিকিট নিশ্চিত করে দেবে, তাহলে আগে তার দাবির সত্যতা যাচাই করুন।
মনে রাখবেন, বৈধ নিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু ভিসার কাগজ দেখাই যথেষ্ট নয়। চাকরির চুক্তি, নিয়োগকর্তার তথ্য, সংশ্লিষ্ট এজেন্সির বৈধতা এবং সরকারি ছাড়পত্রের বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারি তথ্য যাচাইয়ের জন্য নিচের ওয়েবসাইটগুলো দেখতে পারেন:
- [প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়](https://probashi.gov.bd/)
- [জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)](https://bmet.gov.bd/)
- [ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্ম](https://www.oep.gov.bd/)
মালয়েশিয়া কলিং ভিসা ২০২৬: সর্বশেষ পরিস্থিতি
সব মিলিয়ে, ১৫ অক্টোবর ২০২৬-এ মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। কিন্তু মেডিকেল পরীক্ষার নির্দিষ্ট তারিখ, সাধারণ কর্মীদের মোট অভিবাসন ব্যয় এবং যাত্রার সময়সূচি সম্পর্কে এখনো স্পষ্ট তথ্য প্রয়োজন। শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে ১০ হাজার কর্মী নিয়োগের বিষয়ে সম্মতি থাকলেও সেই সুযোগের শর্ত ও যোগ্যতা আলাদাভাবে নিশ্চিত করতে হবে।
সুতরাং, মালয়েশিয়া যেতে আগ্রহীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সরকারি নির্দেশনা যাচাই করা, অনুমোদিত প্রক্রিয়ায় এগোনো এবং খরচ সম্পর্কে লিখিত নিশ্চয়তা ছাড়া কাউকে টাকা না দেওয়া।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. মালয়েশিয়া কলিং ভিসার মেডিকেল কবে থেকে শুরু হবে?
১৬ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত মেডিকেল শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ নিশ্চিত করা যায়নি। অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনার বিষয়ে সরকারি ঘোষণা অনুসরণ করতে হবে।
২. ২০২৬ সালে মালয়েশিয়া যেতে কত টাকা লাগবে?
সাধারণ কর্মীদের জন্য মোট অভিবাসন ব্যয় এখনো চূড়ান্তভাবে স্পষ্ট নয়। তাই নির্দিষ্ট অঙ্ককে সরকারি নির্ধারিত খরচ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
৩. মালয়েশিয়ায় কি বিনা খরচে যাওয়া যাবে?
সরকারের ঘোষণায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে নিয়োগের বিষয়ে নীতিগত সম্মতির কথা বলা হয়েছে। তবে কারা এই সুযোগ পাবেন এবং কী কী খরচ এর আওতায় থাকবে, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
৪. যেকোনো মেডিকেল সেন্টারে পরীক্ষা করানো যাবে কি?
না। মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার ও নির্দেশনা যাচাই করে পরীক্ষা করানো উচিত।
৫. কলিং ভিসার জন্য এখনই কি টাকা জমা দেওয়া উচিত?
না, সরকারি নির্দেশনা, বৈধ চাকরির কাগজপত্র এবং অনুমোদিত প্রক্রিয়া যাচাই না করে টাকা জমা দেওয়া উচিত নয়। প্রতিটি লেনদেনের লিখিত প্রমাণ ও রসিদ রাখুন।
আল-মামুন/