ঢাকা, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

এল ক্লাসিকোয় বার্সাকে ছাড়াল রিয়াল, জয়ের হিসাবে নতুন ইতিহাস

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৬ ১০:৩৩:৩৭
এল ক্লাসিকোয় বার্সাকে ছাড়াল রিয়াল, জয়ের হিসাবে নতুন ইতিহাস

এল ক্লাসিকোর ইতিহাসে এত দিন দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর জয়ের পাল্লা ছিল সমান। সেই সমীকরণ বদলে দিল কিলিয়ান এমবাপের জোড়া গোলের ম্যাচ। লা লিগার মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোয় বার্সেলোনাকে ২-১ গোলে হারিয়ে মুখোমুখি লড়াইয়ে এককভাবে এগিয়ে গেল রিয়াল মাদ্রিদ। ২৬৫ ম্যাচের হিসাবে মাদ্রিদের ক্লাবটির জয় এখন ১০৭টি, আর বার্সেলোনার জয় ১০৬টি। দুই দলের ৫২টি ম্যাচ শেষ হয়েছে ড্রয়ে।

এই জয় বার্সেলোনার জন্য ঘরের মাঠেও বড় ধাক্কা। সংস্কার শেষে ২০২৪ সালের নভেম্বরে ন্যু ক্যাম্পে ফেরার পর সেখানে লিগে টানা ১৮ ম্যাচ জিতেছিল কাতালানরা। রিয়ালের কাছে হেরে প্রথমবারের মতো সেই মাঠে লিগ ম্যাচে পরাজিত হলো তারা। পাশাপাশি লা লিগার প্রথম ১০ ম্যাচে টানা জয়ের রেকর্ড গড়ার সুযোগও হাতছাড়া করেছে হেনসি ফ্লিকের দল।

গোলের ব্যবধানেও চার ধাপ এগিয়ে রিয়াল

এল ক্লাসিকোর পরিসংখ্যানে শুধু জয়ের হিসাবেই নয়, গোলসংখ্যাতেও এগিয়ে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। দুই দলের মুখোমুখি ম্যাচগুলোতে রিয়ালের গোল ৪৪৬টি, আর বার্সেলোনার গোল ৪৪২টি। অর্থাৎ, ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রিয়ালের গোলের ব্যবধান চার।

সর্বশেষ জয়ের ফলে দুই দলের মধ্যে জয়ের ব্যবধানও তৈরি হয়েছে। ম্যাচটির আগে ২৬৪টি লড়াইয়ে উভয় দলই জিতেছিল ১০৬টি করে ম্যাচ। এবার ২৬৫তম সাক্ষাতে জয় তুলে নিয়ে রিয়াল নিজেদের জয়সংখ্যা ১০৭-এ উন্নীত করেছে। ফলে বার্সেলোনা এখন এক জয়ে পিছিয়ে।

যে ভুলে প্রথম গোলের সুযোগ পায় রিয়াল

ম্যাচের প্রথমার্ধে গোলের জন্য বার্সেলোনার রক্ষণভাগের একটি ভুল কাজে লাগায় রিয়াল। বিরতি আসার চার মিনিট আগে ইয়াও দিওমান্দের নিচু ক্রস সামলাতে গিয়ে বল ঠিকভাবে ক্লিয়ার করতে পারেননি স্বাগতিক ডিফেন্ডার জেরার্ড মার্তিন। বলটি কিলিয়ান এমবাপের গায়ে লেগে দিক বদলে গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়ার পাশ দিয়ে জালে চলে যায়।

এই গোলের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে বার্সেলোনা। বিরতির পর ১৬ মিনিটের মাথায় পেদ্রির পাস পেয়ে গোল করেন অধিনায়ক রাফিনিয়া। জুড বেলিংহ্যামের পায়ের ফাঁক দিয়ে নেওয়া তাঁর শট দূরের কোণ দিয়ে জালে প্রবেশ করলে স্কোরলাইন হয় ১-১।

শেষ দিকে এমবাপের গোলেই নির্ধারিত জয়

সমতায় ফেরার পর বার্সেলোনার সামনে ম্যাচ থেকে পয়েন্ট পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল, লড়াইটি ড্রয়েই শেষ হতে পারে। কিন্তু শেষ দিকে রিয়ালের আক্রমণ সেই সম্ভাবনা বদলে দেয়।

মাঝমাঠ থেকে বেলিংহ্যামের দক্ষতায় আক্রমণ গড়ে ওঠে। এরপর বদলি খেলোয়াড় এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা বল নিয়ে এগিয়ে এমবাপেকে পাস দেন। ফাঁকা জালে বল পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। ম্যাচের ৮৭ মিনিটে পাওয়া এই গোলেই ২-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয় রিয়ালের।

রিয়ালের রেকর্ড ছোঁয়ার পরও বার্সার লক্ষ্য অপূর্ণ

এই ম্যাচে বার্সেলোনার সামনে আরেকটি ঐতিহাসিক অর্জনের সুযোগ ছিল। ১৯৬৮-৬৯ মৌসুমে লা লিগার প্রথম নয়টি ম্যাচেই জিতেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। চলতি মৌসুমে প্রথম নয় ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে সেই কীর্তিতে ভাগ বসিয়েছিল বার্সেলোনা।

এল ক্লাসিকোয় জিতলে টানা ১০ ম্যাচে জয় নিয়ে রিয়ালের রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারত ফ্লিকের দল। কিন্তু চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে পরাজয়ে সেই সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়। ফলে ম্যাচটি বার্সেলোনার জন্য শুধু ঘরের মাঠে লিগে প্রথম হারের ঘটনা নয়, রেকর্ড গড়ার সুযোগ হারানোরও স্মৃতি হয়ে থাকল।

অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদের জন্য এই জয় একসঙ্গে দুটি তাৎপর্যপূর্ণ অর্জন এনে দিয়েছে—এল ক্লাসিকোয় জয়ের হিসাবে এগিয়ে যাওয়া এবং গোলসংখ্যার ব্যবধান চারটিতে ধরে রাখা।

FAQ: সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

১. এল ক্লাসিকোর সর্বশেষ ম্যাচে কে জিতেছে?

রিয়াল মাদ্রিদ বার্সেলোনাকে ২-১ গোলে হারিয়েছে।

২. এল ক্লাসিকোর ইতিহাসে কোন দল বেশি ম্যাচ জিতেছে?

২৬৫তম ম্যাচের পর রিয়াল মাদ্রিদের জয় ১০৭টি, আর বার্সেলোনার জয় ১০৬টি। ৫২টি ম্যাচ ড্র হয়েছে।

৩. এল ক্লাসিকোয় দুই দলের গোলসংখ্যা কত?

রিয়াল মাদ্রিদের গোল ৪৪৬টি এবং বার্সেলোনার গোল ৪৪২টি। গোলের হিসাবে রিয়াল চার গোলে এগিয়ে।

৪. ন্যু ক্যাম্পে বার্সেলোনার টানা জয়ের ধারাটি কত ম্যাচের ছিল?

সংস্কার শেষে ২০২৪ সালের নভেম্বরে ন্যু ক্যাম্পে ফেরার পর বার্সেলোনা সেখানে টানা ১৮টি লিগ ম্যাচ জিতেছিল। রিয়ালের কাছে হেরে সেই ধারার অবসান হয়েছে।

৫. বার্সেলোনা কোন রেকর্ডটি গড়তে পারেনি?

১৯৬৮-৬৯ মৌসুমে লা লিগার প্রথম নয়টি ম্যাচে জয় পেয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। বার্সেলোনা এবার সেই রেকর্ড স্পর্শ করলেও এল ক্লাসিকোয় হেরে টানা ১০ ম্যাচে জয়ের নতুন রেকর্ড গড়তে পারেনি।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: