ঢাকা, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

পাসপোর্টে তথ্য সংশোধন করতে কত টাকা লাগে, জানুন নিয়ম

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৫ ১৬:২৬:৫৭
পাসপোর্টে তথ্য সংশোধন করতে কত টাকা লাগে, জানুন নিয়ম

বাংলাদেশে পাসপোর্টে নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম কিংবা অন্য কোনো তথ্য ভুল থাকলে তা সংশোধনের আগে জানতে হবে, ভুলটি আবেদনপত্রে হয়েছে, নাকি ইতিমধ্যে ইস্যু হওয়া পাসপোর্টে রয়েছে। কারণ, দুই পরিস্থিতিতে করণীয় এক নয়। ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্রে জমা দেওয়া তথ্য সংশোধনের জন্য আলাদা করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। অন্যদিকে, ইস্যু হওয়া পাসপোর্টে তথ্য পরিবর্তন করতে হলে অনেক ক্ষেত্রে রি-ইস্যুর আবেদন, নির্ধারিত ফি এবং প্রমাণপত্র জমা দিতে হয়।

ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি যাচাই করা হতে পারে। বিশেষ করে নাম, জন্মতারিখ, জন্মস্থান কিংবা বাবা-মায়ের নামের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবর্তন করতে চাইলে অতিরিক্ত যাচাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে। তাই পাসপোর্ট সংশোধনের খরচ জানার পাশাপাশি কোন কাগজপত্র লাগবে এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে, সেটিও জানা জরুরি।

পাসপোর্টে তথ্য সংশোধন করতে কত টাকা লাগে?

পাসপোর্টের তথ্য সংশোধনের জন্য সবার ক্ষেত্রে একই অঙ্কের টাকা লাগে না। আবেদনটি কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করতে হবে কি না, তার ওপর খরচ নির্ভর করে।

আবেদনপত্রে ভুল থাকলে: ই-পাসপোর্টের আবেদন জমা দেওয়ার পর ভুল ধরা পড়লে প্রিন্ট করা ‘Application Summary’ এবং সঠিক তথ্যের প্রমাণপত্র নিয়ে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী, এনরোলমেন্টের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় যাচাই করে ভুল তথ্য সংশোধনের ব্যবস্থা করতে পারেন। এ জন্য আলাদা করে কোনো ব্যক্তি বা দালালকে টাকা দেওয়া উচিত নয়।

ইস্যু হওয়া পাসপোর্টে তথ্য পরিবর্তন করতে হলে: পাসপোর্টের তথ্য পরিবর্তনের জন্য রি-ইস্যুর আবেদন প্রয়োজন হলে পাসপোর্টের ধরন, পৃষ্ঠা, মেয়াদ ও ডেলিভারির ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত ফি প্রযোজ্য হতে পারে। তাই শুধু ‘তথ্য সংশোধনের ফি’ নামে একটি নির্দিষ্ট অঙ্ক ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

পাসপোর্টে ছাপার ভুল থাকলে: আবেদনকারী সঠিক তথ্য দিয়েছিলেন, কিন্তু পাসপোর্টে তা ভুলভাবে ছাপা হয়েছে—এমন ক্ষেত্রে করণীয় সাধারণ তথ্য পরিবর্তনের আবেদন থেকে আলাদা হতে পারে। পাসপোর্টের কপি ও মূল কাগজপত্র নিয়ে সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ করে কোন প্রক্রিয়া প্রযোজ্য, তা নিশ্চিত করা উচিত।

ই-পাসপোর্ট রি-ইস্যুর সরকারি ফি কত?

পাসপোর্টে তথ্য পরিবর্তনের কারণে নতুন ই-পাসপোর্ট ইস্যু করতে হলে প্রযোজ্য রি-ইস্যু ফি জানতে সরকারি পোর্টালের সর্বশেষ তালিকা দেখতে হবে। বাংলাদেশে ই-পাসপোর্টের প্রকাশিত ফি তালিকা অনুযায়ী, ৪৮ বা ৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট এবং ৫ বা ১০ বছর মেয়াদের ভিত্তিতে ফি আলাদা হয়। ডেলিভারির ধরন অনুযায়ীও খরচ পরিবর্তিত হয়।

বর্তমানে সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টালে প্রকাশিত ফি তালিকায় বাংলাদেশে আবেদনের ক্ষেত্রে ফি হলো:

৪৮ পৃষ্ঠা, ৫ বছর মেয়াদ: সাধারণ ডেলিভারি ৪,০২৫ টাকা, জরুরি ডেলিভারি ৬,৩২৫ টাকা, অতি জরুরি ডেলিভারি ৮,৬২৫ টাকা।

৪৮ পৃষ্ঠা, ১০ বছর মেয়াদ: সাধারণ ডেলিভারি ৫,৭৫০ টাকা, জরুরি ডেলিভারি ৮,০৫০ টাকা, অতি জরুরি ডেলিভারি ১০,৩৫০ টাকা।

৬৪ পৃষ্ঠা, ৫ বছর মেয়াদ: সাধারণ ডেলিভারি ৬,৩২৫ টাকা, জরুরি ডেলিভারি ৮,৬২৫ টাকা, অতি জরুরি ডেলিভারি ১২,০৭৫ টাকা।

৬৪ পৃষ্ঠা, ১০ বছর মেয়াদ: সাধারণ ডেলিভারি ৮,০৫০ টাকা, জরুরি ডেলিভারি ১০,৩৫০ টাকা, অতি জরুরি ডেলিভারি ১৩,৮০০ টাকা।

এই অঙ্কগুলো ই-পাসপোর্টের প্রকাশিত ফি তালিকার ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে; এগুলোকে সব ধরনের তথ্য সংশোধনের জন্য আলাদা নির্ধারিত ফি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। আপনার আবেদনটি রি-ইস্যু হিসেবে গ্রহণ করা হলে প্রযোজ্য ফি নিশ্চিত করে তারপর অর্থ পরিশোধ করুন।

ফি ও পরিশোধের পদ্ধতি যাচাই করতে সরকারি পোর্টাল দেখুন: https://epassport.gov.bd/instructions/passport-fees

কোন তথ্য সংশোধন করতে কী কাগজপত্র লাগে?

পাসপোর্টে কী ধরনের ভুল রয়েছে, তার ওপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নির্ভর করে। সাধারণভাবে নিচের নথিগুলো প্রস্তুত রাখা উপকারী।

নিজের নাম বা বাবা-মায়ের নাম সংশোধন: জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ, আগের পাসপোর্ট এবং সংশোধিত তথ্যের পক্ষে গ্রহণযোগ্য সরকারি নথি লাগতে পারে। নামের বড় ধরনের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাই বা অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে।

জন্মতারিখ সংশোধন: এনআইডি বা জন্মনিবন্ধন সনদসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রমাণপত্র জমা দিতে হতে পারে। জন্মতারিখের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত যাচাই করতে পারে।

বৈবাহিক অবস্থা পরিবর্তন: বিবাহিত হলে বিবাহ সনদ বা কাবিননামা এবং বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে থাকলে প্রযোজ্য তালাকনামা বা বিচ্ছেদের সনদ প্রয়োজন হতে পারে।

পেশা পরিবর্তন: পেশার ধরন অনুযায়ী পেশাগত সনদ, শিক্ষার্থী পরিচয়পত্র বা সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র চাওয়া হতে পারে।

ঠিকানা সংশোধন: স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানার পরিবর্তন অনুযায়ী এনআইডি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি প্রয়োজন হতে পারে।

এগুলো সম্ভাব্য প্রয়োজনীয় নথির উদাহরণ। সব আবেদনকারীর জন্য একই কাগজপত্র বাধ্যতামূলক নয়। আবেদন করার আগে সরকারি নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসের চাহিদা যাচাই করা উচিত।

প্রথমে পাসপোর্টে থাকা ভুল তথ্য এবং সরকারি নথিতে থাকা সঠিক তথ্য মিলিয়ে নিন। নাম, জন্মতারিখ ও বাবা-মায়ের নামের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ক্ষেত্রে এনআইডি বা জন্মনিবন্ধনের সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকা জরুরি।

এরপর ভুলটি আবেদনের পর্যায়ে, নাকি ইস্যু হওয়া পাসপোর্টে—তা নির্ধারণ করুন। আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু পাসপোর্ট এখনো ইস্যু হয়নি, এমন ক্ষেত্রে প্রিন্ট করা Application Summary এবং সঠিক তথ্যের প্রমাণপত্র নিয়ে সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ করুন।

ইতিমধ্যে পাসপোর্ট ইস্যু হয়ে গেলে তথ্য পরিবর্তনের জন্য রি-ইস্যু আবেদন করতে হতে পারে। সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টালে অনলাইনে আবেদন পূরণ করার সময় পরিবর্তিত তথ্যের জন্য নির্ধারিত অংশ যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আগের পাসপোর্ট এবং প্রযোজ্য ফি-সংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

আবেদনের সময় মূল পাসপোর্ট ও সংশ্লিষ্ট নথি সঙ্গে রাখুন। কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে প্রক্রিয়া শেষ হতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে।

নাম বা জন্মতারিখ পরিবর্তন করলে কি পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়?

পাসপোর্টের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে। বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগের পাসপোর্টের তথ্য অপরিবর্তিত রেখে নতুন পাসপোর্টের আবেদন এবং নাম, বাবা-মায়ের নাম, জন্মতারিখ, জন্মস্থান, লিঙ্গ বা স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করে আবেদন করার প্রক্রিয়া এক নয়।

বিশেষ করে মৌলিক তথ্য পরিবর্তন করে আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ের কারণে পাসপোর্ট পেতে বেশি সময় লাগতে পারে। তবে প্রতিটি আবেদনের ক্ষেত্রে একই ধরনের যাচাই হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। আবেদনকারীর নথি ও পরিবর্তনের ধরন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পাসপোর্ট সংশোধনে দালালকে টাকা দেওয়া কি জরুরি?

না। ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্রে জমা দেওয়া তথ্য সংশোধনের জন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে সরকারি পোর্টালে স্পষ্ট সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। পাসপোর্টের ফি পরিশোধের ক্ষেত্রেও কেবল অনুমোদিত পদ্ধতি ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।

কেউ দ্রুত সংশোধন, বিশেষ অনুমোদন বা সমস্যা সমাধানের কথা বলে অননুমোদিত অর্থ দাবি করলে সতর্ক থাকুন। টাকা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করে সরকারি নিয়ম ও প্রযোজ্য ফি নিশ্চিত করুন।

কোথায় যোগাযোগ করবেন?

তথ্য সংশোধনের প্রক্রিয়া বা খরচ নিয়ে সন্দেহ থাকলে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট এবং ই-পাসপোর্ট পোর্টালের নির্দেশনা অনুসরণ করুন। আবেদন জমা দেওয়ার পর ভুল ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করাই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।

প্রাসঙ্গিক FAQ

১. পাসপোর্টে তথ্য সংশোধন করতে কি আলাদা ফি দিতে হয়?

আবেদনপত্রে জমা দেওয়া তথ্য সংশোধনের জন্য আলাদা অর্থ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে ইস্যু হওয়া পাসপোর্টে তথ্য পরিবর্তন করতে রি-ইস্যু প্রয়োজন হলে প্রযোজ্য পাসপোর্ট ফি লাগতে পারে।

২. পাসপোর্টে নামের বানান ভুল হলে কী করতে হবে?

এনআইডি বা প্রযোজ্য সরকারি নথিতে থাকা সঠিক নামের প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। ভুলটি আবেদনপত্রে, নাকি ইস্যু হওয়া পাসপোর্টে—তার ভিত্তিতে প্রক্রিয়া নির্ধারিত হবে।

৩. জন্মতারিখ সংশোধন করতে কী কাগজপত্র লাগে?

সাধারণত এনআইডি বা জন্মনিবন্ধনসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রমাণপত্র প্রয়োজন হতে পারে। জন্মতারিখ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাইও হতে পারে।

৪. পাসপোর্টে তথ্য সংশোধন করলে কি পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়?

নাম, জন্মতারিখসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যাচাই বা পুলিশ ভেরিফিকেশনের প্রয়োজন হতে পারে। এটি সব আবেদনের ক্ষেত্রে একই রকম নয়।

৫. পাসপোর্ট সংশোধনের ফি কোথায় যাচাই করব?

ই-পাসপোর্টের সরকারি ফি তালিকা দেখতে https://epassport.gov.bd/instructions/passport-fees ওয়েবসাইটে যান। অর্থ পরিশোধের আগে নিজের আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ফি নিশ্চিত করুন।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত: