সেন্ট মার্টিন যেতে চান? কত টাকা ফি? এবার কী কী নিয়ম, জেনে নিন
গত বছর যেখানে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ ছিল, এবার সেই সময়সীমা ৪৫ দিন বাড়িয়ে সাড়ে চার মাস করা হয়েছে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত সেন্ট মার্টিনে যাতায়াত করতে পারবেন পর্যটকেরা। একই সঙ্গে দিনে যাওয়ার সীমাও বেড়েছে। আগে দুই হাজার জনের সুযোগ থাকলেও এবার তা সাড়ে তিন হাজার।
রোববার পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব সাবরীনা রহমানের পাঠানো এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
যাওয়ার আগে জেনে নিন
দ্বীপে যেতে হলে টিকেট কিনতে হবে অনলাইনে, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অনুমোদিত ওয়েব পোর্টাল থেকে। টিকেটে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড যুক্ত থাকবে। কিউআর কোড না থাকলে সেই টিকেট অবৈধ বলে গণ্য হবে।
যাত্রা শুরু হবে কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া ঘাট থেকে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুধু এই ঘাট থেকে অনুমোদিত পর্যটকবাহী জাহাজই সেন্ট মার্টিনে চলাচল করতে পারবে। ওই পথে জাহাজ চালাতে নৌযান মালিকদের বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ, নৌপরিবহন অধিদপ্তর এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হবে।
দ্বীপে ভ্রমণের সময়সূচি ও পর্যটকের সংখ্যা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। গড়ে প্রতিদিন ৩ হাজার ৫০০ জনের বেশি পর্যটক যেতে পারবেন না। প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা করে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে।
কবে রাত কাটানো যাবে
নভেম্বর মাসে শুধু দিনের বেলায় ঘুরে আসা যাবে, রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ। নভেম্বরের পরের সময়ে রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকবে।
যেসব কাজে নিষেধাজ্ঞা
২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর আরোপ করা বিধিনিষেধগুলো এবারও বহাল থাকবে বলে চিঠিতে উল্লেখ আছে। নিষেধের তালিকায় রয়েছে:
রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি বা বারবিকিউ পার্টি করা।
কেয়াবনে প্রবেশ এবং কেয়া ফল সংগ্রহ ও বিক্রি।
সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ জীববৈচিত্র্যের যেকোনো ক্ষতি। এ ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা কঠোর।
সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইক বা যেকোনো মোটরচালিত যানবাহন চালানো। এটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।পলিথিন বহন।
চিপসের প্যাকেট, স্ট্র, মিনিপ্যাক সাবান-শ্যাম্পু, ছোট প্লাস্টিক বোতলের মতো একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক।
প্লাস্টিকের বোতলের বদলে নিজের পানির ফ্লাস্ক নিয়ে যাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
এসব সিদ্ধান্ত যেভাবে হলো
চিঠি অনুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
পুরো মৌসুমের সম্ভাব্য হিসাব
অনুমোদিত ১৩৫ দিনের প্রতিদিনই যদি সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্যটক বেড়াতে যান, তাহলে মোট ভ্রমণকারী হবেন ৪ লাখ ৭২ হাজার ৫০০ জন। সে ক্ষেত্রে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি বাবদ আদায় হতে পারে ৪ কোটি ৭২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. এবার কবে থেকে কবে পর্যন্ত সেন্ট মার্টিনে যাওয়া যাবে?
১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত। মোট সময় সাড়ে চার মাস।
২. প্রতিদিন কতজন পর্যটক যেতে পারবেন?
গড়ে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ জন। আগে এই সংখ্যা ছিল দুই হাজার।
৩. কোন ঘাট থেকে জাহাজ চলবে?
কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া ঘাট থেকে শুধু অনুমোদিত পর্যটকবাহী জাহাজ চলতে পারবে।
৪. টিকেট কীভাবে কাটতে হবে?
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অনুমোদিত ওয়েব পোর্টালে অনলাইনে। কিউআর কোড ছাড়া টিকেট অবৈধ বলে গণ্য হবে।
৫. পরিবেশ সংরক্ষণ ফি কত?
জনপ্রতি ১০০ টাকা।
৬. নভেম্বরে কি রাত কাটানো যাবে?
না। নভেম্বর মাসে শুধু দিনের বেলায় ভ্রমণ করা যাবে। এর পরের সময়ে রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকবে।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- দলিল রেজিস্ট্রি হয়েছে কি না যাচাই করবেন যেভাবে
- ওয়ানডে দলে ফিরবেন মুশফিক-রিয়াদ? ব্যাটিং কোচ হচ্ছেন ডি ভিলিয়ার্স?
- জমির দাগ, খতিয়ান ও নকশা যাচাইয়ের সহজ নিয়ম
- জমির দলিল হারালে নকল তুলতে কত টাকা খরচ হবে?
- টেক্সটাইল খাতে সংকট, বন্ধ ১৪ কোম্পানির কারখানা,বিপাকে বিনিয়োগকারীরা
- আজকের টাকার রেট কত: কমেছে ৯টি দেশের টাকার মান
- আজকের টাকার রেট কত: বেড়েছে ৬টি দেশের টাকার মান