ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

iQOO 16: ১৬৫Hz ডিসপ্লে ও ৮৪০০mAh ব্যাটারিতে নতুন ফোন

তথ্য ও প্রযুক্তি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৩ ১৭:০৬:০৪
iQOO 16: ১৬৫Hz ডিসপ্লে ও ৮৪০০mAh ব্যাটারিতে নতুন ফোন

গেমিং স্মার্টফোনের বাজারে নতুন করে আলোচনায় এসেছে iQOO 16। ২কে রেজল্যুশনের ১৬৫Hz ডিসপ্লে, ২ ন্যানোমিটারের ফ্ল্যাগশিপ প্রসেসর এবং ৮,৪০০mAh ব্যাটারির সমন্বয়ে ফোনটি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে। চীনের বাজারে ২৯ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচনের পর বিক্রিও শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, ভারতে ফোনটি আনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে iQOO, যদিও সেখানে বিক্রির নির্দিষ্ট তারিখ এখনো জানানো হয়নি। বাংলাদেশের বাজারে কবে আসবে, সে বিষয়েও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই।

iQOO 16-কে শুধু প্রসেসরের শক্তি দিয়ে নয়, বরং ডিসপ্লে, গেমিং প্রযুক্তি, ক্যামেরা ও ব্যাটারির সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ফ্ল্যাগশিপ হিসেবে তুলে ধরছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। বিশেষ করে ১৬৫Hz রিফ্রেশ রেটের ২কে স্ক্রিন এবং বড় ব্যাটারি ফোনটির উল্লেখযোগ্য দিক। চীনের বাজারে প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, এতে রয়েছে তিনটি ৫০ মেগাপিক্সেলের রিয়ার ক্যামেরা এবং ১০০W তারযুক্ত ফাস্ট চার্জিংয়ের সুবিধাও।

iQOO 16-এর ডিসপ্লেতে ২কে রেজল্যুশন ও ১৬৫Hz রিফ্রেশ রেট

ফোনটির অন্যতম বড় আকর্ষণ ৬.৮৫ ইঞ্চির AMOLED ডিসপ্লে। এতে ৩১৬৮ × ১৪৪০ পিক্সেল রেজল্যুশন এবং সর্বোচ্চ ১৬৫Hz রিফ্রেশ রেট রয়েছে। অর্থাৎ সাধারণ ৬০Hz বা ১২০Hz স্ক্রিনের তুলনায় সমর্থিত অ্যাপ ও গেমে আরও বেশি ফ্রেম দেখানোর সক্ষমতা রয়েছে ডিসপ্লেটির।

iQOO জানিয়েছে, Samsung Display-এর সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি এই স্ক্রিনে Samsung M16 emissive material এবং 2K LEAD 2.0 প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ডিসপ্লেটির সর্বোচ্চ গ্লোবাল ব্রাইটনেস ২৮০০ নিট এবং একই আকারের ১.৫কে ডিসপ্লের তুলনায় এর বিদ্যুৎ খরচ ৩১ শতাংশ কম।

তবে ১৬৫Hz রিফ্রেশ রেট সব অ্যাপ বা গেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যাবে না। এর জন্য সংশ্লিষ্ট অ্যাপ বা গেমে ওই রিফ্রেশ রেট সমর্থিত হতে হবে। নির্মাতার তথ্য অনুযায়ী, শতাধিক অ্যাপ এবং ৫০টির বেশি জনপ্রিয় গেমে ১৬৫Hz মোড ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে।

Snapdragon 8 Elite Extreme Gen 6 প্রসেসরে চলবে ফোনটি

পারফরম্যান্সের জন্য iQOO 16-এ ব্যবহার করা হয়েছে Qualcomm-এর Snapdragon 8 Elite Extreme Gen 6 মোবাইল প্ল্যাটফর্ম। এটি ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি একটি আট কোরের প্রসেসর। এর দুটি কোরের সর্বোচ্চ ক্লক স্পিড ৫.০১GHz, তিনটি কোরের ৪.০৩GHz এবং বাকি তিনটি কোরের ৩.৭৪GHz।

প্রসেসরের পাশাপাশি ফোনটিতে রয়েছে আলাদা Q4 গেমিং চিপ। iQOO-এর দাবি, এই চিপ গ্রাফিকস রেন্ডারিং, গেমের রেজল্যুশন উন্নত করা এবং ফ্রেম রেট বাড়ানোর মতো কাজে সহায়তা করে। এতে রে ট্রেসিং প্রযুক্তির সুবিধাও রয়েছে। ফলে সমর্থিত গেমে আলো ও ছায়ার প্রভাব আরও বাস্তবসম্মতভাবে দেখানোর সুযোগ তৈরি হয়।

দীর্ঘ সময় গেম খেলার সময় তাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফোনটিতে ৮.৫K VC কুলিং সিস্টেম দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে LPDDR5X Ultra RAM এবং UFS 4.1 স্টোরেজ। ১৬GB RAM ও ১TB স্টোরেজের সংস্করণে LPDDR5X Ultra Pro মেমোরি ব্যবহার করা হয়েছে।

৮৪০০mAh ব্যাটারি ও ১০০W ফাস্ট চার্জিং

ব্যাটারির দিক থেকেও iQOO 16-এ বড় পরিবর্তন এনেছে প্রতিষ্ঠানটি। ফোনটিতে রয়েছে ৮,৪০০mAh ধারণক্ষমতার ব্যাটারি। এর সঙ্গে ১০০W তারযুক্ত ফাস্ট চার্জিং এবং ৪০W ওয়্যারলেস চার্জিং সমর্থন রয়েছে।

বড় ব্যাটারি থাকায় দীর্ঘ সময় গেম খেলা, ভিডিও দেখা কিংবা একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সুবিধা পাওয়ার কথা। তবে বাস্তবে কতক্ষণ চার্জ থাকবে, তা নির্ভর করবে স্ক্রিনের রিফ্রেশ রেট, নেটওয়ার্ক, গেমিং, উজ্জ্বলতা এবং ব্যবহারের ধরনের ওপর। তাই শুধু ব্যাটারির ধারণক্ষমতা দেখে নির্দিষ্ট ব্যাকআপ সময় ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

তিনটি ৫০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা

ক্যামেরার ক্ষেত্রেও iQOO 16-এ ফ্ল্যাগশিপ পর্যায়ের হার্ডওয়্যার রাখা হয়েছে। পেছনে রয়েছে তিনটি ৫০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। এর মধ্যে প্রধান ক্যামেরায় ব্যবহার করা হয়েছে ১/১.৩ ইঞ্চির সেন্সর। পাশাপাশি রয়েছে Sony-এর ৫০ মেগাপিক্সেলের পেরিস্কোপ টেলিফটো ক্যামেরা এবং ৫০ মেগাপিক্সেলের আলট্রাওয়াইড ক্যামেরা।

প্রধান ক্যামেরায় CIPA 5.5-স্তরের ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন এবং vivo-এর নিজস্ব HDR প্রযুক্তি রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পেরিস্কোপ ক্যামেরা দূরের বিষয়বস্তু জুম করে ছবি তুলতে সহায়তা করবে। অন্যদিকে, আলট্রাওয়াইড ক্যামেরায় বিস্তৃত দৃশ্য ধারণ করা যাবে।

সেলফি ও ভিডিও কলের জন্য সামনে রয়েছে ৩২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। ফোনটির পেছনের ক্যামেরা দিয়ে সর্বোচ্চ ৮কে এবং সামনের ক্যামেরা দিয়ে সর্বোচ্চ ৪কে ভিডিও ধারণের সুবিধা রয়েছে বলে আনুষ্ঠানিক স্পেসিফিকেশনে উল্লেখ করা হয়েছে।

OriginOS 7, IP68 ও IP69 সুরক্ষা

সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে iQOO 16-এ রয়েছে Android 17-ভিত্তিক OriginOS 7। ফোনটিতে 3D আলট্রাসনিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর, স্টেরিও স্পিকার এবং ডুয়াল-অ্যাক্সিস ভাইব্রেশন মোটরও দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:

Vivo V80-এ ৭২০০mAh ব্যাটারি ও ZEISS ক্যামেরায় কী চমক?

Vivo Y32 5G: ৮,০০০mAh ব্যাটারি ও ১২০Hz ডিসপ্লে

ধুলা ও পানি থেকে সুরক্ষার জন্য রয়েছে IP68 এবং IP69 রেটিং। তবে এসব রেটিং থাকলেও ফোনকে ইচ্ছাকৃতভাবে পানিতে ডোবানো বা উচ্চচাপের পানির সংস্পর্শে আনা উচিত নয়। পানি প্রতিরোধের সক্ষমতা সময়ের সঙ্গে কমে যেতে পারে এবং ক্ষতির ধরন অনুযায়ী ওয়ারেন্টি সুবিধাও প্রযোজ্য নাও হতে পারে।

iQOO 16-এর দাম কত?

চীনে iQOO 16 চারটি মেমোরি ও স্টোরেজ সংস্করণে পাওয়া যাচ্ছে। নির্মাতার চীনা ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নিয়মিত খুচরা মূল্য অনুযায়ী দাম শুরু হয়েছে ৫,৯৯৯ ইউয়ান থেকে। তবে উদ্বোধনী বিক্রির সময় চীনের সরকারি ভর্তুকি ও প্রচারমূলক সুবিধার কারণে কিছু সংস্করণের কার্যকর দাম কম ছিল।

চীনের নিয়মিত খুচরা মূল্য নিচে দেওয়া হলো—

সংস্করণচীনের দাম
১২GB RAM + ২৫৬GB ৫,৯৯৯ ইউয়ান
১২GB RAM + ৫১২GB ৬,৭৯৯ ইউয়ান
১৬GB RAM + ৫১২GB ৭,৪৯৯ ইউয়ান
১৬GB RAM + ১TB ৮,৪৯৯ ইউয়ান

এই দাম চীনের বাজারের জন্য নির্ধারিত। বাংলাদেশের সম্ভাব্য দাম হিসেবে এগুলোকে সরাসরি ধরে নেওয়া যাবে না। আমদানি খরচ, কর, পরিবেশক ও বিক্রয়মূল্য এবং স্থানীয় বাজারনীতি অনুযায়ী বাংলাদেশে দাম ভিন্ন হতে পারে।

বাংলাদেশে iQOO 16 কবে আসবে?

বাংলাদেশে iQOO 16-এর আনুষ্ঠানিক বাজারজাতকরণের তারিখ বা দাম এখনো ঘোষণা করা হয়নি। ফলে ফোনটি দেশে কবে পাওয়া যাবে, তা নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই।

ভারতের বাজারে ফোনটি আনার বিষয়টি iQOO ২০২৬ সালের ৯ অক্টোবর নিশ্চিত করেছে। তবে সেখানে আনুষ্ঠানিক বিক্রির তারিখ প্রকাশ করা হয়নি। ভারতের বাজারে আসার ঘোষণা থাকলেও সেটিকে বাংলাদেশের বাজারে ফোনটি আসার নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

সব মিলিয়ে কেমন হতে পারে iQOO 16?

স্পেসিফিকেশন বিবেচনায় iQOO 16 মূলত উচ্চ পারফরম্যান্স ও গেমিং অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে তৈরি একটি ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন। ২কে ১৬৫Hz ডিসপ্লে, Snapdragon 8 Elite Extreme Gen 6 প্রসেসর, আলাদা Q4 গেমিং চিপ, ৮,৪০০mAh ব্যাটারি এবং তিনটি ৫০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা এর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।

তবে কাগজে-কলমের স্পেসিফিকেশন দিয়ে ফোনের সম্পূর্ণ অভিজ্ঞতা বিচার করা যায় না। দীর্ঘ সময় গেমিংয়ে তাপ নিয়ন্ত্রণ, বাস্তব ব্যাটারি ব্যাকআপ, ক্যামেরার ছবির মান এবং সফটওয়্যারের স্থিতিশীলতা জানতে স্বাধীন পর্যালোচনা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের ক্রেতাদের জন্য স্থানীয় বাজারে আনুষ্ঠানিক দাম ও ওয়ারেন্টি সুবিধা ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাই ভালো।

প্রাসঙ্গিক FAQ

১. iQOO 16 কবে লঞ্চ হয়েছে?

iQOO 16 চীনে ২০২৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয় এবং একই দিন থেকে বিক্রি শুরু হয়।

২. iQOO 16-এর প্রসেসর কী?

ফোনটিতে Qualcomm Snapdragon 8 Elite Extreme Gen 6 প্রসেসর এবং আলাদা Q4 গেমিং চিপ রয়েছে।

৩. iQOO 16-এর ব্যাটারি কত mAh?

এতে ৮,৪০০mAh ব্যাটারি রয়েছে। চার্জিংয়ের জন্য ১০০W তারযুক্ত এবং ৪০W ওয়্যারলেস চার্জিং সমর্থন করে।

৪. iQOO 16-এর ক্যামেরা কত মেগাপিক্সেলের?

পেছনে তিনটি ৫০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা এবং সামনে ৩২ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা রয়েছে।

৫. iQOO 16 কি বাংলাদেশে পাওয়া যাচ্ছে?

বাংলাদেশে ফোনটির আনুষ্ঠানিক বাজারজাতকরণের তারিখ ও দাম এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত: