Honda XBlade FI: নতুন মডেলের দাম ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা
বাংলাদেশ হোন্ডার ২৯ অক্টোবরের ঘোষণায় বলা হয়েছে, নতুন XBlade FI-তে নতুন স্টিকার, গ্রাফিকস ও রঙের সমন্বয় আনা হয়েছে। বাইকটির পরিচিত Robo-Face LED হেডল্যাম্প, স্পোর্টি বডি ডিজাইন এবং প্রশস্ত পেছনের টায়ার আগের মতোই রয়েছে।
নতুন সংস্করণে Radiant Red Metallic, Pearl Igneous Black এবং লাল রিম ও বিশেষ গ্রাফিকসযুক্ত Ground Gray Redline Edition-এর কথা উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। Redline Edition-এ আলাদা রঙের সমন্বয় থাকায় সাধারণ সংস্করণ থেকে এর বাহ্যিক চেহারায় পার্থক্য দেখা যায়।
১৬২.৭১ সিসির FI ইঞ্জিনে কত শক্তি?
Honda XBlade FI-তে রয়েছে ১৬২.৭১ সিসির চার স্ট্রোক, এয়ার-কুলড PGM-FI ইঞ্জিন। এটি Euro 3 নির্গমন মানের ইঞ্জিন। এর সর্বোচ্চ শক্তি ১৩.৯ PS বা প্রায় ১৩.৭ BHP, যা পাওয়া যায় ৮ হাজার RPM-এ। সর্বোচ্চ টর্ক ১৪.৭ নিউটনমিটার, যা পাওয়া যায় ৫ হাজার ৫০০ RPM-এ।
ইঞ্জিনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে পাঁচ গতির গিয়ারবক্স। ফুয়েল ইনজেকশন প্রযুক্তি জ্বালানি সরবরাহ ও দহন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ফলে ইঞ্জিনের কার্যকারিতা ও জ্বালানি ব্যবহারে সুবিধা পাওয়ার লক্ষ্যেই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
মাইলেজের বিষয়ে বাংলাদেশ হোন্ডার ফিচার পেজে ৬০.৪ কিলোমিটার প্রতি লিটারের তথ্য দেওয়া আছে। তবে বাস্তবে কত মাইলেজ পাওয়া যাবে, তা চালানোর ধরন, যানজট, রাস্তার অবস্থা, বাইকের রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে।
ব্রেকিং ব্যবস্থায় রয়েছে ABS
নিরাপত্তার দিক থেকে XBlade FI-তে সামনে ২৭৬ মিলিমিটার ও পেছনে ২২০ মিলিমিটারের পেটাল ডিস্ক ব্রেক রয়েছে। সামনের ব্রেকের সঙ্গে ABS বা অ্যান্টি-লক ব্রেকিং সিস্টেম যুক্ত করা হয়েছে। জরুরি ব্রেক করার সময় সামনের চাকা লক হওয়ার ঝুঁকি কমাতে এই প্রযুক্তি সহায়তা করে।
এ ছাড়া বাইকটিতে Bank Angle Sensor রয়েছে। মোটরসাইকেল অতিরিক্ত কাত হয়ে পড়ে যাওয়ার পরিস্থিতি শনাক্ত করলে সেন্সরটি ইঞ্জিন বন্ধ করে দিতে পারে। সাইড স্ট্যান্ড নামানো থাকলে ইঞ্জিন চালু হওয়া ঠেকানোর জন্য Side Stand Engine Cut-off Switch-ও দেওয়া হয়েছে।
ডিজিটাল মিটার ও অন্যান্য সুবিধা
Honda XBlade FI-তে Street-Tech Full Digital Meter ব্যবহার করা হয়েছে। এতে গিয়ার পজিশন, ডিজিটাল ঘড়ি, ফুয়েল লেভেল, ট্রিপ মিটার, সার্ভিস ডিউ ইন্ডিকেটর, FI ইন্ডিকেটর এবং সাইড স্ট্যান্ড ইন্ডিকেটরের মতো তথ্য দেখা যায়।
রাতে চলাচলের জন্য রয়েছে Robo-Face LED হেডল্যাম্প এবং LED টেইল ল্যাম্প। কম দৃশ্যমানতার পরিস্থিতিতে অন্য চালকদের সতর্ক করতে হ্যাজার্ড লাইট ব্যবহারের সুবিধাও রয়েছে। যানজটে অল্প সময়ের জন্য ইঞ্জিন বন্ধ করতে আলাদা Engine Stop Switch দেওয়া হয়েছে।
বাইকটির সামনে টেলিস্কোপিক ফর্ক এবং পেছনে মনোশক সাসপেনশন রয়েছে। সামনের টায়ারের মাপ ৮০/১০০-১৭ এবং পেছনের টায়ারের মাপ ১৩০/৭০-১৭। দুই চাকাতেই টিউবলেস টায়ার ব্যবহার করা হয়েছে।
Honda XBlade FI-এর ওজন, ট্যাংক ও অন্যান্য স্পেসিফিকেশন
বাংলাদেশ হোন্ডার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাইকটির কার্ব ওজন ১৪৪ কেজি এবং ফুয়েল ট্যাংকের ধারণক্ষমতা ১২ লিটার। গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ১৬০ মিলিমিটার। এর দৈর্ঘ্য ২ হাজার ১৩ মিলিমিটার, প্রস্থ ৭৮৬ মিলিমিটার এবং উচ্চতা ১ হাজার ১১৫ মিলিমিটার। হুইলবেস ১ হাজার ৩৪৭ মিলিমিটার।
এই মাপ ও ওজনের তথ্য থেকে বাইকটির আকার সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তবে কেনার আগে নিজের উচ্চতা, বসার স্বাচ্ছন্দ্য এবং নিয়ন্ত্রণের সুবিধা যাচাই করে নেওয়া ভালো।
বাংলাদেশে Honda XBlade FI-এর দাম কত?
বাংলাদেশ হোন্ডার ঘোষণায় নতুন XBlade FI-এর নিয়মিত দাম রাখা হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। অন্যদিকে, বিশেষ গ্রাফিকস ও লাল রিমযুক্ত Redline Edition-এর দাম ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ থেকে দেশের Honda Exclusive Authorized Dealer বা HEAD শোরুমগুলোতে নতুন সংস্করণটি পাওয়া যাচ্ছে। তবে শোরুমভেদে মজুত, রঙের প্রাপ্যতা ও বিক্রয়সংক্রান্ত শর্ত আলাদা হতে পারে। কেনার আগে নিকটস্থ অনুমোদিত ডিলারের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া উচিত।
ওয়ারেন্টি ও ফ্রি সার্ভিস সুবিধা
নতুন Honda XBlade FI-এর সঙ্গে দুই বছর অথবা ২০ হাজার কিলোমিটার—যেটি আগে পূর্ণ হবে—এই মেয়াদের ওয়ারেন্টি দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রয়েছে পাঁচটি ফ্রি সার্ভিস। নির্ধারিত সময় বা দূরত্বের মধ্যে সার্ভিস করালে ওয়ারেন্টি ও রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত সুবিধা বজায় রাখতে সুবিধা হবে।
বাংলাদেশ হোন্ডার প্রকাশিত সার্ভিস সূচি অনুযায়ী, প্রথম ফ্রি সার্ভিস ১৫ থেকে ৬০ দিন অথবা ৭৫০ থেকে ২ হাজার কিলোমিটারের মধ্যে করাতে হবে। পরবর্তী সার্ভিসগুলোর ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময় ও দূরত্বের সীমা রয়েছে। সময় ও কিলোমিটারের মধ্যে যেটি আগে পূর্ণ হবে, সেটিই প্রযোজ্য।
কারা কিনতে পারেন Honda XBlade FI?
যারা ১৬০ সিসি শ্রেণির মোটরসাইকেলে স্পোর্টি ডিজাইন, ফুয়েল ইনজেকশন প্রযুক্তি, ডিজিটাল মিটার এবং ABS ব্রেকিং সুবিধা খুঁজছেন, তাদের বিবেচনায় থাকতে পারে Honda XBlade FI। বিশেষ করে নতুন রঙ ও Redline Edition বাইকটির বাহ্যিক চেহারায় আলাদা বৈশিষ্ট্য যোগ করেছে।
তবে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একই শ্রেণির অন্য বাইকের সঙ্গে দাম, ইঞ্জিন পারফরম্যান্স, ব্রেকিং ব্যবস্থা, মাইলেজ, সার্ভিস সুবিধা ও যন্ত্রাংশের খরচ তুলনা করা উচিত। নিজের দৈনন্দিন যাতায়াতের প্রয়োজনের সঙ্গে বাইকটির রাইডিং পজিশন ও ব্যবহারিক সুবিধা মানানসই কি না, সেটিও যাচাই করা জরুরি।
সব মিলিয়ে, Honda XBlade FI-এর নতুন সংস্করণে মূল আকর্ষণ নতুন রঙ ও গ্রাফিকসের পাশাপাশি ১৬২.৭১ সিসির FI ইঞ্জিন, ABS ব্রেক, ব্যাংক অ্যাঙ্গেল সেন্সর এবং পাঁচটি ফ্রি সার্ভিস। ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা থেকে দাম শুরু হওয়ায় ১৬০ সিসি সেগমেন্টে বাইকটি কেনার পরিকল্পনা করছেন এমন ক্রেতাদের জন্য এটি বিবেচনার একটি বিকল্প হতে পারে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. বাংলাদেশে Honda XBlade FI-এর দাম কত?
বাংলাদেশ হোন্ডার ২৯ অক্টোবর ২০২৬-এর ঘোষণা অনুযায়ী, সাধারণ XBlade FI-এর দাম ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। Redline Edition-এর দাম ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।
২. Honda XBlade FI-এর ইঞ্জিন কত সিসির?
বাইকটিতে ১৬২.৭১ সিসির চার স্ট্রোক, এয়ার-কুলড PGM-FI ইঞ্জিন রয়েছে।
৩. Honda XBlade FI কত মাইলেজ দেয়?
বাংলাদেশ হোন্ডার ফিচার পেজে প্রতি লিটারে ৬০.৪ কিলোমিটার মাইলেজের তথ্য উল্লেখ রয়েছে। বাস্তবে মাইলেজ চালানোর ধরন ও রাস্তার অবস্থার ওপর নির্ভর করে।
৪. Honda XBlade FI-তে কি ABS আছে?
হ্যাঁ, বাইকটির সামনের ২৭৬ মিলিমিটার পেটাল ডিস্ক ব্রেকের সঙ্গে ABS রয়েছে। পেছনে রয়েছে ২২০ মিলিমিটারের পেটাল ডিস্ক ব্রেক।
৫. Honda XBlade FI-এর ওয়ারেন্টি কত দিন?
বাংলাদেশ হোন্ডার তথ্য অনুযায়ী, বাইকটির ওয়ারেন্টি দুই বছর অথবা ২০ হাজার কিলোমিটার—যেটি আগে পূর্ণ হবে। এর সঙ্গে পাঁচটি ফ্রি সার্ভিসও রয়েছে।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন সিদ্ধান্তের পরও শেয়ারবাজারে বড় পতন
- জমি রেজিস্ট্রির আগে যে ১০টি বিষয় দেখে স্বাক্ষর করবেন
- ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে ৪ কোম্পানি
- পুরনো দলিল থেকে বর্তমান জমির মালিক বের করবেন যেভাবে
- নামজারি আছে, কিন্তু দলিল নেই—জমি কি নিজের? জানুন আইন
- Honor 600 Pro: ২০০MP ক্যামেরা ও ৭০০০mAh ব্যাটারিতে কেমন?