চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনার জয়, পয়েন্ট টেবিলে কত নম্বরে?
পিএসজি ও রিয়াল মাদ্রিদের কাছে টানা দুই হারের ধাক্কা কাটিয়ে জয়ের পথে ফিরেছে বার্সেলোনা। চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের মাঠ ন্যু ক্যাম্পে অ্যাস্টন ভিলাকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে স্প্যানিশ ক্লাবটি। ম্যাচে শুরুতে লামিনে ইয়ামাল গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়ার জোড়া গোলে বড় জয় নিশ্চিত হয় বার্সেলোনার।
এই জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে আবারও আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার সুযোগ পেল বার্সেলোনা। অন্যদিকে, উনাই এমেরির জন্মদিনের ম্যাচটি অ্যাস্টন ভিলার জন্য হয়ে থাকল হতাশার। এই হারের মধ্য দিয়ে চলতি আসরের লিগ পর্বে তাদের শতভাগ জয়ের রেকর্ডও ভেঙে গেল।
ইয়ামালের গোলে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা
ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে যায় বার্সেলোনা। তবে গোলটি আসে অ্যাস্টন ভিলার রক্ষণভাগের বড় ভুল থেকে। গোল কিক নেওয়ার সময় জোয়াও গোমেসের ভুল পাস সরাসরি পৌঁছে যায় লামিনে ইয়ামালের কাছে। প্রতিপক্ষের এমন উপহার কাজে লাগাতে ভুল করেননি এই তরুণ ফরোয়ার্ড। ১২ গজ দূর থেকে কোনাকুনি শটে বল জালে পাঠিয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
গোল হজমের পর দ্রুত ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে অ্যাস্টন ভিলা। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দুটি কর্নার থেকে সমতা ফেরানোর সুযোগ তৈরি হয়েছিল তাদের সামনে। প্রথমবার ম্যাটি ক্যাশের দূরের পোস্ট লক্ষ্য করে নেওয়া শট ডিফ্লেক্ট হয়ে মাঠের বাইরে চলে যায়। পরের সুযোগে জোয়াও গোমেস নিজের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করার চেষ্টা করলেও তার শট জালে জড়াতে দেননি জোয়াও কানসেলো। শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত ব্লকে বার্সেলোনাকে রক্ষা করেন তিনি।
একের পর এক সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারেনি ভিলা
প্রথমার্ধে বার্সেলোনার রক্ষণে চাপ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল অ্যাস্টন ভিলা। ১৯তম মিনিটে নিকোলাস জ্যাকসনের বাড়ানো বল পেয়ে গোলের চেষ্টা করেন জোহান মানজাম্বি। তবে তার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে গোলপোস্টের পাশ দিয়ে চলে যায়।
এরপর আরও একবার সুযোগ পেয়েছিলেন জ্যাকসন। গোল করতে হলে তাকে শুধু বার্সেলোনার গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়াকে পরাস্ত করতে হতো। কিন্তু দ্রুত এগিয়ে এসে পা দিয়ে বল কেড়ে নেন বার্সার এই গোলরক্ষক।
মানজাম্বি আবারও বক্সে ঢুকে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন। সেখানেও বাধা হয়ে দাঁড়ান গার্সিয়া। একের পর এক সুযোগ তৈরি করেও সেগুলো কাজে লাগাতে না পারার মাশুল শেষ পর্যন্ত দিতে হয়েছে ইংলিশ ক্লাবটিকে।
দ্বিতীয়ার্ধে রাফিনিয়ার জোড়া আঘাত
বিরতির পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তভাবে নিজেদের হাতে নেয় বার্সেলোনা। ৫২তম মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর দায়িত্ব নেন রাফিনিয়া। বক্সের প্রান্তে থাকা ফারমিন লোপেজের কাছ থেকে বল পেয়ে শট নেন তিনি। বলটি অ্যাস্টন ভিলার ডিফেন্ডার পাউ তোরেসের গোড়ালিতে লেগে দিক পরিবর্তন করে। এরপর গোলপোস্টের কোণা দিয়ে জালে ঢুকে যায় সেটি। ফলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
এরপর ৬৪তম মিনিটে আবারও গোলের দেখা পান রাফিনিয়া। জন ম্যাকগিনকে কাটিয়ে বলটি ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের কাছে পৌঁছে দেন কানসেলো। গোলপোস্টের খুব কাছ থেকে পাওয়া সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন রাফিনিয়া। ছয় গজ দূরত্ব থেকে নেওয়া শটে কোনো ভুল করেননি তিনি।
এই জোড়া গোলের মধ্য দিয়ে চলতি মৌসুমে ১৩ ম্যাচে রাফিনিয়ার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯-এ।
জন্মদিনে বড় হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা এমেরির
অ্যাস্টন ভিলার কোচ উনাই এমেরির জন্য ম্যাচটি বিশেষ হওয়ার কথা ছিল। তার ৫৫তম জন্মদিনে দলের খেলা দেখতে মাঠে উপস্থিত হয়েছিলেন ক্লাবটির একনিষ্ঠ সমর্থক প্রিন্স উইলিয়াম। এমেরির অধীনে গত চার বছরে অ্যাস্টন ভিলার উল্লেখযোগ্য উন্নতির স্বীকৃতি হিসেবেই তার এই উপস্থিতি। কিন্তু মাঠের ফলাফল সেই আনন্দকে ম্লান করে দিয়েছে।
বার্সেলোনায় এমেরির রেকর্ডও বেশ হতাশাজনক। শহরটিতে খেলা ১৬ ম্যাচের মধ্যে ১৫টিতেই হারের মুখ দেখেছেন তিনি। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হারটি এসেছিল প্রায় ৯ বছর আগে। তখন পিএসজির কোচ ছিলেন এমেরি। প্রথম লেগে ৪-০ গোলে জয়ের পরও ন্যু ক্যাম্পে বার্সেলোনার কাছে ৬-১ গোলে হেরে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল তার দলকে। সেই ম্যাচটি ফুটবল ইতিহাসে বিখ্যাত ‘রেমোন্তাদা’ হিসেবে পরিচিত।
এদিনও বার্সেলোনার মাঠে জয় পাওয়া হলো না তার।
শেষ পর্যন্ত ব্যবধান কমাতে পারেনি অ্যাস্টন ভিলা
ম্যাচের শেষ ভাগেও গোলের চেষ্টা অব্যাহত রাখে দুই দল। লিওন গোরেৎকার একটি দুর্দান্ত হেড গোলপোস্টে আঘাত করলে গোলবঞ্চিত থাকে অ্যাস্টন ভিলা। পরে বোবাকার কামারার ভুল পাস থেকে বল পেয়ে বিপদ তৈরি করেন বার্সেলোনা। তবে ফিরতি শটে ফারমিন লোপেজকে আটকে দেন ভিলা গোলরক্ষক জিওন সুজুকি।
অন্যদিকে, চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে সর্বোচ্চ কিশোর গোলদাতার রেকর্ড গড়া ইয়ামালও আরও দুটি শট নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু দুবারই তার প্রচেষ্টা গোলপোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়।
চ্যাম্পিয়নস লিগের পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় বার্সেলোনা
চার ম্যাচ শেষে বার্সেলোনা ও অ্যাস্টন ভিলা—দুই দলেরই সংগ্রহ ৯ পয়েন্ট। তবে আপাতত পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বার্সেলোনা। ১২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা পিএসজির চেয়ে তিন পয়েন্ট পিছিয়ে আছে তারা।
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
১. বার্সেলোনা বনাম অ্যাস্টন ভিলা ম্যাচে কত গোলে জিতেছে বার্সেলোনা?
বার্সেলোনা নিজেদের মাঠে অ্যাস্টন ভিলাকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে।
২. বার্সেলোনার হয়ে কে কে গোল করেছেন?
বার্সেলোনার হয়ে লামিনে ইয়ামাল একটি এবং রাফিনিয়া দুটি গোল করেছেন।
৩. অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে রাফিনিয়া কয়টি গোল করেছেন?
রাফিনিয়া ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন। চলতি মৌসুমে ১৩ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা ১৯।
৪. চ্যাম্পিয়নস লিগের পয়েন্ট টেবিলে বার্সেলোনা কত নম্বরে?
চার ম্যাচ শেষে ৯ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বার্সেলোনা।
৫. চ্যাম্পিয়নস লিগে শীর্ষে কোন দল রয়েছে?
১২ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বের পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে রয়েছে পিএসজি।
তানভির ইসলাম/