ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

শেয়ার কারসাজিতে ২১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা মুনাফা, নতুন তদন্তে বিএসইসি

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৩ ২০:৪৯:৫৯
শেয়ার কারসাজিতে ২১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা মুনাফা, নতুন তদন্তে বিএসইসি

শেয়ারবাজারে কারসাজির ঘটনায় দুই কোটি টাকা জরিমানার মুখে পড়েছেন আজাদ হোসেন পাটোয়ারী। এবার তাঁর শেয়ার লেনদেনের বাইরেও আর্থিক কর্মকাণ্ডের হিসাব অনুসন্ধান করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কারসাজির মাধ্যমে অর্জিত অর্থের উৎস, স্থানান্তর ও ব্যবহারের ধরন জানতে আজাদ হোসেন পাটোয়ারী এবং তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের লেনদেন তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে এ অনুসন্ধানের জন্য গত রোববার আদেশ জারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বিএসইসির এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার নিয়ে কারসাজির অভিযোগ। কমিশনের তদন্তে ওই শেয়ার থেকে আজাদ হোসেন পাটোয়ারীর ৮ কোটি ২১ লাখ টাকা বিক্রিজনিত মুনাফা এবং ১৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা অবিক্রীত শেয়ারের কাগুজে মুনাফার তথ্য উঠে এসেছে। দুই ধরনের মুনাফা মিলিয়ে এর পরিমাণ ২১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

শেয়ার লেনদেনের বাইরে এবার আর্থিক হিসাবের অনুসন্ধান

নতুন তদন্তে শুধু শেয়ার কেনাবেচার তথ্য নয়, অর্থের প্রবাহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন হিসাবও যাচাই করা হবে। আজাদ হোসেন পাটোয়ারী ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্টদের নামে তফশিলি ব্যাংক, স্টক ডিলার এবং স্টক ব্রোকার প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত হিসাবের লেনদেন অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি।

এই অনুসন্ধানে অর্থের প্রাথমিক উৎস কোথায়, এক হিসাব থেকে অন্য হিসাবে কীভাবে তা স্থানান্তরিত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট লেনদেনগুলোর মধ্যে কী ধারাবাহিকতা রয়েছে—এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে নগদ অর্থের উৎস ও স্থানান্তরের তথ্য যাচাই করা হবে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদন ঘিরে পুনর্গঠিত তদন্ত কমিটি

বিএসইসির তদন্তের ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) দেওয়া একটি বিশেষ গোয়েন্দা প্রতিবেদন। আজাদ হোসেন পাটোয়ারী ও তাঁর সহযোগীদের বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে থাকা হিসাবের লেনদেনসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রতিবেদন পর্যালোচনায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় ইনসাইডার ট্রেডিং ও মার্কেট ম্যানিপুলেশনের মতো অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ এবং সন্দেহের বিষয় পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এর পরই এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি পুনর্গঠন করে বিএসইসি। পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সব ধরনের আর্থিক লেনদেন অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়া হয়।

২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের মার্চে শেয়ার কারসাজির অভিযোগ

খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার নিয়ে কারসাজির অভিযোগটি বিএসইসির আগের তদন্তে উঠে আসে। ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২৪ মার্চ পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার কৃত্রিমভাবে লেনদেন এবং দর ওঠানামা করানোর অভিযোগ ছিল।

এই ঘটনায় আজাদ হোসেন পাটোয়ারীর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানায় কমিশন। শেয়ারবাজারে ইনসাইডার ট্রেডিং ও কারসাজির অভিযোগে তিনি আগেও আলোচনায় ছিলেন। অভিযোগের ভিত্তিতে গত মাসে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় বিএসইসি।

জরিমানার পর অর্থের উৎস অনুসন্ধানে নজর

কমিশনের তদন্তে কারসাজির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আজাদ হোসেন পাটোয়ারীকে দুই কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। এ বিষয়ে বিএসইসি শাস্তিমূলক আদেশও জারি করেছে।

তবে এবার তদন্তের পরিধি শেয়ারদর ও লেনদেনের অনিয়মের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। কারসাজির অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের উৎস ও গতিপথও খতিয়ে দেখা হবে। ব্যাংক এবং শেয়ারবাজারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে থাকা হিসাবের মাধ্যমে অর্থের উৎস, স্থানান্তর এবং সম্ভাব্য মানি লন্ডারিংয়ের যোগসূত্র অনুসন্ধান করবে কমিশন।

বিএফআইইউর গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শুরু হওয়া এই অনুসন্ধানে শেয়ার কারসাজির মাধ্যমে অর্জিত অর্থের উৎস ও ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা।

FAQ

১. আজাদ হোসেন পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে নতুন করে কী তদন্ত হচ্ছে?

তাঁর ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনের উৎস, স্থানান্তর এবং সম্ভাব্য মানি লন্ডারিংয়ের সংশ্লিষ্টতা অনুসন্ধান করছে বিএসইসি।

২. খান ব্রাদার্স পিপির শেয়ার কারসাজিতে কত টাকা মুনাফার তথ্য পাওয়া গেছে?

বিএসইসির তদন্ত অনুযায়ী, আজাদ হোসেন পাটোয়ারীর ৮ কোটি ২১ লাখ টাকা রিয়েলাইজড গেইন এবং ১৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা আনরিয়েলাইজড গেইন ছিল। মোট মুনাফার পরিমাণ ২১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

৩. শেয়ার কারসাজির অভিযোগে কত টাকা জরিমানা করা হয়েছে?

তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিএসইসি তাঁকে দুই কোটি টাকা জরিমানা করেছে।

৪. বিএসইসি কোন সময়ের শেয়ার লেনদেন নিয়ে কারসাজির অভিযোগ তদন্ত করেছিল?

২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২৪ মার্চ পর্যন্ত খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার নিয়ে কৃত্রিম লেনদেন ও দর ওঠানামা করানোর অভিযোগ তদন্ত করা হয়।

৫. নতুন তদন্তের সিদ্ধান্তের ভিত্তি কী?

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছ থেকে পাওয়া বিশেষ গোয়েন্দা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিএসইসি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: