MD Zamirul Islam
Senior Reporter
ব্লকেজ নেই তবুও হার্ট অ্যাটাক? ধমনীর লুকোনো শত্রু চিনবেন যেভাবে
হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগের কথা উঠলেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে ধমনীতে বিশাল কোনো ব্লকেজের ছবি। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের আধুনিক গবেষণা বলছে, ব্লক ছাড়াও আপনার হার্ট মারাত্মক ঝুঁকির মুখে থাকতে পারে। আমেরিকার প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডিমিট্রি ইয়ারনভ সম্প্রতি এই বিষয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য শেয়ার করেছেন। তাঁর মতে, শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা 'নরম শত্রু'ই হতে পারে আকস্মিক হার্ট অ্যাটাকের মূল কারিগর।
ধমনীর লুকোনো ফাঁদ: কী এই 'ভালনারেবল প্লাক'?
আমেরিকাবাসী হার্ট প্রতিস্থাপন বিশেষজ্ঞ ডিমিট্রি ইয়ারনভ তাঁর এক ডিজিটাল বার্তায় জানিয়েছেন, হৃদরোগের ঝুঁকি মানেই সবসময় ধমনীর পথ রুদ্ধ হওয়া নয়। বরং অনেক ক্ষেত্রে ছোট এবং স্ফীত এক ধরণের আস্তরণ রক্তনালীর দেওয়ালে জমে থাকে, যাকে বলা হয় ‘ভালনারেবল প্লাক’ (Vulnerable Plaque)।
এটি মূলত চর্বি এবং প্রদাহজনক কোষের একটি নরম পিণ্ড, যার ওপর থাকে অত্যন্ত পাতলা ও নাজুক একটি পর্দা। যেহেতু এটি ধমনীর পথকে খুব বেশি সরু করে না, তাই রক্ত চলাচলে কোনো দৃশ্যমান সমস্যা তৈরি হয় না। কিন্তু এই পাতলা পর্দাটি যেকোনো সময় ফেটে গিয়ে রক্ত জমাট বাঁধিয়ে দিতে পারে, যার ফলে কোনো আগাম সতর্কতা ছাড়াই হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক ঘটে।
কেন সাধারণ পরীক্ষায় এই ঝুঁকি ধরা পড়ে না?
আমরা সাধারণত হার্টের সুস্থতা মাপতে ইসিজি (ECG) বা স্ট্রেস টেস্ট (TMT)-এর ওপর ভরসা করি। ডক্টর ইয়ারনভ জানাচ্ছেন, এই পরীক্ষাগুলো মূলত করা হয় রক্ত চলাচলের পথে বাধা দেখার জন্য। যেহেতু এই নরম প্লাকগুলো ধমনীকে খুব বেশি সংকুচিত করে না, তাই স্ট্রেস টেস্টের রিপোর্টে সবকিছু 'নরমাল' মনে হতে পারে। অর্থাৎ, পরীক্ষার টেবিলে সুস্থ প্রমাণিত হওয়ার পরও একজন ব্যক্তি হার্ট অ্যাটাকের শিকার হতে পারেন।
জীবনদায়ী পরীক্ষা: সিটি করোনারি অ্যাঞ্জিয়োগ্রাম
তাহলে এই অদৃশ্য শত্রু চেনার উপায় কী? ডিমিট্রি ইয়ারনভের পরামর্শ হলো— সিটি করোনারি অ্যাঞ্জিয়োগ্রাম (CT Coronary Angiogram)।
এই আধুনিক পরীক্ষার বিশেষত্ব হলো, এটি ধমনীর ভেতরের ত্রিমাত্রিক ও স্বচ্ছ প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তোলে। যেখানে সাধারণ টেস্ট ব্যর্থ, সেখানে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ধমনীর দেওয়ালে জমে থাকা প্লাকটি শক্ত না নরম, তা নিখুঁতভাবে শনাক্ত করা সম্ভব। ফলে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
যাঁদের জন্য এই সতর্কতা জরুরি
বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের মধ্যে নিচের লক্ষণ বা শারীরিক অবস্থা রয়েছে, তাদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন:
যাঁদের নিয়মিত বুকে অস্বস্তি বা হৃদরোগের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিচ্ছে।
দীর্ঘদিনের ডায়াবিটিস রোগী।
উচ্চ মাত্রার কোলেস্টেরল রয়েছে এমন ব্যক্তি।
যাঁদের পরিবারে আগে থেকেই হার্টের সমস্যার ইতিহাস রয়েছে।
বর্তমানে কলকাতাসহ দেশের বড় শহরগুলোর আধুনিক হাসপাতাল ও রোগ নির্ণয় কেন্দ্রগুলোতে এই সিটি করোনারি অ্যাঞ্জিয়োগ্রাম করার উন্নত ব্যবস্থা রয়েছে। হৃদরোগের ঝুঁকি এড়াতে কেবল প্রথাগত পরীক্ষার ওপর নির্ভর না করে, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া জরুরি।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- আজকের স্বর্ণের দাম: (সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)
- ৬১৫০ কোটির ক্ষতি রুখতে বিসিবিকে ৩ বড় সুবিধা দিচ্ছে আইসিসি
- লুব-রেফের মহাপ্রতারণা: ভুয়া সম্পদের আড়ালে আইপিওর শত কোটি টাকা গায়েব
- আজকের স্বর্ণের দাম: (মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)
- বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের বড় ঘোষণা
- ৪ দিন বন্ধ ইন্টারনেট ব্যাংকিং: জরুরি নির্দেশনা জারি
- অকালেই বাড়ছে লিভার ক্যানসার! যকৃতের সুরক্ষায় সেরা ৭ খাবার জানুন
- ‘অদম্য বাংলাদেশ’ কাপের ফাইনাল: চলছে দুর্বার বনাম ধূমকেতু ম্যাচ, সরাসরি দেখুন Live
- স্বর্ণের বাজারে নতুন রেকর্ড: আজ থেকে ভরিতে গুনতে হবে অতিরিক্ত টাকা
- ভারত-পাক-বাংলাদেশ ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রস্তাব! কী বলছে আইসিসি?
- পাকিস্তান বনাম যুক্তরাষ্ট্র: কখন, কোথায় ও কীভাবে দেখবেন Live
- ইউসিবি ব্যাংকে বড় নিয়োগ: আজই অনলাইনে আবেদন করুন
- ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ খেলতে আইসিসিকে ৩ শর্ত, লাভ হবে বাংলাদেশের
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট ও সোনার দাম (৯ ফেব্রুয়ারি)
- সাবধান! কিডনি বিকল হওয়ার আগে এই ৫ জায়গায় ব্যথা হয়