Alamin Islam
Senior Reporter
ডায়াবেটিসে সফেদা খাওয়া কি নিরাপদ? জেনে নিন বিশেষজ্ঞদের জরুরি পরামর্শ
ফলের ঝুড়িতে থাকা মিষ্টি ও রসালো সফেদা দেখে লোভ সামলানো অনেকের জন্যই কঠিন। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এই ফলের মিষ্টি স্বাদ যতটা আনন্দদায়ক, তার চেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেকেই দ্বিধায় থাকেন যে, শর্করা নিয়ন্ত্রণে রেখে এই ফলটি খাওয়া আদৌ সম্ভব কি না। চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে চলুন জেনে নেওয়া যাক সফেদা ও ডায়াবেটিসের মধ্যকার সমীকরণ।
ডায়াবেটিস ও সফেদা: যে তথ্যটি আপনার জানা জরুরি
সফেদা একটি উচ্চ পুষ্টিগুণসম্পন্ন ফল হলেও এর ‘গ্লাইসেমিক ইনডেক্স’ বা সূচক মাঝারি মানের (প্রায় ৫৫-৬৫)। এর অর্থ হলো, এই ফলটি রক্তে শর্করার মাত্রাকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখে। যদি নিয়ম না মেনে বা বেশি পরিমাণে সফেদা খাওয়া হয়, তবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হুট করে বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
তবে সফেদার একটি ইতিবাচক দিক হলো এর ফাইবার বা আঁশ। এই আঁশ রক্তে চিনি মেশার গতিকে কিছুটা কমিয়ে দেয়। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আপনি যদি ডায়াবেটিস রোগী হন তবে সফেদা পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই; বরং এখানে ‘পরিমাণ’ এবং ‘সময়’ রক্ষা করাটাই আসল কৌশল।
খাওয়ার ক্ষেত্রে যেসব নিয়ম মানতে হবে
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, যারা নিয়মিত সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছেন, তারা মাঝেমধ্যে সফেদার কয়েক টুকরো উপভোগ করতে পারেন। তবে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি:
প্রতিদিন সফেদা খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
খালি পেটে সফেদা না খেয়ে বরং ভারী খাবারের পর টুকরো করে অল্প পরিমাণে খেতে পারেন।
যাদের সুগারের মাত্রা অস্বাভাবিক বা অনিয়ন্ত্রিত, তাদের জন্য এই ফলটি এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ।
মিষ্টি স্বাদের আড়ালে সফেদার ৫টি গুণ
সঠিক নিয়মে এবং পরিমিত পরিমাণে সফেদা খেলে এটি আপনার শরীরে ওষুধের মতো কাজ করতে পারে। এর চমৎকার কিছু স্বাস্থ্যগত দিক রয়েছে:
১. হজম প্রক্রিয়ায় স্বস্তি: সফেদায় থাকা ডায়েটারি ফাইবার আমাদের অন্ত্রের নড়াচড়াকে স্বাভাবিক রাখে। এটি পরিপাকতন্ত্রকে ধীরগতিতে কাজ করতে সাহায্য করে, ফলে শরীরের পক্ষে প্রাকৃতিক শর্করা গ্রহণ করা সহজ হয়। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও এর জুড়ি নেই।
২. কোষের সুরক্ষা ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট (NIH)-এর তথ্য বলছে, সফেদা ফ্লেভোনয়েড এবং পলিফেনলের মতো প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। এই উপাদানগুলো শরীরের ভেতরে হওয়া প্রদাহ কমায় এবং কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে দীর্ঘস্থায়ী সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে।
৩. হাড়ের মজবুতি বৃদ্ধি: ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ফসফরাসের একটি দারুণ উৎস হলো সফেদা। এই খনিজগুলো হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত অল্প পরিমাণে সফেদা খেলে হাড়ের দুর্বলতা রোধ করা সম্ভব হয়।
৪. প্রাকৃতিক ঢাল বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: শরীরে ভিটামিন সি এবং প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের জোগান দেয় সফেদা। ফলে দৈনন্দিন নানা সংক্রমণ এবং প্রতিকূল পরিবেশের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি পায় শরীর। এটি আমাদের শরীরের প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।
৫. ত্বকের সজীবতা বজায় রাখা: সফেদায় উপস্থিত ভিটামিন ই এবং শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের যত্নে জাদুর মতো কাজ করে। এটি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রেখে অকাল বার্ধক্যের ছাপ দূর করতে সাহায্য করে এবং ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে।
ডায়াবেটিস মানেই পছন্দের সব খাবার বিসর্জন নয়। সফেদার মতো মিষ্টি ফলও ডায়েটে থাকতে পারে, যদি আপনি সচেতন হন। নিজের বর্তমান শারীরিক অবস্থা বুঝে এবং সঠিক পরিমাণে এই ফলটি গ্রহণ করলে আপনি এর পুষ্টি ও স্বাদ—উভয়ই উপভোগ করতে পারবেন।
সফেদা ও ডায়াবেটিস নিয়ে সাধারণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
১. প্রশ্ন: ডায়াবেটিস রোগীরা কি প্রতিদিন সফেদা খেতে পারবেন?
উত্তর: না, বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন সফেদা খাওয়ার পরামর্শ দেন না। সফেদার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স মাঝারি এবং এতে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকে। তাই ডায়াবেটিস রোগীরা সপ্তাহে ১-২ দিন কয়েক টুকরো করে খেতে পারেন।
২. প্রশ্ন: সফেদার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) কত?
উত্তর: সফেদার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বা জিআই সাধারণত ৫৫ থেকে ৬৫-এর মধ্যে থাকে। এটি মাঝারি মানের জিআই হিসেবে বিবেচিত হয়, যা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে যদি তা বেশি পরিমাণে খাওয়া হয়।
৩. প্রশ্ন: ডায়াবেটিস রোগীদের সফেদা খাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় কোনটি?
উত্তর: ডায়াবেটিস রোগীদের কখনোই খালি পেটে সফেদা খাওয়া উচিত নয়। এর পরিবর্তে দুপুরের বা রাতের খাবারের পর স্ন্যাকস হিসেবে কয়েক টুকরো সফেদা খাওয়া নিরাপদ।
৪. প্রশ্ন: সফেদা কি হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে?
উত্তর: হ্যাঁ, সফেদায় প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার বা আঁশ থাকে। এই ফাইবার অন্ত্রের নড়াচড়া স্বাভাবিক রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে সহায়তা করে।
৫. প্রশ্ন: কাদের জন্য সফেদা খাওয়া একদম নিষেধ?
উত্তর: যাদের রক্তে শর্করার মাত্রা বা সুগার লেভেল অনেক বেশি এবং তা কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে থাকছে না (অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস), তাদের জন্য সফেদা এড়িয়ে চলা সবচেয়ে ভালো।
৬. প্রশ্ন: সফেদা কি হাড়ের জন্য উপকারী?
উত্তর: অবশ্যই। সফেদায় ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ফসফরাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান রয়েছে, যা হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে এবং হাড় মজবুত রাখতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
৭. প্রশ্ন: সফেদা খেলে কি ওজন বাড়ে?
উত্তর: সফেদায় প্রাকৃতিক চিনি এবং ক্যালরি কিছুটা বেশি থাকে। তবে যদি তা পরিমিত পরিমাণে এবং সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে খাওয়া হয়, তবে এটি সরাসরি ওজন বাড়াতে ভূমিকা রাখে না।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- আইসিসি থেকে সুখবর পেল বাংলাদেশ দল
- আজকের স্বর্ণের দাম: (বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)
- আজকের স্বর্ণের দাম: (বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ-আয়ারল্যান্ড বনাম পাকিস্তান: বন্ধ ম্যাচ
- ৮ম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ রেজাল্ট কবে দিবে
- শবে বরাত কী? জেনে নিন সহীহ হাদীস ও কুরআনের আলোকে এর গুরুত্ব
- earthquake bangladesh: ২০ মিনিটে ২ বার ভূমিকম্পেকাঁপল বাংলাদেশ
- ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কট: বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে কি বিসিবি?
- কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকি কমাবে আপনার রান্নাঘরের এই সাধারণ খাবারগুলো
- শবে বরাতেও আল্লাহ যে ৬ ধরনের মানুষদের ক্ষমা করবেন না
- চলছে বাংলাদেশ বনাম নেপাল ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- নেপালকে উড়িয়ে অপরাজিত ফাইনালে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ যে দল
- আইপিএল ও বিশ্বকাপ বয়কট: মুস্তাফিজের ৩ শব্দের জবাবে অবাক সালাউদ্দিন
- স্টাম্পিং ও রানআউটে বড় পরিবর্তন: ক্রিকেটে আসছে নতুন একগুচ্ছ আইন
- earthquake today: ভূমিকম্পে কাঁপলো বাংলাদেশ,উৎপত্তিস্থল কোথায় ও মাত্রা কত