ঢাকা, শনিবার, ৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২

MD. Razib Ali

Senior Reporter

বিএনপিতে পরিবর্তনের হাওয়া: জানা গেল বিএনপির চেয়ারম্যান হচ্ছে কে

রাজনীতি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ১১:৩০:২৮
বিএনপিতে পরিবর্তনের হাওয়া: জানা গেল বিএনপির চেয়ারম্যান হচ্ছে কে

বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে। দলটির অভিভাবক বেগম খালেদা জিয়ার মহাপ্রয়াণের পর এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে—কে হচ্ছেন বিএনপির পরবর্তী কাণ্ডারি? দীর্ঘদিনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান তারেক রহমানকে পূর্ণাঙ্গ ‘চেয়ারম্যান’ হিসেবে দেখতে চাইছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আবেগ এবং সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মেলবন্ধন ঘটাতে চাইছেন স্বয়ং তারেক রহমান।

নীতিনির্ধারকদের প্রস্তাব ও তারেক রহমানের ‘ধৈর্য’

বিএনপি দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শোকের প্রাথমিক রেশ কাটতে না কাটতেই দলের আগামী দিনের সাংগঠনিক রূপরেখা নিয়ে বসেছিল জাতীয় স্থায়ী কমিটি। সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাব ওঠে যে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারেক রহমানকে পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব অর্পণ করা হোক।

তবে স্থায়ী কমিটির এই প্রস্তাবে এখনই চূড়ান্ত সায় দেননি তারেক রহমান। তার ঘনিষ্ঠজনদের মতে, মায়ের মৃত্যুর শোকাতুর পরিবেশে দ্রুত কোনো সাংগঠনিক পদবি গ্রহণ করতে তিনি মানসিকভাবে প্রস্তুত নন। বরং তিনি কিছুটা সময় নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে এবং দলের মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সেন্টিমেন্ট বুঝতে বেশি আগ্রহী।

গঠনতান্ত্রিক আইনি অবস্থান

তারেক রহমানের পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হওয়ার ক্ষেত্রে বিএনপির গঠনতন্ত্রে কোনো আইনি জটিলতা নেই। গঠনতন্ত্রের ধারা ৭-এর ‘গ’ (২ ও ৩) উপধারা অনুযায়ী, চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই পদের উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পরবর্তী কাউন্সিল হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি এই পদে বহাল থাকতে পারেন। স্থায়ী কমিটির সদস্যরা মনে করছেন, কোনো বিশেষ কাউন্সিল ছাড়াই একটি সাংগঠনিক রেজ্যুলেশনের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব।

স্থায়ী কমিটির এক প্রভাবশালী নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "নেতৃত্বের প্রশ্নে স্থায়ী কমিটিতে তারেক রহমানের নাম অবধারিত। তবে তিনি নিজে থেকেই শোকের সময়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং বিষয়টিকে আপাতত স্থগিত রাখতে বলেছেন।"

নেতৃত্বের দীর্ঘ পরিক্রমা

১৯৮৪ সাল থেকে আমৃত্যু বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে দলটিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। অন্যদিকে, তারেক রহমানের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৮ সালে বগুড়া থেকে। ২০০৯ সালে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং ২০১৮ সালে দলীয় প্রধান কারাবন্দি হওয়ার পর থেকে তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে সফলভাবে দলকে পরিচালিত করে আসছেন। দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসে থাকার পর, গত ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে তিনি স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন।

অস্পষ্টতা কাটেনি এখনো

নেতৃত্বের এই পরিবর্তন নিয়ে বিএনপির সিনিয়র নেতারা এখনই জনসমক্ষে মুখ খুলতে নারাজ। স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। দলের মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, দলের আনুষ্ঠানিক ফোরাম থেকে সিদ্ধান্ত আসার পরই বিষয়টি দেশবাসীকে জানানো হবে।

পর্যবেক্ষকদের বিশ্লেষণ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমান এখনই পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যানের পদবী না নিলেও, তিনিই কার্যত দলের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তবে তৃণমূলের মতামত নিয়ে এই পদে আসীন হওয়ার যে আকাঙ্ক্ষা তিনি দেখিয়েছেন, তা দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ