ঢাকা, শনিবার, ৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২

Alamin Islam

Senior Reporter

মোদি কাকে বাংলাদেশের ক্ষমতায় দেখতে চায়?

রাজনীতি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ১১:৫৬:৩০
মোদি কাকে বাংলাদেশের ক্ষমতায় দেখতে চায়?

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একটি প্রশ্ন সর্বত্র ঘুরপাক খাচ্ছে—ভারত তথা নরেন্দ্র মোদি সরকার বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসলে কাকে দেখতে চায়? এতদিন শেখ হাসিনার সাথে দিল্লির ‘সোনালী অধ্যায়’ চললেও বর্তমানে সেই সমীকরণ কি বদলে যাচ্ছে? ভারতীয় গণমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক থিঙ্ক ট্যাংকগুলোর বিশ্লেষণ থেকে উঠে আসছে নতুন ও চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য।

বিএনপির দিকে কি হাত বাড়াচ্ছে দিল্লি?

পিনাকী ভট্টাচার্য এর তথ্য অনুযায়ী, ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যমগুলোতে এখন বিএনপি এবং তারেক রহমানকে নিয়ে ইতিবাচক প্রচার দেখা যাচ্ছে। ‘দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড’ (The Business Standard) তাদের এক প্রতিবেদনে তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে ‘পোটেনশিয়ালি গেম চেঞ্জিং পলিটিক্যাল মোমেন্ট’ হিসেবে অভিহিত করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভারত এবং বিএনপির মধ্যে একটি ‘সতর্ক পুনর্গঠন’ (Cautious Reset) শুরু হয়েছে।

এমনকি ভারতীয় কর্মকর্তারা এখন মনে করছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি বাংলাদেশের জন্য একটি ‘প্রেডিক্টেবল, লিবারেল এবং ডেমোক্রেটিক অল্টারনেটিভ’ বা নির্ভরযোগ্য ও গণতান্ত্রিক বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।

মোদির বিশেষ বার্তা ও বরফ গলার সংকেত

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত ডিসেম্বরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সব ধরনের সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বিএনপির পক্ষ থেকেও এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে মোদির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি কেবল সৌজন্য নয়, বরং বিএনপির সাথে দিল্লির সম্পর্ক উন্নয়নের একটি বড় সংকেত।

জামায়াত ঠেকাতে কি বিএনপিই ভারতের ভরসা?

‘ইউরেশিয়া রিভিউ’ (Eurasia Review) এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ’ (International Crisis Group) এর মতো সংস্থার মতে, ভারত এবং বিএনপি উভয়ই উগ্র ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামীকে ক্ষমতার বাইরে রাখার বিষয়ে একমত। ভারত মনে করে, বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপিই এখন ভারতের স্বার্থ ও উদ্বেগকে সম্মান জানাতে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী। এছাড়া ২০১৮ সাল থেকেই দিল্লি লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপি নেতৃত্বের সাথে যোগাযোগ রাখছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

জয়শঙ্করের ঢাকা সফর ও তিন দাবি

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সম্প্রতি ঢাকা সফর করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সাথে বৈঠক করেছেন। পিনাকী ভট্টাচার্য ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, জয়শঙ্কর তিনটি সুনির্দিষ্ট বার্তা দিয়েছেন:

১. ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের উত্তেজনা কমাতে হবে।

২. আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে।

৩. প্রয়োজনে নির্বাচনের তারিখ পিছিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা নিশ্চিত করতে হবে।

চুজেন ফোর্স নয়, ‘কম্প্রোমাইজড অ্যাক্টর’?

পিনাকীর বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, বিএনপি ভারতের জন্য কোনো ‘পছন্দের শক্তি’ (Chosen Force) নয়, বরং একটি ‘আপসকারী পক্ষ’ (Compromised Actor)। দিল্লি মনে করে বিএনপিকে ম্যানেজ করা বা তাদের সাথে সমঝোতা করা সহজ। তারেক রহমানও ক্ষমতার প্রয়োজনে ভারতের সাথে আপস করতে রাজি হয়েছেন বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

বাংলাদেশের পরবর্তী ক্ষমতার মসনদে ভারত কাকে দেখতে চায়—এই প্রশ্নের উত্তরে দিল্লির গণমাধ্যমগুলো বিএনপির দিকে ইঙ্গিত দিলেও ভিডিওর বিশ্লেষণে একটি ভিন্ন সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মানুষ এমন একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র চায় যেখানে সরকার ঢাকার সমর্থনে চলবে, দিল্লির দয়ায় নয়। আগামী নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পালাবদল নয়, বরং বিদেশের প্রভাবমুক্ত একটি নতুন রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ কি না, তা নিয়ে দেশজুড়ে চলছে আলোচনা।

আল-মামুন/

ট্যাগ: মোদি কাকে বাংলাদেশের ক্ষমতায় দেখতে চায়? ভারত কাকে সমর্থন করছে বিএনপি নাকি আওয়ামী লীগ? বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হচ্ছে? বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব ২০২৬ ভারতের পরবর্তী চাল কী বাংলাদেশে? তারেক রহমান ও ভারত সম্পর্ক নরেন্দ্র মোদি ও বিএনপি তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে ইন্ডিয়ান মিডিয়া এস জয়শঙ্করের ঢাকা সফর ২০২৬ আওয়ামী লীগকে কি ভারত আর চায় না? জামায়াত দমনে ভারত ও বিএনপির সমঝোতা বাংলাদেশের ক্ষমতার বড় খেলোয়াড় ভারত বিএনপি কি ভারতের পছন্দের দল? পিনাকী ভট্টাচার্য নতুন ভিডিও বিশ্লেষণ ইন্ডিয়ান মিডিয়াতে তারেক রহমানের প্রশংসা বাংলাদেশের রাজনীতিতে দিল্লির নতুন সমীকরণ

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ