ঢাকা, শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২

সুরা ফাতেহার বরকতে রোগ নিরাময়: সাহাবাদের জীবন্ত উদাহরণ

ধর্ম ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২৪ ১৭:৪৯:৫২
সুরা ফাতেহার বরকতে রোগ নিরাময়: সাহাবাদের জীবন্ত উদাহরণ

ইসলামের ইতিহাসে কোরআনের বরকত ও নবীজির (সা.) শিক্ষা কতটা শক্তিশালী হতে পারে, তার এক চমকপ্রদ উদাহরণ জানিয়েছেন আবু সাঈদ খুদরি (রা.)। সাহাবায়ে কেরাম কোনো এক সফরে বের হলে আরবের এক গোত্রের বসতির পাশ দিয়ে যেতেন। স্থানীয়রা তাদের কাছে মেহমানদারি চাইলেও, তখন তা করা হয়নি।

কিছুক্ষণ পর ঘটনাক্রমে ওই গোত্রের নেতা সাপে দংশিত হন। স্থানীয়রা তখন সাহাবিদের কাছে জানতে চাইলেন, “আপনাদের মধ্যে কি সাপের দংশন নিরাময় বা ঝাড়ফুঁক করার ক্ষমতা আছে?” সাহাবিরা বলেন, “হ্যাঁ, আছে। কিন্তু মেহমানদারি না করার কারণে পারিশ্রমিক নির্ধারণ না করলে আমরা ঝাড়ফুঁক করব না।” শেষ পর্যন্ত স্থানীয়রা পারিশ্রমিক হিসেবে এক পাল ছাগল দিতে সম্মত হন।

সুরা ফাতেহার বরকতে অলৌকিক নিরাময়

সাহাবিরা নেতা ব্যক্তির কাছে গিয়ে একজন সাহাবি সুরা ফাতেহা পাঠ করে মুখে থুথু মিশিয়ে শরীরে ছিটিয়ে দেন। আল্লাহর ইচ্ছায় রোগমুক্তি ঘটে। প্রতিশ্রুতিপূর্ণ ছাগল তারা গ্রহণ করেন, তবে নবীজিকে (সা.) জিজ্ঞেস না করে তা ভাগ বা খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেননি। মদিনায় ফিরে নবীজিকে (সা.) ঘটনা জানান। নবীজি হাসি দিয়ে বলেন,

“আপনারা কীভাবে জানলেন, সুরা ফাতেহা পাঠ করলে রোগ সারে? ঠিক আছে, ছাগলগুলো ভাগ করুন, আমার জন্যও এক ভাগ রাখবেন।”(সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

শিক্ষণীয় বিষয়

ঘটনাটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে কোরআন কেবল আধ্যাত্মিক নয়, দৈহিক ও মানসিক রোগের নিরাময়েও কার্যকর। এটি অন্তরের সন্দেহ, বিভ্রান্তি ও কুমন্ত্রণা দূর করার জন্যও শিফা। কোরআনের বরকতে বদনজর, হিংসা, জিন ও জাদুর কুপ্রভাব কাটানো সম্ভব।

সাধারণ শারীরিক রোগের ক্ষেত্রে অবশ্য জাগতিক চিকিৎসা গ্রহণ এবং অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ জরুরি। তবে ওষুধের সঙ্গে আল্লাহর বাণীর ঝাড়ফুঁক করলে রোগমুক্তি দ্রুততর ও সহজ হয়।

FAQ (Frequently Asked Questions)

Q1: সুরা ফাতেহা কীভাবে রোগমুক্তি দিতে পারে?

A: সুরা ফাতেহা আল্লাহর বাণী। সাহাবাদের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এটি শারীরিক ও মানসিক রোগ নিরাময়ে বরকত হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে সাধারণ শারীরিক রোগের জন্য চিকিৎসা নেওয়া জরুরি, সুরা ফাতেহা পড়া ও ঝাড়ফুঁক একসাথে করলে আরোগ্য দ্রুত হয়।

Q2: সাহাবাদের ঝাড়ফুঁক ও সুরা ফাতেহার ঘটনা কী?

A: আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত ঘটনা অনুযায়ী, সাহাবারা কোনো গোত্রের নেতাকে সাপে দংশিত হওয়ার পর সুরা ফাতেহা পাঠ ও মুখে থুথু মিশিয়ে শরীরে ছিটিয়ে দেন। আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি রোগমুক্ত হন।

Q3: কোরআনের বরকত কি শুধু মানসিক রোগ নয়, শারীরিক রোগেও কার্যকর?

A: হ্যাঁ। কোরআন অন্তরের রোগ যেমন সন্দেহ, কুমন্ত্রণা, বিভ্রান্তি দূর করার পাশাপাশি শারীরিক রোগ ও জিন-জাদুর কুপ্রভাব কমানোর জন্যও শিফা হিসেবে প্রমাণিত।

Q4: ঝাড়ফুঁক করার সময় পারিশ্রমিক গ্রহণ কি ইসলামে অনুমোদিত?

A: সাহাবাদের উদাহরণ অনুযায়ী, পারিশ্রমিক গ্রহণ করা সম্ভব। তবে নবীজির (সা.) শিক্ষায় চিকিৎসা ও ঝাড়ফুঁক আল্লাহর বরকতের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে করা উচিত।

Q5: নবীজির (সা.) শিক্ষা অনুযায়ী সাধারণ রোগে কি কেবল ঝাড়ফুঁক যথেষ্ট?

A: সাধারণ শারীরিক রোগের জন্য চিকিৎসা ও ওষুধ গ্রহণ প্রাথমিকভাবে জরুরি। ঝাড়ফুঁক ও কোরআনের পাঠ আল্লাহর সাহায্য ও বরকত হিসেবে সাহায্য করতে পারে, তবে চিকিৎসার বিকল্প নয়।

Q6: সহিহ বুখারি ও মুসলিমে এই ঘটনা কোথায় উল্লেখ আছে?

A: আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত এই ঘটনা সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম-এ উল্লেখ আছে, যা নবীজির (সা.) শিক্ষা ও কোরআনের বরকতের প্রমাণ।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ