ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২

চাঙ্গা হচ্ছে শেয়ারবাজার: বিদেশিদের পছন্দের শীর্ষে ২৬ ব্লু-চিপ শেয়ার

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ মার্চ ১৩ ১৭:১৯:১৩
চাঙ্গা হচ্ছে শেয়ারবাজার: বিদেশিদের পছন্দের শীর্ষে ২৬ ব্লু-চিপ শেয়ার

দেশের শেয়ারবাজারে ফের ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগ। দীর্ঘ স্থবিরতা কাটিয়ে ফেব্রুয়ারি মাসে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে ব্যাংক ও ওষুধ খাতের শক্তিশালী মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানিগুলোতে তাদের আগ্রহের প্রতিফলন ঘটেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার চিত্র পাওয়া গেছে।

২৬ কোম্পানিতে বিদেশিদের বিপুল বিনিয়োগ

ফেব্রুয়ারি মাসের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মোট ২৬টি কোম্পানিতে নতুন করে বিদেশি মূলধন যুক্ত হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ২৮০ কোটি টাকা। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে দেশের ওষুধ খাতের জায়ান্ট স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস। কোম্পানিটিতে বিদেশিরা ১৬০ কোটি টাকার শেয়ার সংগ্রহ করেছেন। এতে তাদের মালিকানা ১৪.৭০ শতাংশ থেকে এক লাফে ১৫.৫০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের পছন্দের দ্বিতীয় তালিকায় রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। প্রায় ১১০ কোটি টাকার শেয়ার কেনার মাধ্যমে ব্যাংকটিতে বিদেশিদের অংশীদারিত্ব দাঁড়িয়েছে ৩৬.৭২ শতাংশে, যা আগে ছিল ৩৬.০৫ শতাংশ। এছাড়া ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক এবং আইডিএলসি ফাইন্যান্সের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও ছোট পরিসরে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়তে দেখা গেছে।

কিছু শেয়ারে বিনিয়োগ প্রত্যাহারের চিত্র

বিনিয়োগ বাড়ার বিপরীতে কয়েকটি কোম্পানি থেকে মূলধন সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতাও লক্ষ্য করা গেছে। তথ্যমতে, ১৬টি প্রতিষ্ঠান থেকে বিদেশিরা প্রায় ১২৬.৩৫ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশটি ছিল অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ-এর। কোম্পানিটি থেকে ৮০ কোটি টাকার শেয়ার অফলোড করা হয়েছে, ফলে বিদেশিদের হিস্যা ৩২.৮৩ শতাংশ থেকে কমে ৩০.২৬ শতাংশে নেমেছে।

টেলিকম খাতের শীর্ষ কোম্পানি গ্রামীণফোন থেকেও ২৫ কোটি টাকার বিনিয়োগ তুলে নেওয়া হয়েছে। এর বাইরে ডিবিএইচ ফাইন্যান্স, বিসিআরএম লিমিটেড ও যমুনা অয়েলের শেয়ারেও বিক্রির চাপ দেখা গেছে।

সীমাবদ্ধতা ও বিনিয়োগকারীদের সতর্কতা

ডিএসইর তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশের বাজারে বিদেশি অংশগ্রহণ এখনো একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ। তালিকাভুক্ত ৩৬০টি কোম্পানির মধ্যে মাত্র ১৩২টিতে বিদেশিদের শেয়ার রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মূলত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ‘সিলেক্টিভ’ বা বাছ-বিচারপ্রবণ। তারা শুধুমাত্র করপোরেট সুশাসন এবং স্বচ্ছ আর্থিক প্রতিবেদন রয়েছে এমন শেয়ারে আস্থা রাখছেন। বাজারে অনেক দুর্বল কোম্পানি থাকা এবং নীতিমালার আকস্মিক পরিবর্তন বিদেশি বিনিয়োগের পথে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিতে আশার আলো

পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ সহজতর করতে ঐতিহাসিক এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ৯ মার্চ প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে মূলধন বা লভ্যাংশ নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার (Repatriation) প্রক্রিয়া শিথিল করা হয়েছে। আগে কোনো ধরনের পূর্ব অনুমোদন ছাড়া সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিদেশে নেওয়া যেত, বর্তমানে সেই সীমা বাড়িয়ে ১০০ কোটি টাকা করা হয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, টাকা দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার নিয়ম সহজ করায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট দূর হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের শেয়ারবাজারে বিদেশি মুদ্রার প্রবাহ আরও বাড়িয়ে দেবে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ