মুমিনের আসল পরিচয় কী? বিপদে ধৈর্য ও তাকদীরে বিশ্বাসের সুফল
মানুষের জীবন এক বৈচিত্র্যময় সফর। এখানে যেমন হাসির ঝিলিক আছে, তেমনি আছে চোখের জল। প্রাপ্তির উল্লাসের পাশাপাশি কখনো কখনো রিক্ততা আমাদের ঘিরে ধরে। সাধারণ দৃষ্টিতে বিপদকে আমরা অভিশাপ মনে করলেও, একজন ঈমানদারের কাছে এর অর্থ ভিন্ন। মূলত সংকটে মুমিনের দৃষ্টিভঙ্গিই বলে দেয় তার ঈমানের গভীরতা কতটুকু।
তাকদীর ও ধৈর্য: মুমিনের আত্মিক শক্তি
সুখ ও দুঃখের এই পরিক্রমাকে ইসলাম ‘পরীক্ষা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। যখন কোনো মানুষ বিশ্বাস করে যে—তার জীবনের প্রতিটি বাঁক মহান আল্লাহর সুনিপুণ পরিকল্পনার (ক্বদর) অংশ, তখন তার কাছে দুঃখও সওয়াব অর্জনের সোপান হয়ে দাঁড়ায়। এই বোধই মুমিনকে হতাশার অন্ধকার থেকে উদ্ধার করে।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এ প্রসঙ্গে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেছেন:
“আমি তোমাদের ভয়, ক্ষুধা, সম্পদ ও জীবনের ক্ষয়ক্ষতি এবং ফল-ফসলের স্বল্পতা দিয়ে যাচাই করব। আর এমন ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন—যারা বিপদে পড়লে বলে, ‘নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমরা তাঁর কাছেই ফিরে যাব’।” (সুরা বাকারা: ১৫৫-১৫৬)
অসীম প্রতিদানের হাতছানি
ধৈর্য কেবল সহ্য করার নাম নয়, বরং এটি মহান আল্লাহর বিশেষ এক নেয়ামত। যারা ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন, তাদের জন্য আল্লাহ রেখেছেন অগণিত পুরস্কার। সুরা আয-যুমারে ঘোষণা করা হয়েছে— “নিশ্চয়ই ধৈর্যশীলদের তাদের প্রতিদান দেওয়া হবে কোনো হিসাব ছাড়াই।” (আয়াত ১০)
রাসূলের (সা.) বর্ণনায় মুমিনের বিস্ময়কর জীবন
একজন মুমিনের জীবন যে কতটা অনন্য, তা ফুটে ওঠে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসে। তিনি বলেছেন— মুমিনের প্রতিটি বিষয়ই বিস্ময়কর! কষ্টের সময় সে যদি ধৈর্য ধরে, তবে তাতেও তার জন্য কল্যাণ নিহিত থাকে (মুসলিম)। অন্য এক বর্ণনায় ধৈর্যকে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে প্রশস্ত দান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে (বুখারি ও মুসলিম)।
বিপদে অবিচল থাকার ৫টি অনন্য উপায়
জীবন যখন কঠিন হয়ে ওঠে, তখন নিজেকে শান্ত রাখতে এবং ঈমানের ওপর অটল থাকতে নিচের ৫টি কাজ বিশেষভাবে সহায়ক হতে পারে:
১. তাকদীরে অটল আস্থা: মনে এই বিশ্বাস গেঁথে নেওয়া যে, আল্লাহর প্রতিটি ফয়সালার পেছনেই বান্দার জন্য কল্যাণ লুকিয়ে থাকে।
২. অভিযোগের পরিবর্তে প্রার্থনা: মানুষের কাছে নিজের দুর্দশার কথা না বলে সিজদায় গিয়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া। দোয়া মানুষের মনের শক্তি বৃদ্ধি করে।
৩. ইবাদতে প্রশান্তি খোঁজা: কুরআন তেলাওয়াত এবং সালাতের মাধ্যমে মনের প্রশান্তি অর্জন করা। আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন— “তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো।” (সুরা বাকারা: ৪৫)
৪. ধৈর্যকে ইবাদত ভাবা: প্রতিকূল সময়ে আল্লাহর ওপর ভরসা করে চুপ থাকাও একটি নীরব ইবাদত, যা আমলনামায় সওয়াব হিসেবে যোগ হয়।
৫. সর্বাবস্থায় কৃতজ্ঞতা: জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলার অভ্যাস করা। শোকর ও সবরই মুমিনের এগিয়ে চলার মূল চাবিকাঠি।
ধৈর্য কোনো দুর্বলতা নয়, বরং এটি আল্লাহর ওপর অগাধ বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ। আজ হয়তো আপনার সময়টা কঠিন কাটছে, কিন্তু এই ধৈর্যই হতে পারে আপনার জান্নাতে যাওয়ার উসিলা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে প্রতিটি সংকটে ধৈর্যশীল থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- ‘জেড’ থেকে 'বি' ক্যাটাগরিতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফিরছে বাংলাদেশ ইঙ্গিত দিল আইসিসি
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফিরছে বাংলাদেশ!
- শবে বরাতের নামাজের নিয়ম, দোয়া ও ২০২৬ সালের গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক তারিখ
- আইসিসির বৈঠকে চিৎকার বিসিবি সভাপতির বুলবুলের
- আজ বার্সেলোনা বনাম ওভিয়েদো ম্যাচ: কখন, কোথায় ও কীভাবে দেখবেন লাইভ
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: পাকিস্তানের সামনে তিন পথ
- আজ ৮ কোম্পানির বোর্ড সভা: আসছে ইপিএস
- আজকের স্বর্ণের দাম: (সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬)
- ভারত থেকে সরে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ!
- আর্জেন্টিনার ম্যাচ কবে কখন? জানুন ম্যাচের সময়সূচি
- টানা ৪ দিনের লম্বা ছুটির ঘোষণা, প্রজ্ঞাপন জারি
- সাবধান! আপনার এই ৮টি ভুলেই কি দ্রুত টাক পড়ে যাচ্ছে? আজই জানুন
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট ও সোনার দাম (২৬ জানুয়ারি)
- বিনিয়োগকারীদের চাহিদার শীর্ষে ৯ কোম্পানির শেয়ার