Alamin Islam
Senior Reporter
স্বামী-স্ত্রী কি একে অপরের ফোন চেক করতে পারবেন? ইসলাম যা বলে
ইসলামি জীবনদর্শনে দাম্পত্য কেবল একটি লৌকিক চুক্তি নয়, বরং এটি আত্মিক প্রশান্তি ও বিশ্বাসের এক সুদৃঢ় আমানত। ভালোবাসা এবং দায়িত্ববোধের ওপর ভিত্তি করে যে ঘর গড়ে ওঠে, সেখানে 'সন্দেহ' হলো এক নীরব ঘাতক। বর্তমান সময়ে এই সন্দেহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে হাতের স্মার্টফোনটি। সঙ্গীর অগোচরে তার মেসেজ বা কল লিস্ট চেক করা এখনকার বৈবাহিক জীবনে এক বড় বিতর্কের বিষয়। প্রশ্ন হলো, ধর্মের দৃষ্টিতে একজনের ব্যক্তিগত ফোনে অন্যজনের বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করা কতটা সংগত?
গোপনীয়তা রক্ষায় কুরআনের কঠিন অবস্থান
ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা প্রাইভেসির অধিকার ইসলামে অত্যন্ত জোরালো। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন অন্যের দোষ বা গোপন বিষয় অনুসন্ধান না করতে। মুফাসসিরদের মতে, এই নির্দেশনা কেবল বাইরের মানুষের জন্য নয়, বরং স্বামী-স্ত্রীর মতো গভীর সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য। বৈবাহিক সম্পর্কের অর্থ এই নয় যে, একজনের ব্যক্তিগত পরিসরে অন্যজন জবরদস্তি প্রবেশের অধিকার পাবেন।
ইমাম গাজ্জালীর দর্শন: অনুসন্ধানে নয়, বিশ্বাসে মুক্তি
বিখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ইমাম আবু হামিদ আল-গাজ্জালী দাম্পত্য স্থিতিশীলতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, একটি সুখের সংসার টিকে থাকে অটুট আস্থার ওপর, গোয়েন্দাগিরির ওপর নয়। অহেতুক কৌতূহল বা সন্দেহবশত অনুসন্ধান হৃদয়ের নির্মলতা কেড়ে নেয় এবং ভালোবাসার জায়গাকে অবিশ্বাসে বিষিয়ে তোলে। আধুনিক যুগের ডিজিটাল আলাপচারিতা বা ব্যক্তিগত নোট অনুমতি ছাড়া দেখা সেই নিষিদ্ধ অনুসন্ধানেরই নামান্তর।
স্মার্টফোন: একবিংশ শতাব্দীর ব্যক্তিগত ডায়েরি
বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি মোবাইল ফোন কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি মানুষের একান্ত ব্যক্তিগত ডায়েরির মতো। এখানে কারো ব্যক্তিগত মোনাজাত, নিজের দুর্বলতা, কান্না কিংবা এমন কিছু সুপ্ত চিন্তা থাকতে পারে যা তিনি কারো সামনে প্রকাশে ইচ্ছুক নন। হানাফি ও মালিকি মাজহাবের আলেমদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, স্বামী-স্ত্রীর মাঝেও নির্দিষ্ট সীমারেখা বা ‘হুদুদ’ রয়েছে। একজন যেমন অন্যজনের মনের সবটুকু নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না, তেমনি একে অপরের ব্যক্তিগত তথ্যের ওপর একচ্ছত্র আধিপত্যও ইসলাম সমর্থন করে না।
ফিতনা এড়াতে স্বচ্ছতা জরুরি
যদি সঙ্গীর বিশ্বস্ততা নিয়ে যৌক্তিক কোনো সংশয় দেখা দেয় কিংবা সম্পর্কের সুরক্ষা হুমকির মুখে পড়ে, তবে ইসলাম ‘গোপন তল্লাশি’র চেয়ে ‘খোলামেলা সংলাপ’কে প্রাধান্য দেয়। লুকিয়ে ফোন চেক করা কোনো সমাধান নয়, বরং এটি আস্থার দেয়ালকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করে। এক্ষেত্রে ইমাম ইবনু তাইমিয়ার একটি মূলনীতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য— সত্য বের করার উদ্দেশ্যে করা কোনো কাজ যদি হিতে বিপরীত হয়ে বিশৃঙ্খলা বা ‘ফিতনা’ তৈরি করে, তবে তাতে কোনো কল্যাণ নেই।
নজরদারি নাকি আমানতদারি?
অনেক ক্ষেত্রে মোবাইল তল্লাশি করে কোনো অপ্রিয় সত্য বেরিয়ে এলেও সেই সত্য সবসময় শান্তি আনে না। কারণ একবার বিশ্বাসে ফাটল ধরলে সত্যের চেয়ে সন্দেহের দহনই বড় হয়ে দাঁড়ায়। ইসলাম দাম্পত্য জীবনকে একটি ‘পাহারা বেষ্টিত কারাগার’ হিসেবে নয়, বরং ‘নিরাপদ প্রশান্তির নীড়’ হিসেবে দেখতে চায়।
দিনশেষে এটি কেবল প্রযুক্তির ব্যবহার নয়, বরং মনস্তাত্ত্বিক বিষয়। একটি সুখী সম্পর্কের মূল চাবিকাঠি হলো মোবাইলের পাসওয়ার্ড জানাজানি নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং আল্লাহভীতি। যেখানে অন্তরের স্বচ্ছতা থাকে, সেখানে নজরদারির প্রয়োজন পড়ে না।
পাঠকদের জন্য বিশেষ নোট: এই প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ আপনার সরবরাহকৃত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।
স্বামী-স্ত্রীর গোপনীয়তা ও মোবাইল ফোন: সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. প্রশ্ন: ইসলামে কি স্বামী বা স্ত্রীর মোবাইল ফোন চেক করা জায়েজ?
উত্তর: ইসলামি শরিয়তের মূলনীতি হলো কোনো মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা অকারণে অনুসন্ধান করা বৈধ নয়। পবিত্র কুরআনে স্পষ্টভাবে অন্যের দোষ বা গোপন বিষয় খুঁজতে নিষেধ করা হয়েছে। স্বামী-স্ত্রী একে অপরের ঘনিষ্ঠ হলেও বিনা অনুমতিতে একজনের ব্যক্তিগত মেসেজ বা কল লিস্ট অন্যজনের চেক করা অনধিকার চর্চার শামিল।
২. প্রশ্ন: সন্দেহ হলে কি গোপনে জীবনসঙ্গীর ফোন দেখা যাবে?
উত্তর: আলেমদের মতে, অহেতুক সন্দেহ থেকে গোয়েন্দাগিরি করা সম্পর্ক নষ্ট করে। যদি প্রতারণার স্পষ্ট আলামত থাকে, তবে গোপনে ফোন চেক করার চেয়ে সরাসরি কথা বলা এবং সত্য উদঘাটনের জন্য পারিবারিক বা ধর্মীয় মধ্যস্থতার পথ বেছে নেওয়া উচিত। কারণ গোপনে ফোন চেক করা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে।
৩. প্রশ্ন: বিবাহিত জীবনে কি কোনো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা থাকতে পারে?
উত্তর: হ্যাঁ। ইসলাম মনে করে স্বামী-স্ত্রী হওয়া মানেই একে অপরের ব্যক্তিগত পরিসরে জোরপূর্বক প্রবেশের অধিকারী হয়ে যাওয়া নয়। হানাফি ও মালিকি মাজহাবের আলেমদের মতে, দাম্পত্য জীবনেও ‘হুদুদ’ বা নির্দিষ্ট সীমারেখা আছে। মোবাইল ফোনকে ব্যক্তিগত ডায়েরির মতো বিবেচনা করা হয়, যেখানে মানুষের একান্ত অনেক চিন্তা বা দোয়া থাকতে পারে যা সে প্রকাশে ইচ্ছুক নয়।
৪. প্রশ্ন: স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে বিশ্বাস অটুট রাখার উপায় কী?
উত্তর: ইমাম আবু হামিদ আল-গাজ্জালীর মতে, সংসারে শান্তি টিকে থাকে বিশ্বাসের মাধ্যমে, অনুসন্ধানের মাধ্যমে নয়। নজরদারি বা পাহারা দিয়ে সম্পর্ক রক্ষা করা যায় না। বরং আল্লাহর ভয় বা তাকওয়া এবং একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধই সম্পর্কের ভিত মজবুত করে।
৫. প্রশ্ন: সত্য জানার জন্য ফোন চেক করলে কি ফিতনা সৃষ্টি হয়?
উত্তর: ইমাম ইবনু তাইমিয়ার একটি মূলনীতি হলো—যে কাজ বাহ্যিকভাবে সত্য উদঘাটনের জন্য করা হয়, কিন্তু তার ফলে পরিবারে বিশৃঙ্খলা বা ‘ফিতনা’ তৈরি হয়, তাতে কোনো কল্যাণ নেই। অনেক সময় মোবাইল চেক করে সত্য পাওয়া গেলেও পারস্পরিক বিশ্বাস ভেঙে যাওয়ার কারণে সম্পর্ক আর আগের অবস্থায় ফিরে আসে না।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- আজকের স্বর্ণের দাম: (শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬)
- সোনালী পেপার দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ: ইপিএস ও ক্যাশফ্লোতে বড় পরিবর্তন
- ওয়াটা কেমিক্যালস: মুনাফায় বিশাল লাফ, দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- কনফিডেন্স সিমেন্ট ও ইন্দো-বাংলাসহ ৫ কোম্পানির দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- সরকারি ৭ কোম্পানির মুনাফায় ৪৭ শতাংশের বিশাল লাফ
- মতিন স্পিনিং: দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- এক লাফে ভরিতে ৩০ হাজার টাকা কমলো স্বর্ণের দাম
- বড় প্রবৃদ্ধিতে স্কয়ার ফার্মা: দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- শবে বরাতের রোজা কবে কখন? জানুন তারিখ ও সময়সূচি
- বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ারের দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ: ইপিএস শক্তিশালী
- বারাকা পাওয়ারের দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ: আয় বেড়েছে
- বিডিকম অনলাইনের দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক চিত্র প্রকাশ
- এসিআই: দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- আজকের স্বর্ণের দাম: (শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬)
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট ও সোনার দাম (৩১জানুয়ারি)