Md Razib Ali
Senior Reporter
পিরিয়ডে শবে কদরের ইবাদত করবেন কীভাবে?
ইসলামে লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব অপরিসীম। পবিত্র কুরআনের বর্ণনায় এই এক রাতের ইবাদত হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। এই মহিমান্বিত রজনীতে স্রষ্টার সান্নিধ্য ও ক্ষমা পাওয়ার সুযোগ হারানো যে কারো জন্যই অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়। তবে রমজানের শেষ দশকের এই সময়ে অনেক নারী প্রাকৃতিক কারণে (মাসিক বা ঋতুস্রাব) নামাজ ও রোজা থেকে বিরত থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে তারা হতাশায় ভোগেন যে, হয়তো এই বছরের শ্রেষ্ঠ রাতের ফজিলত তারা পাবেন না।
কিন্তু শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, এই বিশেষ অবস্থায় থেকেও নারীরা শবে কদরের পূর্ণ সওয়াব ও বরকত হাসিল করতে পারেন।
শবে কদরের ফজিলত: নবীজির (সা.) শিক্ষা
শবে কদরে ইবাদতের মাধ্যমে গুনাহ মাফের এক সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়। বুখারি (১৯০১) ও মুসলিমের (৭৬০) বর্ণনা অনুযায়ী, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন— ‘যে ব্যক্তি ইমান ও সওয়াব পাওয়ার দৃঢ় আশা নিয়ে লাইলাতুল কদরের রাতে ইবাদতে মশগুল হবে, তার অতীতের সব পাপ মার্জনা করা হবে।’
রমজানের শেষ দিনগুলোতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইবাদতের একাগ্রতা বেড়ে যেত। আম্মাজান হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন— ‘যখন রমজানের শেষ ১০ দিন আসত, নবীজি (সা.) কোমরে কাপড় বেঁধে (পুরোদমে) ইবাদতে আত্মনিয়োগ করতেন। তিনি নিজে সারারাত জেগে থাকতেন এবং পরিবারের সদস্যদেরও ইবাদতের জন্য জাগিয়ে দিতেন।’ (বুখারি ২০২৪, মুসলিম ১১৭৪)।
শরিয়তের বিধি ও বিকল্প আমল
শবে কদরের মর্যাদা নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য সমানভাবে নির্ধারিত। ঋতুবতী নারীদের জন্য নামাজ পড়া, পবিত্র কুরআন সরাসরি স্পর্শ করে তেলাওয়াত করা কিংবা কাবা শরিফ তাওয়াফ করা নিষিদ্ধ হলেও ইবাদতের অন্যান্য দ্বার তাদের জন্য খোলা থাকে। জিকির, তসবিহ, দরুদ ও কায়মনোবাক্যে দোয়ার মাধ্যমে এই রাতকে সার্থক করে তোলা সম্ভব।
পিরিয়ড চলাকালীন শবে কদরের তিন বিশেষ আমল:
১. তসবিহ ও জিকিরে সময় কাটানো:
নামাজ পড়তে না পারলেও নারীরা জিবাকে আল্লাহর জিকিরে সজীব রাখতে পারেন। নিচের জিকিরগুলো শবে কদরের রাতে বারবার পড়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে:
‘সুবহানাল্লাহ’ (আল্লাহ অতি পবিত্র)
‘আলহামদুলিল্লাহ’ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর)
‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই)
‘আল্লাহু আকবার’ (আল্লাহ সবচেয়ে মহান)
‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আযিম’ (আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি তাঁর প্রশংসার সাথে, মহান আল্লাহ অতি পবিত্র)।
২. অধিক হারে ইস্তিগফার পাঠ:
ক্ষমা পাওয়ার রাত শবে কদর। তাই এই রাতে বেশি বেশি ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ (আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই) পাঠ করা উচিত। ইস্তিগফার হলো মহান রবের পক্ষ থেকে গুনাহ মুক্তির অন্যতম শ্রেষ্ঠ হাতিয়ার।
৩. আকুল মনে দোয়া করা:
দোয়াকে ইবাদতের মগজ বা মূল অংশ বলা হয়। তিরমিজি শরিফের (২৮৯৫) হাদিসে রাসুল (সা.) স্পষ্ট করেছেন— ‘দোয়া-ই হলো ইবাদত।’ তাই নারীরা এই পবিত্র রাতে জায়নামাজে বসে নিজের জন্য, পরিবারের জন্য এবং পরকালীন মুক্তির জন্য রবের কাছে দীর্ঘ সময় ধরে প্রার্থনা করতে পারেন। দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ কামনার জন্য এটিই শ্রেষ্ঠ সময়।
পরিশেষে, শবে কদর কোনো নির্দিষ্ট শারীরিক অবস্থার জন্য সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি হৃদয়ের একাগ্রতা ও রবের প্রতি আনুগত্যের বিষয়। তাই মাসিক অবস্থায় থাকা নারীরা জিকির, ইস্তিগফার ও কান্নাকাটি মেশানো দোয়ার মাধ্যমে এই রজনীকে ধন্য করতে পারেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে কদরের বরকত দান করুন। আমিন।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- আজকের সোনার দাম: (রবিবার, ২৪ মে ২০২৬)
- আজকের খেলার সময়সূচি:বায়ার্ন মিউনিখ বনাম স্টুটগার্ট
- সরাসরি চুক্তিতে জাফনা কিংসে সাকিব: লঙ্কান লিগে বড় চমক
- ম্যারাডোনার রেকর্ড ভাঙছেন মেসি, স্কোয়াডে বড় চমক
- শেখ হাসিনাকে ফেরানোর তৎপরতা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বড় ঘোষণা
- ১০ গোলের মহানাটকীয় ম্যাচ, বিশ্বকাপের আগে মেসির ইনজুরি