Alamin Islam
Senior Reporter
লিভার নষ্ট হচ্ছে কি না বুঝবেন হাত ও পায়ের এই লক্ষণে
শরীরের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি লিভার বা যকৃৎ। সাধারণত লিভারের সমস্যা বললে আমাদের মাথায় প্রথমেই আসে জন্ডিস কিংবা পেটের গোলমালের কথা। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, যকৃতের জটিলতা সবসময় একই রকম উপসর্গ নিয়ে আসে না। আপনার অজান্তেই লিভারে কোনো রোগ বাসা বাঁধছে কি না, তার আগাম সংকেত লুকিয়ে থাকতে পারে আপনার হাত ও পায়ের পাতায়। এমনকি ফ্যাটি লিভারের মতো সমস্যাও প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করা সম্ভব এই অঙ্গগুলোর পরিবর্তন দেখে।
আপনার শরীর কি কোনো অশুভ সংকেত দিচ্ছে? মিলিয়ে নিন হাত ও পায়ের এই ৫টি লক্ষণ:
১. করতলে রক্তাভ ছোপ ও ফোলা ভাব
অনেক সময় দুই হাতের তালু অস্বাভাবিক লাল হয়ে যায়। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানে লিভারের সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে দেখা হয়। লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা বিঘ্নিত হলে শরীরে হরমোনের ভারসাম্যে পরিবর্তন আসে, ফলে হাতের রক্তনালিগুলো প্রসারিত হয়ে প্রদাহের সৃষ্টি করে। এক্ষেত্রে তালুতে কোনো চুলকানি বা ব্যথা থাকে না, তবে ফোলা ভাব স্পষ্ট হতে পারে। এমনটা দেখলে অবহেলা করা একদমই উচিত নয়।
২. নখের বিবর্ণতা ও সাদাটে ভাব
নখকে বলা হয় শরীরের ভেতরের অবস্থার আয়না। যদি দেখেন নখের স্বাভাবিক গোলাপি আভা হারিয়ে যাচ্ছে এবং তা ফ্যাকাশে বা সাদাটে হয়ে পড়ছে, তবে সতর্ক হওয়া জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে নখের ওপর হলদে দাগও দেখা যায়। লিভারের সমস্যার পাশাপাশি এটি আয়রনের ঘাটতিরও পূর্বাভাস দেয়। তাই নখের রং বদলে যাওয়া যকৃতের অসুস্থতার একটি জোরালো লক্ষণ।
৩. গোড়ালির কালচে দাগ ও শোথ (ফোলা)
পায়ে মাঝেমধ্যে চুলকানি হওয়া কিংবা পায়ের পাতা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া লিভারের গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত। বিশেষ করে যখন লিভারে গভীর ক্ষত বা ‘সিরোসিস’ তৈরি হয়, তখন শরীরের রক্ত চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং ধমনীতে চাপ বাড়ে। এর ফলে হাত-পায়ে জল জমে ফুলে যায়, যাকে ‘পেরিফেরাল ভাস্কুলার ডিজিজ’ বলা হয়। গোড়ালিতে কালচে ছোপ পড়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত ক্লান্তি এবং রুচি কমে যাওয়াও এর আনুষঙ্গিক উপসর্গ।
৪. নীলচে শিরার জাল বা ‘স্পাইডার ভেন’
পায়ের ওপর জালের মতো ছড়িয়ে থাকা নীল বা সবুজ রঙের শিরার দৃশ্যমানতা লিভারের রোগের আরেকটি লক্ষণ। শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলে রক্তনালির এমন গঠন দেখা দেয়। যেহেতু লিভার হরমোন নিয়ন্ত্রণে প্রধান ভূমিকা রাখে, তাই যকৃতের রোগ হলে এই ‘স্পাইডার ভেন’-এর প্রকোপ বাড়তে পারে।
৫. হাত-পায়ের অবশ ভাব ও স্নায়বিক সমস্যা
হঠাৎ করে হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া কিংবা পায়ের শিরায় তীব্র টান ধরাকে সাধারণ সমস্যা মনে করবেন না। হেপাটাইটিস সি কিংবা অতিরিক্ত মদ্যপানজনিত ফ্যাটি লিভারের কারণে হাত ও পায়ের স্নায়ুগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে হাত-পায়ে সাড় না থাকা বা ব্যথার মতো স্নায়বিক অস্বস্তি তৈরি হয়।
শরীরের প্রতিটি লক্ষণই কোনো না কোনো বার্তা বহন করে। লিভারের সমস্যা মানেই যে বুক জ্বালাপোড়া কিংবা জন্ডিস হতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। উপরোক্ত লক্ষণগুলোর কোনো একটিও যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং লিভার পরীক্ষা করানোই বুদ্ধিমানের কাজ।
লিভারের রোগ ও লক্ষণ সম্পর্কিত সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. লিভারের সমস্যা মানেই কি জন্ডিস হওয়া বাধ্যতামূলক?
উত্তর: না, অনেকেরই ধারণা লিভারের অসুখ মানেই জন্ডিস হবে। কিন্তু জন্ডিস ছাড়াও লিভারে মেদ জমা বা লিভার সিরোসিসের মতো সমস্যায় হাত ও পায়ে বিভিন্ন অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
২. হাতের তালু লাল হয়ে যাওয়া কেন লিভারের রোগের লক্ষণ?
উত্তর: লিভারের কার্যক্ষমতা কমে গেলে শরীরের হরমোন নিঃসরণ অনিয়মিত হয়ে পড়ে। এর ফলে হাতের তালুর রক্তনালিগুলো প্রসারিত হয় এবং প্রদাহ সৃষ্টি করে, যার ফলে হাতের তালু লালচে দেখায়। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'পালমার ইরাইথেমা' বলা হয়।
৩. নখের রং বদলে যাওয়ার সাথে লিভারের কী সম্পর্ক?
উত্তর: নখ যদি অতিরিক্ত ফ্যাকাশে বা সাদাটে হয়ে যায়, তবে বুঝতে হবে লিভারের সমস্যা শুরু হয়েছে। এছাড়া নখে হলদে ছোপ পড়লে সেটিও আসন্ন বড় কোনো রোগের ইঙ্গিত হতে পারে। এটি শরীরে আয়রনের অভাবের কারণেও হতে পারে।
৪. পায়ের গোড়ালি ফুলে যাওয়া কেন বিপজ্জনক?
উত্তর: লিভারে গভীর ক্ষত বা সিরোসিস হলে শরীরের ধমনীগুলোর ওপর চাপ পড়ে এবং রক্ত চলাচলে বাধা তৈরি হয়। এর ফলে হাত ও পায়ের টিস্যুতে জল জমতে শুরু করে এবং গোড়ালি ফুলে যায়। এই অবস্থাকে 'পেরিফেরাল ভাস্কুলার ডিজিজ' বলা হয়।
৫. 'স্পাইডার ভেন' বা জালের মতো শিরা কেন দেখা যায়?
উত্তর: লিভারের রোগ হলে শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এর প্রভাবে পায়ের পাতায় জালের মতো নীল বা সবুজ শিরা দৃশ্যমান হয়ে ওঠে, যাকে স্পাইডার ভেন বলা হয়।
৬. হাত-পা কি কারণে অবশ বা অসাড় মনে হতে পারে?
উত্তর: হেপাটাইটিস সি কিংবা অ্যালকোহলজনিত ফ্যাটি লিভারের কারণে শরীরের স্নায়ুগুলো প্রভাবিত হয়। এর ফলে মাঝেমধ্যেই হাত-পায়ে ব্যথা, অবশ ভাব কিংবা পায়ের শিরায় টান ধরার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
৭. লিভার সুস্থ রাখতে এই লক্ষণগুলো দেখলে কী করা উচিত?
উত্তর: যদি আপনার হাত ও পায়ে উপরোক্ত লক্ষণগুলোর কোনোটি দেখা দেয়, তবে দেরি না করে দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং লিভার ফাংশন টেস্ট (LFT) বা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করিয়ে নিন।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- আজকের স্বর্ণের দাম: (সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)
- ৬১৫০ কোটির ক্ষতি রুখতে বিসিবিকে ৩ বড় সুবিধা দিচ্ছে আইসিসি
- লুব-রেফের মহাপ্রতারণা: ভুয়া সম্পদের আড়ালে আইপিওর শত কোটি টাকা গায়েব
- ‘অদম্য বাংলাদেশ’ কাপের ফাইনাল: চলছে দুর্বার বনাম ধূমকেতু ম্যাচ, সরাসরি দেখুন Live
- অকালেই বাড়ছে লিভার ক্যানসার! যকৃতের সুরক্ষায় সেরা ৭ খাবার জানুন
- ৪ দিন বন্ধ ইন্টারনেট ব্যাংকিং: জরুরি নির্দেশনা জারি
- ভারত-পাক-বাংলাদেশ ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রস্তাব! কী বলছে আইসিসি?
- স্বর্ণের বাজারে নতুন রেকর্ড: আজ থেকে ভরিতে গুনতে হবে অতিরিক্ত টাকা
- ইউসিবি ব্যাংকে বড় নিয়োগ: আজই অনলাইনে আবেদন করুন
- ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ খেলতে আইসিসিকে ৩ শর্ত, লাভ হবে বাংলাদেশের
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট ও সোনার দাম (৯ ফেব্রুয়ারি)
- সাবধান! কিডনি বিকল হওয়ার আগে এই ৫ জায়গায় ব্যথা হয়
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে যে সিদ্ধান্ত নিল পিসিবি প্রধান
- আবহাওয়া পরিবর্তনে কাশি? ৪ ঘরোয়া উপায়ে দ্রুত মুক্তি
- পুরুষের ত্বকের যত্নে ৩টি জরুরি কাজ; আজই জেনে নিন