ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

MD. Razib Ali

Senior Reporter

রোজা রাখলে মনের ওপর কী প্রভাব পড়ে? জানুন এর বিস্ময়কর উপকারিতা

ধর্ম ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১০:৫৬:৩৫
রোজা রাখলে মনের ওপর কী প্রভাব পড়ে? জানুন এর বিস্ময়কর উপকারিতা

পবিত্র রমজান মাসের রোজা কেবল ধর্মীয় বিধানই নয়, বরং এটি শারীরিক ও মানসিক উৎকর্ষ সাধনের এক শক্তিশালী মাধ্যম। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে রোজার শারীরিক উপকারিতা নিয়ে বহু আলোচনা হলেও, এর মনস্তাত্ত্বিক ইতিবাচক প্রভাবগুলো অনন্য। দীর্ঘ এক মাসের এই সংযম ও শৃঙ্খলা মানুষের চিন্তাধারা এবং জীবনবোধে আমূল পরিবর্তন আনতে সক্ষম।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোজার মাধ্যমে একজন মানুষের মনে যে মিতব্যয়িতা ও ধৈর্য সৃষ্টি হয়, তা মানসিক সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। চলুন দেখে নেওয়া যাক, রোজা কীভাবে আমাদের মনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে:

১. আত্মানুসন্ধান ও আধ্যাত্মিক জাগরণ

রমজানের মূল সুর হলো জাগতিক বিলাসিতা থেকে দূরে সরে এসে নিজের ভেতরের সত্তাকে চেনা। এই সময়ে রোজাদাররা প্রার্থনার মাধ্যমে এক ধরণের ধ্যানমগ্ন অবস্থায় থাকেন, যা মনের অস্থিরতা দূর করে। স্রষ্টার ওপর অগাধ বিশ্বাস স্থাপন এবং নিজের সবটুকু চাহিদা তার কাছে সঁপে দেওয়ার মাধ্যমে ব্যক্তি এক ধরণের পরম নির্ভরতা খুঁজে পায়। এই আধ্যাত্মিক সংযোগ মানসিক চাপ কমিয়ে মনে প্রশান্তি আনে।

২. আবেগের নিয়ন্ত্রণ ও সামাজিক মেলবন্ধন

রমজান মাস মানুষকে শোকরিয়া বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশের শিক্ষা দেয়। স্রষ্টার দেওয়া নেয়ামতগুলোর মূল্য উপলব্ধি করার মাধ্যমে মানুষের মনের ভেতর থেকে অতৃপ্তি দূর হয়। বিশেষ করে সূর্যাস্তের সময় পরিবারের সবার সাথে মিলে ইফতার করার যে আনন্দ, তা একাকীত্ব দূর করে এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করে। এই সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন মানুষের আবেগীয় নিরাপত্তাকে আরও সুদৃঢ় করে।

৩. চারিত্রিক সংশোধন ও আসক্তি মুক্তি

যেকোনো মন্দ অভ্যাস বা ক্ষতিকর আসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য রমজান হলো বছরের শ্রেষ্ঠ সময়। ধূমপান ত্যাগ করা, অতিরিক্ত ভোজনবিলাস পরিহার কিংবা অনর্থক মিথ্যা বলা থেকে দূরে থাকার মাধ্যমে একজন মানুষ নিজের ব্যক্তিত্বকে নতুন করে গড়ার সুযোগ পান। এছাড়া পরচর্চা বা একগুঁয়েমির মতো নেতিবাচক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো দমনেও রোজা কার্যকর ভূমিকা রাখে। মূলত, এই এক মাস নিজেকে শাসনের যে প্রশিক্ষণ চলে, তা উন্নত জীবনযাত্রার পথ প্রশস্ত করে।

৪. সুশৃঙ্খল জীবন ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব

রমজানের শিক্ষা যদি কেউ বছরের বাকি সময়গুলোতেও ধারণ করতে পারেন, তবে তার জীবন হবে অনেক বেশি গোছানো এবং চাপমুক্ত। বাজে অভ্যাসগুলো ত্যাগ করে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথে হাঁটা কেবল মনের জন্যই ভালো নয়, বরং এটি সামগ্রিক স্বাস্থ্যকেও সতেজ রাখে।

পরিশেষে, রমজান হলো আত্মশুদ্ধির এক সুবর্ণ সুযোগ। এই মাসের সংযম ও সহমর্মিতার শিক্ষা একজন মানুষকে মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী ও মানবিক হিসেবে গড়ে তোলে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ