MD. Razib Ali
Senior Reporter
ভূমিকম্প হলে যে দোয়া পড়বেন ও আমল করবেন
মাঝেমধ্যেই কেঁপে উঠছে জনপদ। কখনো মৃদু কম্পন আবার কখনো প্রলয়ঙ্করী ভূকম্পন। ভৌগোলিক ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা যা-ই থাক না কেন, ইসলামের দৃষ্টিতে প্রতিটি কম্পনই মানবজাতির জন্য এক একটি সতর্কবার্তা। এই আকস্মিক দুর্যোগ কেন আসে এবং এমন মুহূর্তে একজন মুমিনের দায়িত্ব কী—তা জানা প্রতিটি মুসলমানের জন্য জরুরি।
ভূকম্পন কেন হয়: বিজ্ঞান ও ইসলামের সমন্বয়
ভূতত্ত্ববিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, পৃথিবীর গভীরে শিলাস্তরের ঘর্ষণ বা পরিবর্তনের ফলে সঞ্চিত শক্তির আকস্মিক মুক্তিই হলো ভূমিকম্প। আগ্নেয়গিরি, শিলাচ্যুতি কিংবা ভূপৃষ্ঠের অভ্যন্তরীণ নড়াচড়া এই কম্পনের মূল কারণ।
তবে ইসলাম মনে করে, প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের পেছনে মানুষের কর্মফলও জড়িত। প্রিয়নবী (সা.) দেড় হাজার বছর আগেই সতর্ক করেছিলেন যে, যখন সমাজে অনাচার বেড়ে যাবে, তখন একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ হানা দেবে। সুনানে তিরমিজির এক বর্ণনায় (হাদিস: ১৪৪৭) এসেছে—অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জন, আমানতের খেয়ানত, জাকাতকে বোঝা মনে করা, দ্বীনি উদ্দেশ্য ছাড়া শিক্ষা অর্জন এবং পরিবারের চেয়ে বন্ধুদের প্রাধান্য দেওয়ার মতো সামাজিক অবক্ষয় যখন চরম পর্যায়ে পৌঁছাবে, তখন রক্তিম ঝড় ও ভূমিধসের মতো বিপর্যয় নেমে আসবে।
পবিত্র কোরআনের বিশেষ দিকনির্দেশনা
পবিত্র কোরআনে ‘যিলযাল’ বা ‘ভূমিকম্প’ নামে একটি পূর্ণাঙ্গ সুরা রয়েছে, যা এই দুর্যোগের ভয়াবহতা নির্দেশ করে। মহান আল্লাহ সুরা আনআমে (আয়াত: ৬৫) স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি ওপর থেকে কিংবা পায়ের নিচ থেকে (ভূমিকম্পের মাধ্যমে) আজাব পাঠাতে সক্ষম। সহিহ বুখারিতে বর্ণিত আছে, এই আয়াত নাজিলের সময় রাসুল (সা.) আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করেছিলেন।
শায়খ ইস্পাহানি (রহ.)-এর মতে, পায়ের নিচ থেকে আজাব আসার অর্থই হলো ভূমিকম্প বা ভূমিধস। মূলত মানুষের পাপাচার যখন সীমা ছাড়িয়ে যায়, আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীকে প্রকম্পিত হওয়ার নির্দেশ দেন যাতে মানুষ তাওবা করে তাঁর পথে ফিরে আসে।
কিয়ামতের আলামত হিসেবে ভূমিকম্প
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, শেষ জামানায় ভূমিকম্পের সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে। বুখারি শরিফের ৯৭৯ নম্বর হাদিসে বলা হয়েছে—যতক্ষণ না ইলম বা ধর্মীয় জ্ঞান বিলুপ্ত হবে, ফিতনা ছড়িয়ে পড়বে এবং অধিক পরিমাণে ভূমিকম্প হবে, ততক্ষণ কিয়ামত সংঘটিত হবে না। বর্তমানে ঘনঘন ভূমিকম্প হওয়া মূলত কিয়ামতেরই আগাম বার্তা।
সংকটকালীন রক্ষাকবচ: দোয়া ইউনুস
যেকোনো বড় বিপদ বা জানমালের নিরাপত্তাহীনতায় ‘দোয়া ইউনুস’ পাঠ করা অত্যন্ত বরকতময়। মাছের পেটে থাকা অবস্থায় হযরত ইউনুস (আ.) এই দোয়ার মাধ্যমেই আল্লাহর সাহায্য পেয়েছিলেন। অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে এই দোয়া পাঠ করা সুন্নত।
দোয়াটি হলো:
لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ، إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জ-লিমিন।
অর্থ: ‘আপনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, আপনি পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত।’
এই সময়ে আমাদের আমল ও করণীয়
বিপর্যয় থেকে বাঁচতে কেবল দোয়া যথেষ্ট নয়, বরং নিজেদের আচরণগত পরিবর্তনও প্রয়োজন:
১. তাওবা ও ইস্তিগফার: অবিলম্বে পাপাচার ত্যাগ করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া।
২. দান-সদকা: দরিদ্রদের সাহায্য করা দুর্যোগ দূর করার অন্যতম মাধ্যম। হযরত উমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.) ভূমিকম্পের সময় দান-সদকা করার বিশেষ নির্দেশ দিতেন।
৩. সামাজিক সংশোধন: সমাজে প্রচলিত জিনা-ব্যভিচার ও জুলুম বন্ধে সচেষ্ট হওয়া।
৪. আল্লাহকে স্মরণ: ভয় না পেয়ে বেশি বেশি জিকির ও আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ করা।
পরিশেষে, ভূমিকম্প আমাদের জন্য একটি পরীক্ষা। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, পৃথিবীর সমস্ত শক্তির উৎস একমাত্র মহান আল্লাহ। তাই দুর্যোগের আতঙ্কে দিশেহারা না হয়ে সঠিক আমল ও দোয়ার মাধ্যমে মহান রবের আশ্রয় গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- চলছে বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- চলছে বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড ম্যাচ: টস শেষ, জানুন ফলাফল
- ৬ কোম্পানির লভ্যাংশ ও ইপিএস ঘোষণার তারিখ চূড়ান্ত
- শেয়ারবাজারে হঠাৎ বড় লাফ
- শেয়ারবাজার সংস্কারে বিএসইসিতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
- ডিএসইর ৩ ব্রোকারেজে বড় পরিবর্তন: বাদ পড়লেন ৩ প্রতিনিধি
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড: শরিফুলের প্রথম আঘাত, সরাসরি দেখুন Live
- আজকের খেলার সময়সূচি: বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড
- ডিএসই সূচকে এপ্রিলেও নেই নতুন মুখ: আইপিও খরায় বড় ধাক্কা
- হজ ও ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা: আমিরাতে ৬ দিনের ছুটি!
- আজকের স্বর্ণের দাম: (শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬)
- ২০২৬ সালে চাহিদার শীর্ষে থাকবে যে চাকরি গুলো: আয়ের বিস্তারিত তথ্য