MD. Razib Ali
Senior Reporter
আল-আকসায় তারাবি বন্ধ: জরুরি অবস্থার নামে চরম কড়াকড়ি
রমজানের পুণ্যলগ্নে ইবাদতবঞ্চিত হলো হাজারো ফিলিস্তিনি। অধিকৃত জেরুজালেমের পবিত্র মসজিদুল আকসায় শনিবার (রমজানের ১১তম দিন) রাতে এশা ও তারাবির নামাজ আদায়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। ইরান-ইসরায়েল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ঘোষিত ‘জরুরি অবস্থা’কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এই পদক্ষেপ নেয় দখলদার বাহিনী।
মুসল্লিশূন্য প্রথম কিবলা: কেবল ইমাম ও হাতেগোনা কর্মীদের প্রবেশ
ইসলামী ওয়াক্ফ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে আল-আকসার বিশাল প্রাঙ্গণ ছিল একরকম জনমানবহীন। সাধারণ মুসল্লিদের পুরোপুরি প্রবেশাধিকার না থাকলেও কেবল মসজিদের ইমাম শায়খ ইউসুফ আবু আসনাইনা এবং পরিচালক শায়খ ওমর আল-কিসওয়ানি কয়েকজন ওয়াক্ফ কর্মীসহ এশার নামাজ আদায় করতে পেরেছেন। তারাবির সময়ও একই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ ছিল, ফলে নামাজ পড়তে আসা ফিলিস্তিনিরা ক্ষুব্ধ ও ব্যথিত মনে ফিরে যান।
হোম ফ্রন্ট কমান্ডের কড়াকড়ি ও নেপথ্যের কারণ
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, সেদেশের ‘হোম ফ্রন্ট কমান্ড’ নিরাপত্তা সংকটের অজুহাত দেখিয়ে পুরো রমজানজুড়েই আল-আকসা বন্ধ রাখার নির্দেশনা জারি করেছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর ইরানি হামলার আশঙ্কায় দেশজুড়ে যে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার আওতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনসমাগম নিষিদ্ধের পাশাপাশি আল-আকসার ওপরও তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হলো। যদিও জর্ডানের তত্ত্বাবধানে থাকা ওয়াক্ফ বিভাগ এই মসজিদের প্রশাসনিক প্রধান, তবুও ইসরায়েলি পুলিশ গায়ের জোরে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করে।
জোহরের আগে থেকেই উচ্ছেদ অভিযান
নিষেধাজ্ঞার নীল নকশা শুরু হয় শনিবার জোহরের আজানের আগেই। জেরুজালেমের স্থানীয় বাসিন্দা এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা ফিলিস্তিনিদের মসজিদ চত্বর থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি মসজিদের ভেতরের কর্মীদেরও বের করে দিয়ে কেবল প্রহরীদের অবস্থান করতে দেওয়া হয়। এরপর দখলদার পুলিশের নির্দেশে একে একে বন্ধ করে দেওয়া হয় আল-আকসার প্রবেশদ্বারগুলো।
২০২০ সালের সেই স্মৃতি ও বর্তমান বাস্তবতা
চলতি রমজানের শুরু থেকে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ৩৫ হাজার থেকে ১ লাখ পর্যন্ত মানুষের সমাগম হয়েছে, সেখানে শনিবারের দৃশ্য ছিল একদমই ভিন্ন। খাঁ খাঁ করা এই মসজিদ প্রাঙ্গণ অনেকের মনে ২০২০ সালের সেই মহামারিকালীন লকডাউনের তিক্ত স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়েছে, যখন করোনার কারণে দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল এই পবিত্র স্থান।
সার্বভৌমত্ব দখলের চূড়ান্ত প্রচেষ্টা
জেরুজালেমবিষয়ক গবেষক জিয়াদ ইভহাইস এই ঘটনাকে ইসরায়েলের গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করেছেন যে, এটি কেবল নিরাপত্তার বিষয় নয় বরং আল-আকসার ওপর ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব চাপিয়ে দেওয়ার একটি কৌশল। তাঁর মতে, রমজানের এই নিষেধাজ্ঞা মসজিদটিকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার একটি বড় পদক্ষেপ, যা কোনোভাবেই নীরবে সহ্য করা উচিত নয়।
ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান এবং মুসলমানদের প্রথম কিবলার ওপর এই আকস্মিক নিষেধাজ্ঞা মুসলিম উম্মাহর মধ্যে নতুন করে উৎকণ্ঠা ও উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- শেয়ারবাজারে হঠাৎ বড় লাফ
- আজকের স্বর্ণের দাম: (বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬)
- ৬ কোম্পানির লভ্যাংশ ও ইপিএস ঘোষণার তারিখ চূড়ান্ত
- শেয়ারবাজার সংস্কারে বিএসইসিতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
- ডিএসইর ৩ ব্রোকারেজে বড় পরিবর্তন: বাদ পড়লেন ৩ প্রতিনিধি
- বার্সাকে কাঁদিয়ে ৯ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালে অ্যাতলেটিকো
- আজকের খেলার সময়সূচি:আর্সেনাল বনাম স্পোর্তিং লিসবন
- মোস্তাফিজ ও কেকেআর: খেলার ছলে রাজনীতির কূটচাল? উইজডেনের চাঞ্চল্যকর তথ্য
- ২০২৬ সালে চাহিদার শীর্ষে থাকবে যে চাকরি গুলো: আয়ের বিস্তারিত তথ্য
- হজ ও ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা: আমিরাতে ৬ দিনের ছুটি!