MD. Razib Ali
Senior Reporter
মানসিক চাপ কমানোর সহজ উপায়
যান্ত্রিক সভ্যতার তীব্র গতি আর প্রতিযোগিতার ইঁদুর দৌড়ে বর্তমান সময়ে মানসিক সুস্থতা বজায় রাখা এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিনের এই ক্লান্তি আর অস্থিরতা থেকে মুক্তি পেতে মানুষ এখন নতুন সব উপায় খুঁজছে। তবে গবেষকরা বলছেন, খুব সাধারণ একটি কাজের মাধ্যমেই এই দীর্ঘমেয়াদী বিষণ্নতা ও চাপ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আর সেই জাদুকরী উপায়টি হলো— ‘বাগান করা’।
মাটি আর সবুজের সান্নিধ্য কেবল শৌখিনতা নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী থেরাপি হিসেবে কাজ করে। চারা রোপণ থেকে শুরু করে তার পরিচর্যা—পুরো প্রক্রিয়াটিই মানুষের মনের ওপর গভীর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
মানসিক প্রশান্তিতে বাগান করার ভূমিকা কেন এত অনন্য, তার কিছু বিশেষ দিক নিচে তুলে ধরা হলো:
স্নায়ুর উত্তেজনা প্রশমন ও উদ্বেগ মুক্তি
নানা গবেষণায় দেখা গেছে, বাগানের কাজ মানুষের স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখে। যখন কেউ চারা লাগানো, গাছে পানি দেওয়া কিংবা ডালপালা ছাঁটাইয়ের মতো কাজে মনোনিবেশ করেন, তখন তার শরীরের স্ট্রেস হরমোন বা চাপের মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসে। এই ধরণের ছন্দময় এবং পুনরাবৃত্তিমূলক কাজগুলো মস্তিষ্ককে দুশ্চিন্তা থেকে দূরে সরিয়ে রাখে এবং একটি মানসিক ভারসাম্য তৈরি করে।
প্রাকৃতিক উপায়ে মেজাজ ফুরফুরে রাখা
দিনের আলোতে বাগানে সময় কাটানো মানেই হলো সরাসরি সূর্যের সংস্পর্শে আসা। এর ফলে শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি তৈরি হয়, যা মানুষের মেজাজ বা ‘মুড’ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া একটি বীজ থেকে অঙ্কুরোদগম এবং একটি ছোট চারাকে নিজের হাত বড় করে তোলার যে আনন্দ, তা মানুষের মনে আত্মবিশ্বাস ও ধৈর্য বাড়িয়ে দেয়। এই অভিজ্ঞতাটি ব্যক্তিকে মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী করে তোলে।
মননশীলতা ও বর্তমান মুহূর্তে বিচরণ
বাগান করা মানুষকে বর্তমান মুহূর্তে বাঁচতে শেখায়। আগাছা পরিষ্কার করা কিংবা গাছের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করার জন্য গভীর মনোযোগ প্রয়োজন। মাটির ঘ্রাণ নেওয়া, ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করা কিংবা গাছের পাতা স্পর্শ করার মতো বিষয়গুলো আমাদের ইন্দ্রিয়গুলোকে সজাগ করে। প্রকৃতির সঙ্গে এই নিবিড় সংযোগ বিচ্ছিন্ন চিন্তাগুলোকে থামিয়ে দেয় এবং মনে এক ধরণের গভীর প্রশান্তি নিয়ে আসে।
শারীরিক শ্রম ও ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার
বাগান করার সময় মাটি খোঁড়া বা টব নাড়াচাড়ার মতো যে শারীরিক কসরত হয়, তা শরীরে ‘এন্ডোরফিন’ হরমোন নিঃসরণ করতে সাহায্য করে। এই হরমোনটি প্রাকৃতিকভাবেই মনকে প্রফুল্ল রাখে। যারা নিয়মিত বাগানে সময় কাটান, তাদের ক্ষেত্রে খিটখিটে মেজাজ বা মানসিক অবসাদ অনেক কম দেখা যায়। বাগান থেকে পাওয়া এই প্রাণশক্তি ব্যক্তিকে সারাদিন সজীব থাকতে সাহায্য করে।
মানসিক চাপমুক্ত থাকতে ব্যয়বহুল কোনো ব্যবস্থার চেয়ে প্রকৃতির কাছে ফিরে যাওয়াই উত্তম। আপনি যদি নিজের মনকে সতেজ এবং চাপমুক্ত রাখতে চান, তবে আজই বারান্দার কোণে বা ছাদের একপাশে শুরু করতে পারেন বাগান করা। এটি কেবল আপনার চারপাশকেই সুন্দর করবে না, আপনার মানসিক জগতকেও দেবে এক অপার্থিব প্রশান্তি।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- ডিএসইতে একসঙ্গে ৭ অনুমোদিত প্রতিনিধি প্রত্যাহার
- মেঘনা কনডেন্সডের শেয়ার নিয়ে ডিএসইর ‘বাই-ইন’ ঘোষণা
- মাত্র ১ পয়সা ডিভিডেন্ড, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ
- তাপস পালের নেতৃত্বে মার্কেন্টাইল ব্যাংকে ১২০০ কোটি টাকা আত্মসাত
- পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে বড় খবর, যে কারণে বাড়ছে অনিশ্চয়তা
- বিনা সুদে ১০ হাজার টাকা ঋণ! কারা পাবেন, কীভাবে নিতে হবে
- বদলে গেল পরিস্থিতি, বাংলাদেশিদের জন্য নতুন ব্যবস্থা ভারতে
- কোল্ড ড্রিংকস খেলে অ্যাসিডিটি কমে, নাকি বাড়ে? জানুন সত্য
- সংযোগ নেই, মিটারও নেই—তবুও হাতে বিদ্যুৎ বিল!
- আবারও বাড়ল সোনার দাম, আজকের বাজারদর জেনে নিন
- মূল আমানত ফেরত দেবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক, জেনে নিন নিয়ম
- দেশের বাজারে আজকের সোনার দাম
- গোসল ফরজ হলে দুধ পান করানো নিয়ে ইসলামের বিধান