ঢাকা, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩

ভারত-বাংলাদেশের সঙ্গে গোপন সমঝোতা? যা বললেন শেখ হাসিনা

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০২ ১৪:০১:০৫
ভারত-বাংলাদেশের সঙ্গে গোপন সমঝোতা? যা বললেন শেখ হাসিনা

দেশে ফেরার বিষয়ে ভারত বা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কোনো গোপন সমঝোতা হয়নি বলে দাবি করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত তার নিজের এবং এ বিষয়ে কোনো সরকারের সঙ্গে তার রাজনৈতিক সমঝোতা নেই।

সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি। অজ্ঞাত স্থান থেকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ, দেশে ফেরার পরিকল্পনা, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

দেশে ফেরার সময়সীমা সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফিরতে চান। তবে নির্দিষ্ট তারিখ, সময় ও কোন পথে দেশে প্রবেশ করবেন, তা যথাসময়ে জানাবেন।

তার দাবি, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট অনির্দিষ্টকাল চলতে পারে না। দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতা ব্যাহত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নিজের সরকারের সময়কার অর্থনৈতিক অগ্রগতির উদাহরণ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকারের সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও মাথাপিছু আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে দেশে ফেরার ক্ষেত্রে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা স্বীকার করে শেখ হাসিনা বলেন, তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা হয়েছে এবং অতীতেও একাধিকবার তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা দলটির ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তার দাবি, আওয়ামী লীগ সাধারণ মানুষের মধ্য থেকে গড়ে ওঠা একটি রাজনৈতিক সংগঠন এবং দেশের স্বাধীনতা ও উন্নয়নে দলটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কোনো দল ভালো না খারাপ—সে সিদ্ধান্ত জনগণের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণই একটি দলের পক্ষে বা বিপক্ষে মত দেওয়ার সুযোগ পাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও হয়রানির অভিযোগও করেন শেখ হাসিনা। তার দাবি, দলটির বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী বর্তমানে দেশে-বিদেশে নানা ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছেন।

দেশে ফেরার বিষয়ে ভারত সরকার বা ঢাকার সরকারের সঙ্গে কোনো গোপন আলোচনা বা সমঝোতা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা তা অস্বীকার করেন।

তিনি বলেন, দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত একান্তই তার নিজের এবং এটি তার দলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আলোচনার বিষয়। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা এবং দলটির নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া বর্তমান সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতার সুযোগ রাখে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপি সরকার তার প্রত্যর্পণের জন্য চাপ দিচ্ছে—এমন প্রতিবেদনের বিষয়ে শেখ হাসিনা সরাসরি মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, এ প্রশ্ন বিএনপি বা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে করা উচিত।তবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ বর্তমান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সম্পর্ক নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন তিনি।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষ্য, তার সরকারের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি ছিল—‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়’।

বাংলাদেশের তিস্তা প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা এবং চীনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর প্রসঙ্গেও কথা বলেন শেখ হাসিনা।তিনি দাবি করেন, তার সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছিল এবং দেশের সব এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।

বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে যুদ্ধবিমান কেনার মতো বড় ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিস্তা প্রকল্পে ভারতের সহযোগিতা নিয়ে তার সরকারের সময়ে আলোচনা হয়েছিল বলেও জানান শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বক্তব্যের প্রসঙ্গও উঠে আসে সাক্ষাৎকারে।

শেখ হাসিনা দাবি করেন, বাংলাদেশে উগ্রবাদ, সাম্প্রদায়িক রাজনীতি, সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক এবং দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তার মতে, এর প্রভাব শুধু বাংলাদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; প্রতিবেশী দেশ ও পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার ওপরও পড়তে পারে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্থাপনায় হামলা এবং জঙ্গিবাদবিরোধী সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তবে সাক্ষাৎকারে এসব বিষয়ে তিনি যে অভিযোগ ও তথ্য তুলে ধরেছেন, সেগুলোর স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।

ভারতে অবস্থান সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে সেখানে অবস্থান করছেন এবং ভারত সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞ।

তবে বাংলাদেশে থাকা মানুষদের কথা তার সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে বলে জানান তিনি। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নেতা-কর্মীদের অবস্থা, অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি নিয়মিত খোঁজ রাখেন বলেও দাবি করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, তিনি দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে চান না। নিজের দেশে ফিরে জনগণের পাশে দাঁড়াতে চান।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণতন্ত্র দুর্বল হওয়া, উগ্রবাদের উত্থান, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তাহীনতা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রতিশোধের কাজে ব্যবহার করাই দুই দেশের সম্পর্কের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে।

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ