ঢাকা, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

MD. Razib Ali

Senior Reporter

জ্বালানি নিয়ে বড় সুখবর

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ মার্চ ১১ ১২:২১:১২
জ্বালানি নিয়ে বড় সুখবর

বিশ্বরাজনীতির অস্থিরতায় যখন জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা দানা বাঁধছিল, ঠিক তখনই আশার আলো দেখাচ্ছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে একের পর এক ডিজেলবাহী বড় জাহাজ বন্দরে ভেড়ায় বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট কেটে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আমদানিকৃত এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বন্দরে ডিজেলবাহী জাহাজের ভিড়

সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সিঙ্গাপুর থেকে ‘লিয়ান হুয়ান হু’ নামক একটি বিশালাকার ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরে এসে লঙ্গর ফেলেছে। প্রায় ২৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে আসা এই জাহাজটি পৌঁছানোর পরপরই শুরু হয়েছে খালাস প্রক্রিয়া। এর ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে সোমবার (৯ মার্চ) ‘শিউ চি’ নামের আরেকটি জাহাজ ২৭ হাজার ২০৪ মেট্রিক টন জ্বালানি নিয়ে বন্দরে নোঙর করেছিল।

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, এই দুটি জাহাজ আসার মাধ্যমে বন্দরে ডিজেল খালাসের কর্মযজ্ঞে নতুন গতি এসেছে।

আসছে আরও তিন জাহাজ: পাইপলাইনে দেড় লাখ টন জ্বালানি

জ্বালানি আমদানির এই ধারাবাহিকতা এখানেই শেষ নয়। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আরও তিনটি জাহাজ আসার শিডিউল চূড়ান্ত হয়েছে।

আগামী ১২ মার্চ প্রায় ৩০ হাজার ৪৮৪ মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে আসবে ‘এসপিটি থেমিস’।

১৩ মার্চ বন্দরে ভিড়বে ‘র‍্যাফেলস সামুরাই’।

সবশেষ ১৫ মার্চ পৌঁছানোর কথা রয়েছে ‘চাং হাং হং তু’ জাহাজটির।

এশীয় দেশগুলো থেকে সংগৃহীত এই পাঁচটি চালানে মোট ১ লাখ ৪৪ হাজার ২০৫ মেট্রিক টন পরিশোধিত ডিজেল যুক্ত হবে দেশের বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাতে।

মজুত পরিস্থিতি: আগামী এক মাস নিশ্চিন্ত

বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ ডিজেল গচ্ছিত আছে, তা দিয়ে পরবর্তী ১৬ থেকে ১৭ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। এর সঙ্গে নতুন আসা এবং পাইপলাইনে থাকা জাহাজগুলোর জ্বালানি যুক্ত হলে মজুতের সক্ষমতা কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।

সরকার কৌশলগত কারণে গত রবিবার (৮ মার্চ) থেকে দৈনিক সরবরাহের পরিমাণ কমিয়ে ৯ হাজার মেট্রিক টনে নামিয়ে এনেছে। এই কৃচ্ছ্রসাধন নীতি বজায় থাকলে নতুন আসা জ্বালানি দিয়ে আরও ১৬ দিনের জোগান নিশ্চিত হবে। ফলে সব মিলিয়ে প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় নিরবচ্ছিন্নভাবে ডিজেল সরবরাহ করতে পারবে বাংলাদেশ পেট্রলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

বিপিসির বাণিজ্যিক ও অপারেশন বিভাগের কর্মকর্তা মাসুদ পারভেজ জানান, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দ্রুততম সময়ে দেশে জ্বালানি আনতে সরকার সর্বোচ্চ তৎপর। জাহাজগুলো বন্দরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই খালাস শুরু হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে বাকি তিনটি চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি বাজার দ্রুত স্থিতিশীল হয়ে উঠবে এবং সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ থাকবে না।

বন্দর ও বিপিসির এই সমন্বিত প্রচেষ্টায় দেশের বাজারে জ্বালানি সংকটের আতঙ্ক অনেকটাই কেটে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ