ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২

Md. Mithon Sheikh

Senior Reporter

গরমে এসি চালু করছেন? আগে এই বিষয়গুলো না দেখলে বিপদ

লাইফ স্টাইল ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ মার্চ ১৩ ১৫:২৫:৪৮
গরমে এসি চালু করছেন? আগে এই বিষয়গুলো না দেখলে বিপদ

গরমের তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করতেই অনেক বাড়িতে আবার চালু হচ্ছে এয়ার কন্ডিশনার (এসি)। তবে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর সরাসরি এসি চালু করা নিরাপদ নয় বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ শীতকাল জুড়ে বন্ধ থাকার ফলে এসির ভেতরে ধুলা–ময়লা জমে যায়, এমনকি পোকামাকড় বাসা বাঁধতে পারে। এসব সমস্যা উপেক্ষা করে এসি চালু করলে যন্ত্রের ক্ষতির পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমের শুরুতে এসি ব্যবহারের আগে একটি পূর্ণাঙ্গ সার্ভিসিং করা অত্যন্ত জরুরি। এটিকে সাধারণত ‘প্রি–চেকআপ’ বা ‘প্রি–ক্লিনিং’ সার্ভিস বলা হয়। ওয়ালটনের এয়ারকন্ডিশনার সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রধান নাহিদ আলীর ভাষ্য, মৌসুমের শুরুতেই এই ধরনের পরীক্ষা ও পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করলে এসি থেকে সর্বোচ্চ কার্যক্ষমতা পাওয়া যায়।

সার্ভিসিং না করলে কী সমস্যা হতে পারে

দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকলে এর ফিল্টারে ধুলাবালু জমে যায়। ফলে ঠান্ডা বাতাস ঠিকভাবে বের হতে পারে না। এতে ঘর ঠান্ডা করার জন্য কম্প্রেসরকে বেশি কাজ করতে হয়, যার কারণে বিদ্যুৎ খরচও বেড়ে যায়।

এ ছাড়া ইনডোর ইউনিটের ভেতরে অনেক সময় পোকামাকড় আশ্রয় নেয়। পিসিবি বা প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ডে পিঁপড়া বাসা বাঁধার ঘটনাও ঘটে। কখনো কখনো টিকটিকি মরে পড়ে থাকতেও দেখা যায়। এমন পরিস্থিতিতে সার্ভিসিং ছাড়া এসি চালু করলে সার্কিট পুড়ে যাওয়ার মতো বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। একই সঙ্গে ভেতরে থাকা মৃত পোকামাকড়ের কারণে ঘরে অস্বস্তিকর দুর্গন্ধও ছড়াতে পারে।

চালুর আগে যেসব বিষয় পরীক্ষা জরুরি

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এসি পুনরায় চালুর আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই করা দরকার। যেমন—বৈদ্যুতিক সকেট ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, ইনডোর ইউনিটের পিসিবি ও জ্যাকের সংযোগ সঠিক আছে কি না এবং আর্থিং ঠিক আছে কি না। সার্ভিসিংয়ের সময় সাধারণত এসব বিষয় ভালোভাবে পরীক্ষা করা হয়, যা সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।

একই সঙ্গে ইনডোর ইউনিট খুলে কনডেনসার পরিষ্কার করা হয় এবং আউটডোর ইউনিটের কনডেনসার, গ্যাস পাইপ ও কমপ্রেসরও পরিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি রেফ্রিজারেন্টের চাপ সঠিক আছে কি না এবং কোথাও গ্যাস লিকেজ হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হয়। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এসির শীতলীকরণ ক্ষমতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে।

কত দিন পরপর সার্ভিসিং দরকার

এসি ব্যবহারের সময় ও পরিবেশের ওপর নির্ভর করে সার্ভিসিংয়ের সময় নির্ধারিত হয়। যদি কোনো বাসায় দিনে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা এসি ব্যবহার করা হয়, তাহলে বছরে অন্তত দুইবার সার্ভিসিং করানো ভালো—একবার গরমের শুরুতে এবং আরেকবার গরমের মাঝামাঝি সময়ে। অনেকেই আবার শীত শুরুর আগে আরেকবার সার্ভিসিং করিয়ে এসি বন্ধ রাখেন, যা আরও ভালো অভ্যাস হিসেবে বিবেচিত হয়।

যেসব বাসা ব্যস্ত সড়কের পাশে, সেখানে ধুলাবালু বেশি জমার কারণে এসিতে ময়লা দ্রুত জমে। ফলে এসব ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি সার্ভিসিং প্রয়োজন হতে পারে।

অফিস বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের এসির ব্যবহার বেশি হওয়ায় সেখানে সাধারণত তিন থেকে চার মাস পরপর সার্ভিসিং করা দরকার। আর শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত এসিগুলোর ক্ষেত্রে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই রক্ষণাবেক্ষণ করা প্রয়োজন হয়।

এসির সার্ভিসিংয়ের ধরন

এসি রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে সাধারণত তিন ধরনের সার্ভিসিং করা হয়।

বেসিক ক্লিনিং:

এটি সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি। ব্যবহারকারী নিজেই ফিল্টার খুলে পানির সাহায্যে পরিষ্কার করে আবার লাগিয়ে নিতে পারেন।

মাস্টার ক্লিনিং:

এ ধরনের সার্ভিসিং দক্ষ টেকনিশিয়ানরা করে থাকেন। প্রেশার ওয়াশারের মাধ্যমে ইনডোর ও আউটডোর ইউনিটের ভেতরে জমে থাকা ধুলা ও ময়লা পরিষ্কার করা হয়, যা সাধারণ পরিষ্কারের তুলনায় বেশি কার্যকর।

ডাউন সার্ভিস:

এই প্রক্রিয়ায় ইনডোর ও আউটডোর ইউনিট খুলে সাধারণত ওয়ার্কশপে নিয়ে প্রতিটি যন্ত্রাংশ আলাদাভাবে পরিষ্কার করা হয়। তবে এতে রেফ্রিজারেন্ট বা গ্যাসের কিছু ক্ষয় হওয়ার ঝুঁকি থাকে, ফলে কুলিং ক্ষমতা কমে যেতে পারে।

সার্ভিসিংয়ের সম্ভাব্য খরচ

বেশির ভাগ বড় ব্র্যান্ড গ্রাহকদের জন্য নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সার্ভিসিং সুবিধা দিয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে দুই বছর পর্যন্ত এই সেবা বিনা খরচে পাওয়া যায়। যদি এসি এখনো ওয়ারেন্টির আওতায় থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ডের সার্ভিস সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করাই ভালো।

খরচের দিক থেকে সাধারণ সার্ভিসিং করতে প্রায় ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা লাগতে পারে। মাস্টার সার্ভিসিংয়ের ক্ষেত্রে খরচ প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার টাকার মতো হয়। আর যদি গ্যাস রিফিলিংয়ের প্রয়োজন পড়ে, তাহলে রেফ্রিজারেন্টের ধরন অনুযায়ী তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে।

সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—গরমের মৌসুমে এসি ব্যবহারের আগে একটি ভালো সার্ভিসিং করিয়ে নিলে যন্ত্রের কার্যক্ষমতা বজায় থাকে, বিদ্যুৎ খরচ কমে এবং দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও অনেকটাই কমে যায়।

আল ফাহাদ/

ট্যাগ: এসি সার্ভিসিং এসি সার্ভিসিং কেন জরুরি এসি চালুর আগে করণীয় গরমে এসি ব্যবহার এসি চালুর আগে সার্ভিসিং এসি ফিল্টার পরিষ্কার করার নিয়ম এসি কিভাবে পরিষ্কার করবেন এসি সার্ভিসিং কতদিন পর পর এসি সার্ভিসিং খরচ এসি মাস্টার ক্লিনিং কী এসি বেসিক ক্লিনিং এসি ডাউন সার্ভিস কী এসি গ্যাস রিফিলিং খরচ এসি কেন ঠান্ডা করছে না এসি থেকে দুর্গন্ধ কেন আসে এসিতে ধুলা জমলে কী হয় এসি পিসিবি সমস্যা এসিতে পোকামাকড় ঢুকলে কী হয় এসি চালু করলে সার্কিট পুড়ে যায় কেন এসি ব্যবহার টিপস এসি রক্ষণাবেক্ষণ গরমে এসি ব্যবহারের টিপস বাড়িতে এসি সার্ভিসিং এসি মেইনটেন্যান্স টিপস এসি কুলিং সমস্যা এসি বিদ্যুৎ বিল বেশি কেন AC servicing AC service Bangladesh AC maintenance tips AC cleaning tips AC filter cleaning AC not cooling problem AC servicing cost AC gas refill cost AC service price Bangladesh AC basic cleaning AC master cleaning AC down service AC pre checkup service AC pre cleaning service AC maintenance guide AC indoor unit cleaning AC outdoor unit cleaning AC condenser cleaning AC compressor maintenance AC PCB problem AC electricity consumption AC safety tips air conditioner servicing air conditioner maintenance air conditioner cleaning air conditioner service cost air conditioner gas refill air conditioner not cooling how to clean AC filter when to service AC AC servicing frequency AC maintenance checklist AC service before summer AC cleaning before summer AC safety maintenance AC troubleshooting

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ