ঢাকা, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২

Md Razib Ali

Senior Reporter

শেয়ারবাজারে কারসাজি রুখতে আসছে বিশেষ কমিশন

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১০ ১৫:১৩:৩৮
শেয়ারবাজারে কারসাজি রুখতে আসছে বিশেষ কমিশন

দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোতে আমূল পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শিল্প ও ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন সংগ্রহের ক্ষেত্রে এখন থেকে ব্যাংকিং খাতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে শেয়ারবাজারকে প্রধান উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পরিকল্পনা করছে সরকার।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী এই নতুন অর্থনৈতিক দর্শনের কথা তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে তিনি দেশের আর্থিক খাতে সুশাসন ফেরাতে একাধিক বৈপ্লবিক পদক্ষেপের ঘোষণা দেন।

বিএসইসি-র স্বাধীনতা ও বাজার কারসাজি রোধ

শেয়ারবাজারকে বিনিয়োগকারীদের আস্থার জায়গায় নিতে বড় ধরনের প্রশাসনিক সংস্কারের কথা জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) আরও স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা হবে। বিশেষ করে, যারা বাজারে কৃত্রিম কারসাজি করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে একটি ‘বিশেষ তদন্ত কমিশন’ গঠনের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আর্থিক খাতে আইনি সংস্কার

আর্থিক খাতের বিশৃঙ্খলা দূর করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বর্তমান আইনি কাঠামো ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানান, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি দক্ষ ঋণ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এছাড়া বাজেট ঘাটতি পূরণে কেবল ঋণের ওপর নির্ভর না করে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বন্ড মার্কেটকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

অর্থনীতির ৫ স্তম্ভ: অর্থমন্ত্রীর অগ্রাধিকার

সংসদে অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করেছেন, যা আগামী দিনে দেশের অর্থনীতির গতিপথ নির্ধারণ করবে:

স্বস্তির বাজার দর: মূল্যস্ফীতিকে ৫ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা স্বাভাবিক রাখা।

কর ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়ন: রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে সনাতন পদ্ধতি বাদ দিয়ে অটোমেশন ও করজাল বাড়ানোর মাধ্যমে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়া।

পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার: অবৈধভাবে বিদেশে চলে যাওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বিত কাজ শুরু হয়েছে।

এসএমই ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন: ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে (SME) বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সহজ শর্তে ও সহনীয় সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা, যাতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়।

জনকল্যাণে ব্যয় বৃদ্ধি: শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক সুরক্ষা বলয়কে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করা।

স্বনির্ভর অর্থনীতির লক্ষ্য

উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব রাজস্বের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা ব্যক্ত করেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো জিডিপি প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং পর্যায়ক্রমে ঋণের বোঝা কমিয়ে এনে একটি স্থিতিশীল অর্থনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ