Md Razib Ali
Senior Reporter
সিটি ব্যাংকের রেকর্ড মুনাফা: আয় ছাড়ালো ১৩০০ কোটি
বাংলাদেশের বেসরকারি ব্যাংকিং অঙ্গনে সাফল্যের এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করল সিটি ব্যাংক। ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি তাদের আগের সব রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনের গৌরব অর্জন করেছে। শক্তিশালী ব্যবসায়িক কৌশল এবং আধুনিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে ব্যাংকটি গত এক বছরে নিট মুনাফায় প্রায় ৩১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে।
শুক্রবার প্রকাশিত ব্যাংকটির বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে সিটি ব্যাংকের সমন্বিত নিট মুনাফার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল ১ হাজার ১৪ কোটি টাকা।
আয়ের প্রধান উৎস ও ব্যবসায়িক সাফল্য
সিটি ব্যাংকের এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে মূল চালিকাশক্তি ছিল একক ব্যাংকিং কার্যক্রম। বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায়, ব্যাংকটি এককভাবে ১ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। এছাড়া সিটি ব্যাংকের অধীনে থাকা চারটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান থেকে আয় এসেছে আরও ১৮ কোটি টাকা। মূলত আয়ের বহুমুখীকরণ এবং নিয়ন্ত্রিত ব্যয় কাঠামোর কারণে এই সাফল্য ত্বরান্বিত হয়েছে।
ঋণের মান উন্নয়ন ও আয়ের গ্রাফ
ব্যাংকটির আয়ের একটি বিশাল অংশ এসেছে ঋণ সেবা থেকে। ২০২৫ সালে ঋণের বিপরীতে সুদ বাবদ আয় হয়েছে ৫ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ২৪ শতাংশ বেশি। কেবল আয় বৃদ্ধিই নয়, ব্যাংকটি খেলাপি ঋণের লাগাম টানতেও সফল হয়েছে। শ্রেণিকৃত ঋণের হার ৩.৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২.৫ শতাংশে নামিয়ে এনে সম্পদের গুণগত মান নিশ্চিত করেছে সিটি ব্যাংক।
ফি, কমিশন ও বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্তি
বিনিয়োগ খাতে সিটি ব্যাংকের বিচক্ষণতা ছিল চোখে পড়ার মতো। সরকারি সিকিউরিটিজে সুচিন্তিত বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকটি আয় স্থিতিশীল রাখতে পেরেছে। মোট ৪ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা পরিচালন আয়ের বিপরীতে বিনিয়োগ থেকে নিট আয় এসেছে ১ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা।
এছাড়া কার্ড ও রিটেইল ব্যাংকিংয়ের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা ব্যাংকটির ফি ও কমিশন আয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। এই খাত থেকে ৯৯৭ কোটি টাকা আয় হয়েছে, যার ২১ শতাংশই এসেছে ট্রেড সার্ভিস ও কার্ড বিজনেস থেকে।
ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক নিরাপত্তা
ব্যাংকটি তাদের ‘কস্ট-টু-ইনকাম’ অনুপাত ৪৪-৪৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে পেরেছে, যা দক্ষ ব্যবস্থাপনার পরিচয় দেয়। একইসাথে ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাংকটি তাদের প্রভিশন বা নিরাপত্তা সঞ্চিতি বাড়িয়ে ৮১৫ কোটি টাকা করেছে। এর ফলে প্রভিশন কভারেজ অনুপাত ১২৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি আস্থার জায়গা তৈরি করেছে।
এমডির মূল্যায়ন: রিটেইল ব্যাংকিংয়ে চমক
সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মাসরুর আরেফিন এই ফলাফল নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, নিরাপত্তার খাতিরে বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত প্রভিশন না রাখলে নিট মুনাফা অনায়াসেই ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেত।
তিনি আরও বলেন, "আমাদের কার্ড এবং রিটেইল ব্যাংকিং খাতের প্রবৃদ্ধি এখন কর্পোরেট বিভাগকেও ছাড়িয়ে গেছে। ছোট ঋণ ও এলসি ব্যবসায় আমরা অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে আছি।" তবে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কর্পোরেট ও মাঝারি ঋণের পোর্টফোলিও নিয়ে অধিক সতর্ক থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- শেয়ারবাজারে চীনের বিশাল বিনিয়োগ: ডিএসইর বড় খবর
- বিশাল বিনিয়োগ ৩ লাখ ২ হাজার শেয়ার কেনার ঘোষণা
- বিমা খাতের বিনিয়োগকারীদের নজর ১৬ এপ্রিল: বড় লভ্যাংশের আভাস
- বিএসইসির বড় অ্যাকশন: নিষিদ্ধ ফারইস্ট লাইফের অডিটর
- সুস্থ থাকতে দিনে ঠিক কয়টি খেজুর খাবেন? জানুন পুষ্টিবিদদের পরামর্শ
- ২ লাখ ৬০ হাজার শেয়ার উপহার
- শেয়ারবাজারে কারসাজি রুখতে আসছে বিশেষ কমিশন
- বার্জার পেইন্টসের রাইট শেয়ার তহবিলের সময় বাড়াল বিএসইসি
- আজকের স্বর্ণের দাম: (শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬)
- আর্জেন্টিনার পরবর্তী দুই ম্যাচের সময়সূচি ঘোষণা দেখুন প্রতিপক্ষ যারা
- আর কত দিন চলবে পেট্রল-অকটেনে, জানাল জ্বালানি বিভাগ
- আজকের খেলার সময়সূচি:ইসলামাবাদ বনাম লাহোর
- ৮০ কিমি বেগে ধেয়ে আসছে কালবৈশাখী, ৫ বিভাগে সতর্কবার্তা
- এক ধাক্কায় ৪,৪৩২ টাকা কমল সোনার দাম
- সাকিবকে ফেরানো নিয়ে আসিফ আকবরের ‘গোপন খেলা’ ফাঁস!