Md Razib Ali
Senior Reporter
স্বর্ণের বাজারে বড় দরপতন
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনা কোনো ইতিবাচক ফলাফল ছাড়াই শেষ হওয়ায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বড় ধরনের হোঁচট খেয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক লেনদেনে মূল্যবান এই ধাতুর দর এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে স্বর্ণের বাজারে এই মন্দা ভাব দেখা দিয়েছে।
এক সপ্তাহের সর্বনিম্ন দরে স্বর্ণ
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার লেনদেন চলাকালীন স্পট গোল্ডের বাজারমূল্য ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৭২৬.৬৪ ডলারে দাঁড়ায়। তবে দিনের শুরুতে এর দর আরও কমে ৪,৬৪৩ ডলারে ঠেকেছিল, যা গত ৭ এপ্রিলের পর সবচেয়ে কম। অন্যদিকে, আগামী জুন মাসের সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার বাজারমূল্য ০.৮ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৪,৭৪৮.৭০ ডলারে অবস্থান করছে।
যে কারণে অস্থির মূল্যবান ধাতুর বাজার
বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মূলত তিনটি কারণে স্বর্ণের ওপর চাপ বেড়েছে:
১. ডলারের শক্তিবৃদ্ধি: ডলার সূচক ০.৩ শতাংশ শক্তিশালী হওয়ায় অন্যান্য মুদ্রার বিপরীতে স্বর্ণ কেনা আগের চেয়ে বেশি ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।
২. তেলের বাজার ও মুদ্রাস্ফীতি: ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
৩. সুদের হার কমার অনিশ্চয়তা: জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার কমানোর অবস্থান থেকে সরে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা স্বর্ণের পারফরম্যান্সকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
ভৌগোলিক অস্থিরতা ও বিশ্লেষণ
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধের প্রস্তুতি ডলার ও তেলের দামকে বাড়িয়ে দিচ্ছে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে স্বর্ণের ওপর। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে স্পট গোল্ডের বাজারমূল্য এখন পর্যন্ত ১১ শতাংশের বেশি কমেছে।
ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, জ্বালানি পণ্যের দাম চড়া থাকায় চলতি বছরে সুদের হার কমানোর সুযোগ খুব একটা নেই। মুদ্রানীতির এই কঠোর হওয়ার সম্ভাবনাই মূলত স্বর্ণের মতো সুদবিহীন বিনিয়োগের আকর্ষণ কমিয়ে দিচ্ছে।
তানভির ইসলাম/