ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩

Md Razib Ali

Senior Reporter

আপনার ফান্ডের কী হবে? বিএসইসির বড় সিদ্ধান্ত

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৪ ১০:২২:১৮
আপনার ফান্ডের কী হবে? বিএসইসির বড় সিদ্ধান্ত

দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে এবং মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করতে বড় ধরনের সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। মূলত এই খাতেরreporting বা তথ্য প্রকাশ ব্যবস্থায় পূর্ণ স্বচ্ছতা আনাই সংস্থাটির বর্তমান লক্ষ্য। এই সংস্কার প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে কমিশনের পাঁচজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি বিশেষ শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সংস্কারের নেপথ্যে 'মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিধিমালা-২০২৫'

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ‘মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিধিমালা-২০২৫’-এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই খাতের বিদ্যমান কাঠামোকে ঢেলে সাজানো হবে। এ লক্ষ্যে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে অতিরিক্ত পরিচালক শেখ মো. লুৎফুল কবিরকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— সুলতানা পারভীন, মো. আতিকুল্লাহ খান ও মো. তৌহিদুল ইসলাম সাদ্দাম। কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবেন মো. সাগর ইসলাম।

কমিটির কর্মপরিকল্পনা ও লক্ষ্য

নবগঠিত এই টাস্কফোর্সকে আগামী ৪০ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের পর্যালোচনা প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটির প্রধান কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে:

অভিন্ন কাঠামো: একটি স্ট্যান্ডার্ড ট্রাস্ট ডিড বা আদর্শ ট্রাস্ট দলিল প্রস্তুত করা।

রিপোর্টিং আধুনিকায়ন: ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন এবং পোর্টফোলিও স্টেটমেন্টের জন্য সম্পূর্ণ নতুন ও সময়োপযোগী ফরম্যাট তৈরি।

একীভূতকরণ নীতিমালা: ফান্ডের কনভার্সন (রূপান্তর) বা মার্জারের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট গাইডলাইন প্রণয়ন।

বিনিয়োগকারীদের জন্য কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?

বিএসইসির এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো ফান্ডের সম্পদ মূল্যায়ন পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড (International Standards) কার্যকর করা। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আগের চেয়ে অনেক সহজে এবং দ্রুত ফান্ডের প্রকৃত চিত্র বুঝতে পারবেন। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, রিপোর্টিং ব্যবস্থায় কড়াকড়ি আরোপ করলে তহবিল ব্যবস্থাপকদের কাজে স্বচ্ছতা আসবে এবং তদারকি আরও শক্তিশালী হবে।

পতন ঠেকাতে বিশেষ সুরক্ষা কবচ

বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম এই সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, নতুন নীতিমালায় বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় বিশেষ বিধান রাখা হচ্ছে। যদি কোনো ফান্ডের ইউনিটের বাজারমূল্য তার নিট সম্পদমূল্যের (এনএভি) চেয়ে ২৫ শতাংশের বেশি নিচে নেমে যায়, তবে ট্রাস্টি বাধ্যতামূলকভাবে ইজিএম (EGM) আহ্বান করবে। সেখানে বিনিয়োগকারীদের ভোটাভুটির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হবে—ফান্ডটি কি বেমেয়াদি (Open-ended) ফান্ডে রূপান্তরিত হবে নাকি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি যাতে নির্বিঘ্ন ও স্বচ্ছ হয়, তা নিশ্চিত করতেই নতুন নীতিমালা কাজ করবে।

বাজারের ওপর প্রভাব

পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএসইসির এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে বাজারের শৃঙ্খলা ফেরাতে সহায়ক হবে। ডিসক্লোজার বা তথ্য প্রকাশের ধরন আধুনিক করার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের সংশয় দূর হবে, যা সামগ্রিকভাবে শেয়ারবাজারের গভীরতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ

সময় বাড়ানোর আগে ব্রোকারদের ‘আমলনামা’ চায় বিএসইসি

সময় বাড়ানোর আগে ব্রোকারদের ‘আমলনামা’ চায় বিএসইসি

পুঁজিবাজারে নতুন ‘মার্জিন রুলস-২০২৫’ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এই বিধিমালা কার্যকরের... বিস্তারিত