ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩

দুই আসামির বন্ধুর মুখে বেরিয়ে এলো সেই রাতের তথ্য

সারাদেশ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৭ ১০:২৭:২৮
দুই আসামির বন্ধুর মুখে বেরিয়ে এলো সেই রাতের তথ্য

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান দুই আসামি মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের বন্ধু সীমান্ত চন্দ্র দাস আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। সেখানে তিনি হত্যাকাণ্ডের রাতে দুই আসামির তার বাড়িতে ইয়াবা সেবনের তথ্য জানিয়েছেন বলে পুলিশ দাবি করেছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় রংপুরের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় সীমান্তের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

সীমান্ত চন্দ্র দাস নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকার সুবাস চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি কাপড়ের দোকানে বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের পরিদর্শক জিন্নাত আলী বলেন, সীমান্ত তার বাবার সঙ্গে আদালতে গিয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন। পরে বিচারক তার ১৬৪ ধারার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, সীমান্তের জবানবন্দিতে দেওয়া তথ্য আসামিদের জবানবন্দির সঙ্গে মিলেছে। আসামিরা হত্যাকাণ্ডের রাতে সীমান্তের বাড়িতে গিয়ে ইয়াবা সেবনের যে তথ্য দিয়েছিল, সীমান্তও আদালতে একই তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তারের পর রোববার সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবদুল মাবুদ জানিয়েছিলেন, হত্যাকাণ্ডের রাতে ওই দুই আসামি সীমান্তের বাসায় গিয়ে ইয়াবা সেবন করেছিল।

আসামিদের ডোপ টেস্ট করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা জিন্নাত আলী বলেন, ডোপ টেস্টের জন্য তিনি সোমবার সকালে ডাক পেয়েছেন। এরই মধ্যে পরীক্ষার জন্য আবেদন করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে মানুষের মনে থাকা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হবে বলেও জানান তিনি।

এই ঘটনায় গত রোববার মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় নিহত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। ওই রাতেই মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলাটির তদন্ত প্রথমে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জির কাছে ছিল। পরদিন সোমবার মামলার তদন্তভার থানা-পুলিশের কাছ থেকে মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় হস্তান্তর করা হয়। পরে গোয়েন্দা বিভাগের পরিদর্শক জিন্নাত আলীকে নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

যেভাবে ঘটেছিল হত্যাকাণ্ড

রংপুর জিলা স্কুলের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অবসর নেন। তিনি নগরের বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। পরে মাছুয়াপাড়া এলাকায় জমি কিনে সেখানে বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। বাড়িটির দোতলার নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর প্রায় দুই-তিন বছর ধরে পরিবার নিয়ে সেখানেই বসবাস করছিলেন। অবসরের পর তিনি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হিসেবেও রোগী দেখতেন।

গত শনিবার রাতে ওই বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ২৩ আগস্ট ভোরে একই এলাকা থেকে কানু দাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) ও বিনয় চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাসকে (১৯) আটক করা হয়। ওই দিন বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে চারজনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরের দখিগঞ্জ শ্মশানে তাদের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ