ঢাকা, বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩

চাঁদাবাজির তথ্য দিতে নতুন ওয়েবসাইট, প্রথম দিনেই চাওয়া অর্থ প্রায় ১০ লাখ

সারাদেশ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৬ ১৫:১৪:২৬
চাঁদাবাজির তথ্য দিতে নতুন ওয়েবসাইট, প্রথম দিনেই চাওয়া অর্থ প্রায় ১০ লাখ

ঘুষের অভিযোগ নথিবদ্ধের উদ্যোগের পর এবার চাঁদাবাজির তথ্য সংরক্ষণ ও প্রকাশের জন্য চালু হয়েছে ‘চান্দাবিডি ডটকম’ নামের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। কেউ চাঁদাবাজির শিকার হলে কিংবা কোথাও চাঁদা দাবির ঘটনা জানতে পারলে পরিচয় গোপন রেখে সেখানে তথ্য জমা দিতে পারবেন।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, চাঁদাবাজি, অবৈধ অর্থ দাবি এবং সেবা বা কাজের নামে আর্থিক হয়রানির অভিজ্ঞতা নথিবদ্ধ করাই প্ল্যাটফর্মটির মূল উদ্দেশ্য। বিদেশি নাগরিক-রিপোর্টিং প্ল্যাটফর্ম এবং ঘুষ সংক্রান্ত অভিযোগ নথিবদ্ধের ওয়েবসাইট ‘ঘুষ ডট সাইট’-এর অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এটি তৈরি করা হয়েছে। তবে উদ্যোক্তারা নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করেননি।

চান্দাবিডি ডটকমে চাঁদা দাবি, ভীতি প্রদর্শন, নির্মাণকাজ কিংবা ব্যবসাকে কেন্দ্র করে অবৈধ অর্থ দাবির মতো ঘটনার তথ্য দেওয়া যাবে। অভিযোগের সঙ্গে ঘটনার এলাকা, সময়, খাত বা ঘটনার ধরন, দাবি করা অর্থের পরিমাণ এবং সংক্ষিপ্ত বিবরণ যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।

তবে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, ওয়েবসাইটে জমা দেওয়া কোনো তথ্যকে আদালতগ্রাহ্য প্রমাণ, তদন্তের ফলাফল কিংবা যাচাই করা অপরাধের ঘোষণা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। এটি নাগরিক অভিজ্ঞতার একটি উন্মুক্ত নথি। এর মাধ্যমে কোন এলাকা বা খাতে চাঁদাবাজির অভিযোগ বেশি আসছে, সে বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যাবে।

ভুল তথ্য, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং ব্যক্তিগত ঠিকানা, ফোন নম্বর বা অপ্রাসঙ্গিক পরিচয় প্রকাশ ঠেকাতে প্রকাশের আগে অভিযোগগুলো মডারেশনের আওতায় আনা হবে। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও তা প্রমাণিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হবে না।

চান্দাবিডি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাউকে অপমান বা অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। বরং নাগরিকদের অভিজ্ঞতা দায়িত্বশীলভাবে নথিবদ্ধ করা, সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে সমস্যাগুলো তুলে ধরাই লক্ষ্য।

প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহারে কোনো অ্যাকাউন্ট খোলার প্রয়োজন নেই। ব্যবহারকারীর নাম, ই-মেইল বা ফোন নম্বরও নেওয়া হয় না।

মঙ্গলবার চালুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওয়েবসাইটটির পাবলিক লেজারে নয়টি রিপোর্ট জমা পড়ে। এসব ঘটনায় মোট চাওয়া বা দেওয়া অর্থের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৯ লাখ ৬০ হাজার ৭০০ টাকা। সোমবার রাত পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি রিপোর্ট এসেছে ঢাকা বিভাগ থেকে।

জমা পড়া অভিযোগগুলোর একটি টঙ্গী পৌরসভা অফিসকে ঘিরে। সেখানে ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা চাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটিকে ‘জোরপূর্বক অর্থ আদায়’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজধানীর মিরপুরের ৬০ ফুট এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের কাজের সময় এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগও রয়েছে। এতে একজন রাজনৈতিক নেতার নাম ব্যবহার করে চাঁদা চাওয়ার কথা বলা হলেও ওই ব্যক্তির সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হয়েছে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

পূর্ব শেওড়াপাড়ায় সড়ক উন্নয়নকাজের সময় বিভিন্ন ভবনের পানি ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে পুনরায় সংযোগ দেওয়ার কথা বলে ১০ হাজার টাকা করে চাওয়ার অভিযোগও প্রকাশ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

এ ছাড়া পল্টন এলাকায় ময়লার বিলের নামে প্রতি মাসে ২০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সেখানে সিটি করপোরেশনের রসিদ ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্ল্যাটফর্মটিতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ভবন ও রিয়েল এস্টেট, সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়নকাজসহ বিভিন্ন খাতের জন্য আলাদা বিভাগ রয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ—এই আট বিভাগ অনুযায়ী রিপোর্ট দেখার সুযোগ রাখা হয়েছে।

রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময় ব্যবহারকারীকে এলাকা, সেবা বা খাত, আনুমানিক অর্থের পরিমাণ এবং চাঁদা দেওয়ার ফলাফল উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তির নাম বা ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

পাঠকের মতামত: