ঢাকা, শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩

বেতন ছাড়াও যেসব সুবিধা পাবেন রাষ্ট্রপতি

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ আগস্ট ২২ ১৫:৩০:১৪
বেতন ছাড়াও যেসব সুবিধা পাবেন রাষ্ট্রপতি

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন।

নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব নেওয়ার পর তার বেতন, রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা এবং সাংবিধানিক ক্ষমতা নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রপতির বেতন ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নির্ধারিত হয় রাষ্ট্রপতির পারিশ্রমিক ও বিশেষাধিকার আইন অনুযায়ী।

বর্তমানে রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এই বেতন আয়করমুক্ত।

তবে রাষ্ট্রপতির প্রাপ্য সুবিধা শুধু মাসিক বেতনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সরকারি বাসভবন, পরিবহন, চিকিৎসা, সফর, আপ্যায়নসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুবিধা তিনি পেয়ে থাকেন।

সরকারি বাসভবন ও অন্যান্য সুবিধা

রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন। রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন সরকারিভাবে সজ্জিত ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। বাসভবনের বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, টেলিফোনসহ প্রয়োজনীয় ব্যয়ও রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হয়।

রাষ্ট্রপতি চাইলে নির্দিষ্ট শর্তে সরকারি বাসভবনের পরিবর্তে অন্য কোনো বাসভবনেও থাকতে পারেন। সে ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপতির মর্যাদার উপযোগী করে বাসভবন প্রস্তুত ও প্রয়োজনীয় ব্যয় সরকার বহন করে।

গাড়ি ও পরিবহন সুবিধা

রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের জন্য রাষ্ট্রপতি সরকারি পরিবহন সুবিধা পান। প্রয়োজন অনুযায়ী তার ও পরিবারের ব্যবহারের জন্য পরিবহনের ব্যবস্থাও সরকারি খরচে করা যায়।

রাষ্ট্রপতির সরকারি সফরের সময় যাতায়াত ও সফরকালীন প্রয়োজনীয় ব্যয়ও সরকার বহন করে। দেশের বাইরে সরকারি কাজে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত হারে ভাতা পাওয়ার বিধান রয়েছে।

আপ্যায়ন ও বিনোদন ভাতা

রাষ্ট্রপতির জন্য আপ্যায়ন ও আনুষঙ্গিক ব্যয় নির্বাহে বার্ষিক বিশেষ ভাতার ব্যবস্থাও রয়েছে। রাষ্ট্রপতির সরকারি ও রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আপ্যায়নমূলক ব্যয় এ ধরনের সুবিধার আওতায় পড়ে।

স্বেচ্ছাধীন তহবিল

রাষ্ট্রপতির জন্য রয়েছে স্বেচ্ছাধীন অনুদান বা তহবিল। বর্তমানে এ খাতে বছরে ২ কোটি টাকা বরাদ্দের বিধান রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি তার বিবেচনায় বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে এই অর্থ ব্যবহার করতে পারেন।

বিনা মূল্যে চিকিৎসা

রাষ্ট্রপতি ও তার পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও বিশেষ সুবিধা রয়েছে। দেশে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি ব্যবস্থায় ব্যয় বহনের সুযোগ রয়েছে।

চিকিৎসকের পরামর্শে বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সেই চিকিৎসার ব্যয়ও সরকার বহন করতে পারে।

বিমানভ্রমণ ও সফর

রাষ্ট্রপতির সরকারি দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে বিমানভ্রমণ ও অন্যান্য সফরের জন্যও বিশেষ সুবিধা রয়েছে। সরকারি সফরের পাশাপাশি বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ভাতা ও অন্যান্য ব্যয় রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হয়।

ফলে মাসিক বেতনের বাইরে রাষ্ট্রপতির জন্য বাসভবন, গাড়ি ও পরিবহন, চিকিৎসা, সরকারি সফর, বিদেশ ভ্রমণ এবং আপ্যায়নসহ বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে।

রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব শুধু রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সংবিধান অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান এবং তার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে।

সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেন। তবে প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির নিজস্ব সাংবিধানিক ভূমিকা রয়েছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর কোনো দল সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে সাধারণত সেই দলের সংসদীয় দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন রাষ্ট্রপতি। তবে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

দণ্ড মওকুফের ক্ষমতা

রাষ্ট্রপতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ক্ষমতা হলো দণ্ড মার্জনা, স্থগিত, হ্রাস বা মওকুফ করা।

সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের দেওয়া দণ্ডের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি নির্ধারিত সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন।

দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়মুক্তিও রয়েছে। সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির কার্যকাল চলাকালে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যক্রম শুরু বা গ্রেপ্তারের জন্য আদালতের প্রক্রিয়া জারির ক্ষেত্রে বিশেষ সুরক্ষা রয়েছে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে রাষ্ট্রপতি সম্পূর্ণভাবে জবাবদিহির বাইরে। সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে অভিশংসনের বিধান রয়েছে। শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের কারণেও তাকে অপসারণের সাংবিধানিক ব্যবস্থা রয়েছে।

রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করতে সংসদ সদস্যদের স্বাক্ষরযুক্ত অভিযোগ স্পিকারের কাছে দিতে হয়। এরপর রাষ্ট্রপতিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়।

অভিশংসনের প্রস্তাব সংসদের মোট সদস্যের কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে পাস হলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয়।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। তবে উত্তরাধিকারী দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত বর্তমান রাষ্ট্রপতি দায়িত্বে বহাল থাকতে পারেন।

একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

অর্থাৎ রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতনের পাশাপাশি সরকারি বাসভবন, পরিবহন, চিকিৎসা, সরকারি ও বিদেশ সফর, আপ্যায়ন এবং স্বেচ্ছাধীন তহবিলসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুবিধা রয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে নিয়োগ, দণ্ড মওকুফ এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাও রাষ্ট্রপতির হাতে রয়েছে।

পাঠকের মতামত: