ঢাকা, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

শেয়ারবাজারে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ে বড় সিদ্ধান্ত বিএসইসির

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০১ ১৮:১১:৩০
শেয়ারবাজারে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ে বড় সিদ্ধান্ত বিএসইসির

দেশের শেয়ারবাজারে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ বাড়াতে খসড়া বিধিমালা অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই সঙ্গে জেড-ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার হস্তান্তর, বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের ডিভিডেন্ড প্রেরণ এবং ফিন্যান্সিয়াল ডেরিভেটিভস চালুর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশনের ১০২তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ডাইরেক্ট লিস্টিং অব সিকিউরিটিজ বাই স্টক এক্সচেঞ্জ) রুলস, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে। জনমত যাচাইয়ের জন্য খসড়াটি পত্রিকায় এবং কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

প্রস্তাবিত বিধিমালা অনুযায়ী, বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানাধীন শেয়ার অফলোডের মাধ্যমে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও ছাড়াই কোনো কোম্পানি স্টক এক্সচেঞ্জে সরাসরি তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।

এ সুবিধার আওতায় সরকারি সম্পূর্ণ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানাধীন কোম্পানি, পরিশোধিত মূলধনের কমপক্ষে ১০ শতাংশ সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মালিকানাধীন কোম্পানি এবং বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের সম্পূর্ণ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানাধীন কোম্পানি থাকতে পারবে।

এ ছাড়া কমপক্ষে ৩০০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনসম্পন্ন বিটিআরসি-অনুমোদিত টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি-সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান অথবা আইসিটি অবকাঠামো কিংবা পণ্য উৎপাদনকারী কোম্পানিও ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ পাবে।

কমপক্ষে পাঁচ বছর কার্যক্রম পরিচালনা করা তফসিলি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বীমা কোম্পানিও এ সুবিধার আওতায় আসবে। একই সঙ্গে কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকা বার্ষিক টার্নওভার অথবা মোট সম্পদসম্পন্ন কোম্পানি নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ডাইরেক্ট লিস্টিং করতে পারবে।

এ ছাড়া কমিশনে নিবন্ধিত স্টক এক্সচেঞ্জ, ডিপোজিটরি ও সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টির জন্যও প্রযোজ্য শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এ সুযোগ রাখা হয়েছে।

জেড-ক্যাটাগরির শেয়ার হস্তান্তরে নতুন সিদ্ধান্ত

২০২৪ সালের ২০ মে জারি করা কমিশনের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনার কিছু বিধান সংশোধনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, জেড-ক্যাটাগরির কোনো কোম্পানির স্পনসর বা পরিচালকের শেয়ার কিংবা ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ লেনদেন বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে কমিশনের পূর্বানুমোদন প্রয়োজন হবে না। এর মধ্যে ঋণখেলাপির কারণে শেয়ার বাজেয়াপ্ত এবং শেয়ারহোল্ডারের মৃত্যুর পর শেয়ার ট্রান্সমিশনের বিষয়ও রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জগুলো তাদের প্রযোজ্য লিস্টিং রেগুলেশনস অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের ডিভিডেন্ডে সময়সীমা

তালিকাভুক্ত কোম্পানির বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের ডিভিডেন্ড প্রেরণ নিয়েও সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ঘোষিত বা অনুমোদিত লভ্যাংশ পাঠানোর ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে ডাবল ট্যাক্সেশন অ্যাভয়ডেন্স (ডিটিএ) সনদ পাওয়ার তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে এবং সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের মধ্যেই ডিভিডেন্ড পাঠাতে হবে।

স্থানীয় শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে ডিভিডেন্ড বিতরণ শেষ হওয়ার পর প্রিলিমিনারি ডিভিডেন্ড কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট দাখিল করতে হবে। আর বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের ডিভিডেন্ড পাঠানোর ৩০ দিনের মধ্যে ডিভিডেন্ড কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট কমিশন ও সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দিতে হবে।

২০২৮ সালে ডেরিভেটিভস লেনদেন শুরুর লক্ষ্য

ফিন্যান্সিয়াল ডেরিভেটিভস পণ্য চালুর লক্ষ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) দাখিল করা কর্মপরিকল্পনাও অনুমোদন করেছে বিএসইসি।

কর্মপরিকল্পনায় নিয়ন্ত্রক উদ্যোগ, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো উন্নয়ন, ক্লিয়ারিং-সেটেলমেন্ট এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নের বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ডিএসইর কর্মপরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে বিএসইসি।

প্রাথমিকভাবে ইনডেক্স ফিউচার দিয়ে ফিন্যান্সিয়াল ডেরিভেটিভসের লেনদেন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ফিন্যান্সিয়াল ডেরিভেটিভসের আনুষ্ঠানিক লেনদেন শুরুর আশা করা হচ্ছে।

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ