ঢাকা, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

গোপনে বিয়ের সুযোগ শেষ? হাইকোর্টের রুল

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৪ ১৬:৫৫:৩৬
গোপনে বিয়ের সুযোগ শেষ? হাইকোর্টের রুল

বিয়ের আগে বর-কনের বৈবাহিক ইতিহাস ও পারিবারিক দায়দায়িত্ব সম্পর্কে তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ আরও স্পষ্ট করতে হবে কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছে হাইকোর্ট। বিশেষ করে আগের বিয়ে, সাবেক স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান এবং সরকারি পরিচয়পত্রের তথ্য কাবিননামায় অন্তর্ভুক্ত ও যাচাই বাধ্যতামূলক করার দাবি নিয়ে করা রিটের পর আদালত এ বিষয়ে রুল জারি করেছেন।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেন। জনস্বার্থে রিটটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান। তাঁর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শেখ ওমর ও তানজিলা রহমান জুঁই।

কেন কাবিননামার তথ্য নিয়ে প্রশ্ন

রিটে প্রচলিত বাংলাদেশ ফরম নম্বর ১৬০১ বা ‘ফরম ঘ’-এর বর্তমান কাঠামো নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে। আবেদনে বলা হয়েছে, এই ফরমে বর ও কনের আগের ও বর্তমান বৈবাহিক সম্পর্কের পাশাপাশি সাবেক স্বামী বা স্ত্রী, বিয়ে ও তালাকের নিবন্ধন, সন্তান এবং চলমান ভরণপোষণ বা অভিভাবকত্বের মতো আইনগত দায়ের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ ও যাচাই করার কার্যকর ব্যবস্থা নেই।

রিটকারীর বক্তব্য হলো, বিয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ এসব তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করার ব্যবস্থা না থাকায় একজন ব্যক্তি অপর পক্ষের পারিবারিক ও বৈবাহিক অবস্থার বিষয়ে সম্পূর্ণ তথ্য না জেনেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

বরের ক্ষেত্রে যে ঘাটতির কথা বলা হয়েছে

আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বরের বর্তমান স্ত্রী এবং সালিশি পরিষদের অনুমতি-সংক্রান্ত কিছু তথ্য কাবিননামায় চাওয়া হয়। কিন্তু তাঁর আগের সব বিয়ে, তালাক, সাবেক স্ত্রী এবং সন্তানদের বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই।

অন্যদিকে কনের আগের বৈবাহিক ইতিহাস যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমতাভিত্তিক ব্যবস্থা নেই বলে রিটে দাবি করা হয়েছে।

এর ফলে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে

রিটে বলা হয়েছে, এসব তথ্য আড়াল করে বিয়ে করার সুযোগ থাকলে পরবর্তী সময়ে প্রতারণা, পারিবারিক বিরোধ এবং আইনগত জটিলতার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এর প্রভাব শুধু নতুন বিয়েতে যুক্ত দুই ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আগের স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের অধিকারও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রয়োজনীয় তথ্য জানার অধিকারও বাধাগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

কাবিননামায় কী যুক্ত করার দাবি

এই সমস্যা দূর করতে রিটে কাবিননামার তথ্যভাণ্ডার আরও বিস্তৃত করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় বর ও কনের আগের এবং বর্তমান সব বিয়ের তথ্য, সন্তানদের বিবরণ, চলমান ভরণপোষণ ও অভিভাবকত্বের দায়সহ অন্যান্য আইনগত দায়িত্বের তথ্য রাখার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা পাসপোর্ট নম্বর কাবিননামায় যুক্ত করার এবং এসব তথ্য যাচাইয়ের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আদালতের প্রশ্ন

এই রিটে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব এবং নিবন্ধন অধিদফতরের মহাপরিদর্শককে বিবাদী করা হয়েছে।

শুনানি শেষে হাইকোর্ট মূলত দুটি বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। কাবিননামায় প্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত ও হালনাগাদ করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না—প্রথমত, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া নাগরিকদের পারিবারিক জীবন ও অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কাবিননামার সংশ্লিষ্ট ফরম সংশোধনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, সেই প্রশ্নও রুলে রাখা হয়েছে।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ