ঢাকা, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

শেয়ারবাজারে আস্থার সংকট, নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৪ ১৭:২০:৪০
শেয়ারবাজারে আস্থার সংকট, নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

শেয়ারবাজারে টানা পতনের প্রভাব এবার বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ও লেনদেনেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সপ্তাহের দ্বিতীয় কর্মদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৩৯ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট। একই সঙ্গে আগের কর্মদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে প্রায় ৮৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। বাজারে দর হারানো প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি আস্থার সংকটও তীব্র হচ্ছে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

অধিকাংশ শেয়ারের দরই নিম্নমুখী

সোমবার ডিএসইতে মোট ৩৯০টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে ছিল। দিন শেষে দেখা যায়, এর মধ্যে ২৯৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। বিপরীতে দর বেড়েছে ৫৬টির এবং ৩৫টি প্রতিষ্ঠানের দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

সূচকের গতিবিধিতেও বাজারের দুর্বলতা ফুটে উঠেছে। ডিএসইএক্স ৩৯ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট হারিয়ে ৫ হাজার ৩৭৯ দশমিক ০০ পয়েন্টে নেমেছে। ডিএসই-৩০ সূচকও ৯ দশমিক ১৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬২ দশমিক ৮১ পয়েন্টে।

তবে এদিন ব্যতিক্রম ছিল ডিএসইএস। সূচকটি ৮ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৭৬ দশমিক ৮৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন কমল ৮৪ কোটি টাকা

সূচকের পাশাপাশি বাজারে অর্থের প্রবাহও কমেছে। সোমবার ডিএসইতে প্রায় ৪৮৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। আগের কর্মদিবসে এ পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৭১ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

হিসাব অনুযায়ী, এক দিনের ব্যবধানে ডিএসইর লেনদেন কমেছে প্রায় ৮৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার বিষয়টি এই পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ

দরপতন অব্যাহত থাকলেও তা মোকাবিলায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে কার্যকর নজরদারি দেখা যাচ্ছে না—এমন অভিযোগ রয়েছে বাজারসংশ্লিষ্টদের। তাদের মতে, পতনের গতি ঠেকাতে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে নতুন কমিশনের প্রতিও বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশিত আস্থা তৈরি হচ্ছে না।

তাদের বক্তব্য, বাজারকে স্থিতিশীল রাখা এবং ধারাবাহিক পতন রোধের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের দায়িত্বও নিয়ন্ত্রক সংস্থার। কিন্তু বর্তমান কমিশন বাজারের তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার বদলে সংস্কার ও বিভিন্ন পদক্ষেপের দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। এ অবস্থান বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করছেন তারা।

আগে কারণ, পরে ব্যবস্থা

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, পতনের ধারাবাহিকতা বন্ধ করতে হলে প্রথম কাজ হওয়া উচিত এর প্রকৃত কারণ বের করা। কারণ চিহ্নিত না করে কার্যকর সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তাই কোন কারণে বাজারে একের পর এক দরপতন হচ্ছে, সেটি নির্ধারণের পর সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

তাদের প্রত্যাশা, সঠিক কারণ শনাক্ত করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া গেলে বাজারে আবার স্বাভাবিক পরিবেশ তৈরি হতে পারে এবং স্থিতিশীলতা ফেরার পথও তৈরি হবে।

সিএসইতে লেনদেন বেড়েছে, কমেছে সূচক

ঢাকার বাজারের বাইরে সোমবার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেনের পরিমাণ অবশ্য বেড়েছে। এদিন সেখানে শেয়ার ও ইউনিট কেনাবেচা হয়েছে ২১ কোটি ৩৪ লাখ টাকার। আগের কর্মদিবসে এই পরিমাণ ছিল ১৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

সিএসইতে মোট ১৮৪টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৩৯টির শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে। বিপরীতে ১৩৬টির দর কমেছে এবং ৯টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

লেনদেন বাড়লেও সূচকের চিত্র ছিল উল্টো। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৬১ দশমিক ৯৭ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৭১৫ দশমিক ৮২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর আগের দিনও সূচকটি ১৫০ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট কমেছিল।

আস্থা ফেরানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ

বাজারসংশ্লিষ্টদের পর্যবেক্ষণ হলো, ধারাবাহিক দরপতন যত দীর্ঘ হয়, বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট তত গভীর হওয়ার সুযোগ থাকে। সেই সংকটের প্রভাব আবার অংশগ্রহণ ও লেনদেনে পড়ে, যা বাজারের সূচকেও প্রতিফলিত হয়।

তাদের মতে, শুধু সংস্কারমূলক উদ্যোগ নয়, একই সঙ্গে চলমান পতনের কারণ শনাক্ত করে তা মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। বাজারকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরাতে এমন পদক্ষেপই এখন বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ