সালমান এফ রহমান মুক্ত হচ্ছে শেয়ারবাজার!
১৯৮৬ সালে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের হাত ধরে দেশের পুঁজিবাজারে যে অধ্যায় শুরু হয়েছিল, প্রায় চার দশক পর সেটিতে আসছে বড় পরিবর্তন। বেক্সিমকো গ্রুপের কর্ণধার সালমান এফ রহমান এবার গ্রুপটির তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তার এই সিদ্ধান্তে দীর্ঘদিনের প্রভাব থেকে শেয়ারবাজারের বেরিয়ে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে নানা সংকটে থাকা বেক্সিমকোর তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ কমার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
পর্ষদ থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে মূল বিবেচনা হিসেবে এসেছে বর্তমান বাস্তবতা। সালমান এফ রহমান মনে করছেন, পরিচালনা পর্ষদে না থাকলে কোম্পানিগুলোর ওপর থাকা চাপ কিছুটা কমতে পারে। এ কারণেই তিনি নিজে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এরই মধ্যে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) জানিয়েছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। গ্রুপটির সবচেয়ে লাভজনক এই কোম্পানির পক্ষ থেকে দেওয়া চিঠিতে সালমান এফ রহমানকে বাদ দিয়ে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে। বাকি দুটি কোম্পানির পক্ষ থেকেও বিএসইসিকে চিঠি দেওয়ার কথা রয়েছে।
ফার্মার নতুন পর্ষদে যে কাঠামোর প্রস্তাব
সালমান এফ রহমানকে বাদ দিয়ে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের পরিচালনা পর্ষদ সাজানোর যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেখানে উদ্যোক্তাদের মধ্য থেকে তিনজনকে পরিচালক করার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি চারজন স্বতন্ত্র পরিচালক রাখার কথা বলা হয়েছে।
নতুন কাঠামোয় আইএফআইসি ব্যাংকের পক্ষ থেকে মনোনীত একজন পরিচালক থাকার সুযোগ রয়েছে। পদাধিকারবলে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকও পর্ষদে থাকতে পারেন। এ বিষয়ে বিএসইসির পক্ষ থেকে কোম্পানিটিকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বদলে যায় পরিস্থিতি
সালমান এফ রহমান একসময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। সরকারের নীতি নির্ধারণ এবং ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে তার প্রভাব ছিল অপরিসীম।
কিন্তু ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সেই পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসে। এরপর বেক্সিমকো গ্রুপের জন্য সালমান এফ রহমান দায় হয়ে ওঠেন এবং গ্রুপের কোম্পানিগুলোও নানা সমস্যার মধ্যে পড়ে। একই সময় থেকে বিভিন্ন অভিযোগে তিনি কারাগারে আটক আছেন।
এই বাস্তবতায় গ্রুপের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদে তার অবস্থান নিয়েও নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেখান থেকেই পর্ষদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে।
চার দশকে বেক্সিমকোর বিস্তার
পুঁজিবাজারে বেক্সিমকো গ্রুপের প্রবেশ ঘটে ১৯৮৬ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের তালিকাভুক্তির মাধ্যমে। পরে বেক্সিমকো লিমিটেডের পাশাপাশি পদ্মা টেক্সটাইল, বেক্সিমকো টেক্সটাইল, বেক্সিমকো ডেনিমস, বেক্সিমকো অনলাইন, বেক্সিমকো ফিশারিজ এবং শাইনপুকুর সিরামিকসও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়।
তবে গ্রুপটির তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর কাঠামো পরবর্তী সময়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। বাজারে তালিকাভুক্তির প্রায় এক দশকের মধ্যে পদ্মা টেক্সটাইল, বেক্সিমকো টেক্সটাইল, বেক্সিমকো ডেনিমস, বেক্সিমকো অনলাইন ও বেক্সিমকো ফিশারিজকে বেক্সিমকো লিমিটেডের সঙ্গে একীভূত করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সবার ধারণা, এই একীভূতকরণ ছিল বেক্সিমকো গ্রুপের কর্ণধার সালমান এফ রহমানের মস্তিষ্কপ্রসূত। অভিযোগ রয়েছে, এর ফলে সালমান এফ রহমানসহ গ্রুপের উদ্যোক্তারা লাভবান হলেও বিনিয়োগকারীদের বড় অঙ্কের লোকসানের মুখে পড়তে হয়। একপর্যায়ে এসব পণ্য বাজারে গ্রহণযোগ্যতা হারায় এবং পুঁজিবাজারের ওপরও অনেক বিনিয়োগকারীর আস্থা কমে যায়।
পুঁজিবাজারে বিভিন্ন পণ্যের সঙ্গে বেক্সিমকোর সম্পৃক্ততা
দেশের পুঁজিবাজারে মার্জার, অ্যাকুইজিশন, টেকওভার, ডিবেঞ্চার, প্রেফারেন্স শেয়ার এবং সুকুকের মতো বিভিন্ন পণ্যের প্রচলনের সঙ্গে বেক্সিমকো গ্রুপের নাম যুক্ত রয়েছে। এসব পণ্য চালুর পেছনে প্রধান ব্যক্তি ছিলেন সালমান এফ রহমান।
তবে তার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগও রয়েছে। জিএমজি এয়ারলাইনস কিনে প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে বিপুল শেয়ার বিক্রি করে সেটিকে তালিকাভুক্ত করার চেষ্টা এবং অ্যাপোলো ইস্পাতসহ কয়েকটি অচল কোম্পানিকে আইপিওতে নিয়ে আসার বিষয়গুলোও সেই তালিকায় রয়েছে।
ডিবেঞ্চার ইস্যু করার পর বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত না দেওয়া এবং নানা অনিয়মের মাধ্যমে সুকুক ইস্যু করে হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের ঘটনাও বেক্সিমকো গ্রুপ ও পুঁজিবাজারের জন্য কালো দাগ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
এমন দীর্ঘ প্রেক্ষাপটের পর তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদ থেকে সালমান এফ রহমানের সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত পুঁজিবাজারে একটি নতুন পরিস্থিতি তৈরি করেছে। অন্তত সাময়িকভাবে হলেও এর ফলে বেক্সিমকো গ্রুপের কোম্পানিগুলো তার প্রভাবমুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে এবং বিদ্যমান সংকট কাটিয়ে ওঠার একটি নতুন পথ তৈরি হতে পারে।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- শেয়ার বাজারের পতন থামাতে অবকাঠামো সংস্কারের তাগিদ, সিসিপি নিয়ে প্রশ্ন
- ২১ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি, সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় যে ব্যাংক
- দরপতন থামছে না, শীর্ষ ব্রোকারদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে ডিএসই
- ব্রাজিলের পরবর্তী ম্যাচ কবে, জেনে নিন পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি ও প্রতিপক্ষ
- বাংলাদেশ বনাম উত্তর কোরিয়া: গোল বন্যায় শেষ হলো ম্যাচ
- বিক্রির চাপে ডিএসই, কমেছে প্রধান তিন সূচক
- আবারও বাড়লো তেলের দাম, জানুন নতুন মুল্য তালিকা
- পে-স্কেলের গেজেট কবে প্রকাশ, জানা গেল দিন তারিখ
- এআই ঘিরে নতুন শঙ্কা, বিশ্ববাজারে প্রযুক্তি ও চিপ শেয়ারে বড় ধাক্কা
- দুর্গাপূজার সরকারি ছুটি ২০২৬: কবে থেকে, কত দিন জানুন এক নজরে
- নিয়মিত ভেজানো ছোলা খাচ্ছেন? জানুন উপকারিতা, ক্ষতি ও কারা খাবেন
- সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করল ইসি
- মিরাজের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স, যতো উইকেট ও যতো রান করলেন
- তিন সরকারি ট্রেজারি বন্ডের লেনদেন ও কুপন পেমেন্টের রেকর্ড ডেট ঘোষণা
- আজকের অবহাওয়ার খবর: বৃষ্টি নিয়ে নতুন পূর্বাভাস