ঢাকা, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

পে-স্কেলের গেজেট কবে প্রকাশ, জানা গেল দিন তারিখ

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৪ ১৭:৩৭:০১
পে-স্কেলের গেজেট কবে প্রকাশ, জানা গেল দিন তারিখ

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ঘোষিত নতুন বেতন কাঠামো এখনো প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ না হওয়ায় অপেক্ষা বাড়ছে। তবে গেজেট প্রকাশের সম্ভাব্য সময় হিসেবে ১৭, ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর—এই তিনটি তারিখ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো তারিখই চূড়ান্ত করা হচ্ছে না।

নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। ঘোষিত কাঠামোতে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের বেতন ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আর প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির সুযোগ রাখা হয়েছে।

সবচেয়ে কম গ্রেডের কর্মীদের মূল বেতন দাঁড়াবে ২০ হাজার টাকা। অন্যদিকে প্রথম গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ মূল বেতন এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা। নতুন কাঠামোটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মোট তিনটি ধাপ থাকবে।

একদিকে বেতন বাড়ছে, অন্যদিকে গেজেটের অপেক্ষা

নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাওয়ার কার্যকর তারিখ ধরা হয়েছে চলতি বছরের ১ জুলাই। প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এই নতুন কাঠামোর আওতায় আনতে সরকারের বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় এক লাখ পাঁচ হাজার কোটি টাকা।

কিন্তু কাঠামো ঘোষণা হলেও এখনো প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। গত ৩১ আগস্ট সরকার নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করেছিল। এর পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছিলেন, এক সপ্তাহের মধ্যেই সেটি প্রজ্ঞাপন হিসেবে প্রকাশ করা হবে।

সেই সময়সীমা পার হয়ে প্রায় দুই সপ্তাহ কেটে গেলেও গেজেট না আসায় পে-স্কেলের আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়ন নিয়ে অপেক্ষা তৈরি হয়েছে।

আসল বাধা এখন ভেটিং প্রক্রিয়া

অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোর সারাংশ আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে ভেটিং করানোর প্রস্তুতি চলছে। আগামী বুধবারের মধ্যে এই কাজ শেষ করা গেলে চলতি মাসেই গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে প্রশাসনিক কাঠামোর বিভিন্ন কার্যক্রমের কারণে নির্ধারিত প্রক্রিয়া আরও সময় নিতে পারে। এ কারণেই একাধিক দিনকে সম্ভাব্য সময় হিসেবে বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ভেটিং শেষ হওয়ার পর ১৭, ২১ অথবা ২২ সেপ্টেম্বর—এই তিন তারিখের মধ্য থেকে গেজেট প্রকাশের দিন নির্ধারণ করা হতে পারে। অর্থাৎ ভেটিং সম্পন্ন হওয়ার পর পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘পে-স্কেলের গেজেট জারির দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে একাধিক সম্ভাব্য সময় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সম্পন্ন হওয়ার পর গেজেট জারির তারিখ নির্ধারণ করা হবে।’

গেজেট নিয়ে এত অপেক্ষা কি অস্বাভাবিক?

গেজেট প্রকাশে দেরি হওয়াকে অবশ্য অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন না সাবেক আমলারা। তাদের বক্তব্য, মন্ত্রিসভা কোনো সিদ্ধান্ত অনুমোদন করার পর সেটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেটে প্রকাশ করার আগে বেশ কিছু প্রশাসনিক ধাপ অতিক্রম করতে হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, এই প্রক্রিয়া শেষ করতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সময়ের প্রয়োজন আরও বাড়তে পারে এবং কয়েক মাসও লেগে যেতে পারে।

তবে এবারের পরিস্থিতিকে কিছুটা আলাদা করে দেখছেন তিনি। কারণ দীর্ঘ সময় পর পে-স্কেলের ঘোষণা আসায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সেই কারণে গেজেট প্রকাশে সময় লাগায় হতাশাও দেখা দিয়েছে বলে জানান তিনি।

কমিশনের সুপারিশে ছিল আরও বড় বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব

বর্তমান পে-স্কেল হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। এর পেছনে রয়েছে জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫-এর সুপারিশ।

২০২৫ সালে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার এই কমিশন গঠন করেছিল। পরে কমিশন ২২ জানুয়ারি সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।

সেখানে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছিল। কমিশনের প্রস্তাবে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপের বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়।

শুধু মূল বেতন নয়, অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাতেও পরিবর্তনের প্রস্তাব ছিল। বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছিল। পাশাপাশি ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত যাতায়াত ভাতায় ব্যাপক সংস্কারের কথাও প্রতিবেদনে উঠে আসে।

২১ এপ্রিল গঠিত কমিটির পর অনুমোদন

এরপর বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর চলতি বছরের ২১ এপ্রিল নতুন একটি কমিটি গঠন করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে গঠিত ওই কমিটিতে সদস্য ছিলেন মোট ১০ জন।

পরবর্তী সময়ে সেই কমিটির সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন দেয় তারেক রহমানের সরকার।

এখন সেই অনুমোদিত কাঠামোর আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশই বাকি। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষ হলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আর সেই প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে ১৭, ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কোন দিন নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ হবে।

FAQ

প্রশ্ন: নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ কোনগুলো?

উত্তর: আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষ হলে ১৭, ২১ অথবা ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশ হতে পারে। তবে কোনো তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

প্রশ্ন: নতুন পে-স্কেল কবে থেকে কার্যকর হবে?

উত্তর: নতুন বেতন কাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

প্রশ্ন: ২০তম গ্রেডে নতুন মূল বেতন কত?

উত্তর: নতুন কাঠামো অনুযায়ী ২০তম গ্রেডের মূল বেতন সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা।

প্রশ্ন: প্রথম গ্রেডে সর্বোচ্চ বেতন কত নির্ধারণ করা হয়েছে?

উত্তর: প্রথম গ্রেডের কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ মূল বেতন এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রশ্ন: নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় কত হবে?

উত্তর: প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য বছরে অতিরিক্ত প্রায় এক লাখ পাঁচ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ